Saturday, December 6, 2014

তৃতীয় দিনেও উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

(কৃষ্ণাঙ্গ এরিক গার্নারের মৃত্যুতে নেওয়া গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুনসহ মুখোশ পরে বিক্ষোভ। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে শুক্রবার তোলা হয়। ছবি: এএফপি) কৃষ্ণাঙ্গ এরিক গার্নারের মৃত্যুর ঘটনায় গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ চলাকালে আরেক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের গুলিতে আরেক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি নিহত হন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল শুক্রবার দেশটির বড় শহরগুলোতে বিক্ষোভ হয়েছে। এ নিয়ে তৃতীয় দিনে গড়াল প্রতিবাদ-বিক্ষোভ।  আজ শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, গতকাল রাতে বৃষ্টির মধ্যে নিউইয়র্কে শত শত লোক বিক্ষোভ করেন। এ ছাড়া মায়ামি, শিকাগো, বোস্টন, নিউ অরলিন্স ও ওয়াশিংটন ডিসিতে একই ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে।
সর্বশেষ ফিনিক্স শহরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন কৃষ্ণাঙ্গ রুমেইন ব্রিসবন (৩৪)। পুলিশের দাবি, শহরের একটি বিপণিবিতানের সামনে মাদক নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করতে যান একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি ব্রিসবেনকে তল্লাশি করতে গেলে তিনি নিজের পকেটে বাঁ হাত ঢোকান। তখন ব্রিসবেন অস্ত্র বের করবেন, এ সন্দেহে ওই পুলিশ তাঁর হাত চেপে ধরেন। তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা ব্রিসবেনের বুক লক্ষ্য করে দুটি গুলি করেন।
গত জুলাইয়ে নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার করার সময় ‘চোকহোল্ড’ প্রক্রিয়ায় শ্বাসরুদ্ধ করায় দম বন্ধ হয়ে মারা যান গার্নার। ঘটনা তদন্তে গঠিত গ্র্যান্ড জুরি গত বুধবার অভিযুক্ত শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ড্যানিয়েল প্যান্টালিওকে অভিযুক্ত না করার সিদ্ধান্ত দেন।
গত ৯ আগস্ট মিজৌরি অঙ্গরাজ্যের নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ মাইকেল ব্রাউনকে গুলি করে হত্যা করেন শ্বেতাঙ্গ এক পুলিশ কর্মকর্তা। কিন্তু ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নেন গ্র্যান্ড জুরি। এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

Thursday, December 4, 2014

স্কুলমাঠে ইলিয়াস মোল্লার বস্ত্রমেলা by কমল জোহা খান

(ছবি:-১ বিদ্যালয়ে ৭ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। মেলা চলার কারণে স্কুলের শেষ সময়ের ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন। ছবি: আশরাফুল আলম) (ছবি:-২ মিরপুর সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তাঁত ও বস্ত্রমেলা আয়োজনের ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়নি । ছবি: আশরাফুল আলম) (ছবি:-৩ বিদ্যালয়ে ৭ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। মেলা চলার কারণে স্কুলের শেষ সময়ের ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিভাবকেরা অভিযোগ করেছেন। ছবি: আশরাফুল আলম) প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে ৭ ডিসেম্বর থেকে। এর আগেই মিরপুর সেনপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে তাঁত ও বস্ত্রমেলা শুরু করেছেন ঢাকা-১৪ (পল্লবী) আসনের সাংসদ ইলিয়াস আলী মোল্লা। মহান বিজয় দিবসের নামে আয়োজিত এই মেলা আয়োজনের ব্যাপারে অনুমতি নেওয়া হয়নি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের। মেলা চলার জন্য স্কুলের শেষ সময়ের ক্লাস ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা। তাঁরা বলছেন, শুধু এবারই নয়, স্বাধীনতা দিবস, পয়লা বৈশাখ, ঈদ-পূজার নাম করে বছরের প্রায় ছয় মাস এই স্কুলের মাঠে মেলা চলে।
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ ইলিয়াস আলী মোল্লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেলা হবে এটা জানতাম, তবে পরীক্ষার সময় যে হবে এটি জানতাম না। পরীক্ষার সময় মেলা বন্ধ থাকবে, আমি নির্দেশ দিয়ে দিচ্ছি।’
আর মেলার তত্ত্বাবধায়ক জিন্নাত আলী মাতব্বর বলেন, ‘ইলিয়াস আলী মোল্লার মাধ্যমে মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি নির্দেশ দিলে মেলা বন্ধ করে দেওয়া হবে।’
সাংসদ ইলিয়াস মোল্লা গত ২০ নভেম্বর ওই মেলার উদ্বোধন করেন। এবার মেলা চলবে প্রায় দেড়  মাস। হিসাব করে দেখা গেছে, এই মেলা থেকে আয় হবে প্রায় ২৫ লাখ টাকা; যা ইলিয়াস মোল্লা গঠিত মেলা কর্তৃপক্ষ আদায় করবে। আর এই মেলার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন সাংসদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত জিন্নাত আলী মাতব্বর, মো. ওবায়েদসহ পল্লবী থানা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
সরেজমিন দেখা গেছে, মেলা উপলক্ষে ৪১টি স্টলে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। পাশাপাশি শিশুদের জন্য রাখা আছে নাগরদোলা, ট্রেন ও ঘূর্ণি যান। সকালে স্কুলে ক্লাস চলার সময় এগুলো চালু থাকে। স্টলগুলোতেও বেচা-কেনা শুরু হয়। তাই ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসের ফাঁকে সময় পেলেই মেলার মাঠে চলে যায়। সেখানে কেউ চড়ে নাগরদোলায়, কেউবা ঘুরে দেখে স্টল। বন্দুক হাতে নিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে বেলুন ফুটাতেও দেখা গেছে। এলাকাবাসীর কয়েকজনের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর মেলায় বখাটেদের উত্পাত বেড়ে যায়। ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটে।
মো. আলিম নামের এক অভিভাবক প্রথম আলোকে বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা ক্লাস করে না। মাত্র দুই-তিনজন ছাড়া সবাই চলে গেছে মেলার মাঠে। পরীক্ষার সময়, তাই স্কুলে না এসেও উপায় নেই।’ ছাত্রছাত্রীদের বাধা দেওয়া উচিত মনে করলেও মেলার সম্পর্কে মন্তব্য করতে নারাজ স্কুলশিক্ষকেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, ‘এলাকার প্রভাবশালীরা সাংসদের সঙ্গে এই মেলার আয়োজন করছেন। আমরা কথা বললে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয়।’
স্কুল-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাধা দেওয়া তো দূরে থাক, উল্টো স্কুল ভবন থেকে পাইপ ব্যবহার করে পানি মেলার মাঠে ব্যবহার করা হচ্ছে। এবারের রোজার ঈদের সময় পানি ছাড়াও স্কুল থেকে বিদ্যুত্ সংযোগ দেওয়া হয় মেলার স্টলগুলোতে। তবে এবার স্কুল থেকে নয়, তার দিয়ে বাইরে থেকে অবৈধ বিদ্যুত্ সংযোগ মেলায় দেওয়া হয়েছে।
দোকানিরা জানান, প্রায় ১০ বিঘা আয়তনের মেলার মাঠে বসানো হয়েছে ৩৫টি ছোট ও ছয়টি বড় স্টল। প্রতিটি ছোট স্টল বিক্রি করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকায়। আর বড়গুলোর মূল্য এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। নাগরদোলার মালিক আবদুল হান্নান জানান, এক মাসের জন্য মেলা কর্তৃপক্ষকে তাঁরা দিয়েছেন এক লাখ ২০ হাজার টাকা।
সেনপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে মেলা আয়োজনে অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরীন আক্তার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু এবার নয়, ২০১২ সালে আমরা মেলাটি বন্ধ করেছিলাম। গত বছর (২০১৩ সাল) আমাদের না জানিয়ে মেলা হয়। এবার বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঢাকার সঙ্গে সিলেট-চট্টগ্রামের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ

এদিকে নরসিংদীর রায়পুরার মেথিকান্দায় উদ্ধারকারী ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে সিলেট-চ্ট্টগ্রামের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।  আজ সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশনের আউটার পয়েন্টে ঢোকামাত্র উদ্ধারকারী ট্রেনের একটি বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। এতে কারণে নরসিংদীর আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেস, জিনারদীতে কিশোরগঞ্জগামী আন্তনগর এগারসিন্ধুর এক্সপ্রেস, ঘোড়াশালে চট্টগ্রামগামী আন্তনগর মহানগর এক্সপ্রেস, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহরে ঢাকাগামী আন্তনগর উপকূল এক্সপ্রেস এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকাগামী ডেমু ট্রেনসহ আরও বেশ কয়েকটি লোকাল ও মেইল ট্রেন আটকা পড়েছে। এ ঘটনায় কয়েক হাজার যাত্রী দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রেনটিকে উদ্ধার করতে ঢাকা থেকে আরেকটি উদ্ধারকারী ট্রেন দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। শিগগিরই ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হবে। এদিকে কুমিল্লার ময়নামতি সেকশনের জাঙ্গালিয়া এলাকায় জালালাবাদ এক্সপ্রেসের ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকা-সিলেটের  ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আজ সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পাশে বেশ কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়েছে। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ।

কবর থেকে মাহজাবিনের লাশ উত্তোলন

দীর্ঘ ২১ দিন পর যশোরের সাবেক এমপি খান টিপু সুলতানের পুত্রবধূ ডা. শামারুখ মাহজাবীন সুমির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পুনরায় ময়নাতদন্তের জন্য  আজ সকাল সোয়া ১১টায় যশোর শহরের কারবালা কবরস্থান থেকে তার লাশ তুলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।  লাশ উত্তোলনের সময় যশোর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুস সালাম, যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. হুসাইন সাফায়াত. ডা. জেসমিন সুমাইয়া, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক নোয়াব আলী, সিআইডি ঢাকার ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুন্সী রুহুল হক, যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইনামুল হক, ডা. শামারুখের বাবা প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, ১৩ই নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডির ৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর বাসা থেকে হলি ফ্যামিলি মেডিকেল কলেজের ইন্টার্ন ডা. শামারুখের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন নভেম্বর যশোরের কারবালা কবরস্থানে ডা.শামারুখের মৃতদেহ দাফন করা হয়।

চট্টগ্রামে ডাকাত আতঙ্ক রাত জেগে পাহারা by মহিউদ্দীন জুয়েল

রাত হলেই বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে ডাকাতের দল। কেবল তাই নয়, কখনও সড়ক কিংবা মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়েও তারা লুটে নিচ্ছে নগদ টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান মালামাল। সংঘবদ্ধ হয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ছে পুলিশ পরিচয়ে। বেশ কয়েক জায়গায় আবার রাজনৈতিক দলের প্রভাব খাটিয়ে ঘটানো হচ্ছে এমন ঘটনা। গুলিতে মারা গেছেন ৭ জন। চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ডাকাত আতঙ্ক বিরাজ করায় লোকজনের মনে ভয় ঢুকে পড়েছে।  গত ৩ মাসে ৫টি উপজেলায় ২০টির বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছেন। ডাকাত আতঙ্কে পুলিশ প্রশাসন কার্যত কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। বাধ্য হয়ে রাত জেগে তাই অনেকে পাহারা দেয়ার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ৩০শে নভেম্বর চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এই সময় ২০টির বেশি সিএনজি ও ছোট-বড় গাড়ি থেকে কেড়ে নেয়া হয়েছে নগদ টাকা,  মোবাইল সেটসহ ৫ লাখ টাকার মালামাল। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি মহল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা সাধারণ লোকজনের। তারা জানান, ওই রাতে কেরানীরহাট-বাঁশখালী সড়কের এঁওচিয়ার কাটাপাহাড় এলাকায় ২০-২৫ জনের মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাতদল হানা দিয়ে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর বৈদ্যুতিক খুঁটি ফেলে সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এতে সাতকানিয়া ও বাঁশখালী থেকে আসা প্রচুর গাড়ি আটকা পড়ে। পরে ধারালো ছুরি ও অস্ত্র দেখিয়ে কেড়ে নেয়া হয় মালামাল।
প্রতিবাদ করতে গেলে দুই যাত্রী মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী পৌর এলাকার সিএনজি ট্যাক্সিচালক আবদুর রহিম জানান, সবাই প্রথমে মনে করেছিল আশপাশের পাহাড় থেকে বন্য হাতির পাল নেমেছে। পরে সন্ত্রাসীদের দেখে সবাই আঁৎকে ওঠে। সাতকানিয়া থানার এসআই মোজাম্মেল হক বলেন, এই ব্যাপারে লিখিত কোন বক্তব্য পাইনি। ডাকাতির বিষয়ে তেমন কিছু জানি না। তারপরও আমরা খোঁজখবর করবো।
২০শে নভেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর  চৌধুরীহাট এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে এক বাড়িতে ঘটে আরেক ঘটনা। সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় সন্ত্রাসীরা ওই বাড়িতে ঢুকে নিয়ে যায় দুই লাখ টাকার মালামাল। ঘটনাটি ঘটে অক্সিজেন-হাটহাজারী সড়কের  চৌধুরীহাট এলাকায় রাস্তার পাশের প্রবাসী সেকান্দর আলমের মালিকানাধীন দোতলা ভবনে। ঘটনার শিকার সেকান্দরের ছেলে হাটহাজারী থানায় এই বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। এতে তিনি জানান, পুলিশ পরিচয়ে অজ্ঞাত ডাকাত দল প্রথমে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এরপর ইয়াবা তল্লাশির কথা বলে বিভিন্ন কক্ষে ঢুকে নিয়ে যায় ল্যাপটপ, মোবাইল সেট ও স্বর্ণালঙ্কার।
হাটহাজারী থানার ওসি মো. ইসমাইল বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। কারা ঘটিয়েছে তা জানার চেষ্টা করছি। ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় ডাকাতের গুলিতে একজন নিহত হন। তার নাম অনিল রুদ্র (৪৮)। তিনি উপজেলার বড় হাতিয়া গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার দিন ভোররাতের দিকে বড় হাতিয়া গ্রামে হানা দেয় ডাকাত সদস্যরা। এরপর এলাকার বিভিন্ন  দোকান ও বাড়িতে ডাকাতি শেষে পাহাড়ের দিকে চলে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে। এই সময় ডাকাতরা গুলি করলে অনিল ঘটনাস্থলেই মারা যান। পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় সঞ্জয় নামের অপর এক ব্যক্তি। ডাকাতদের ধরতে পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ হন পুলিশ কর্মকর্তা কেফায়েত।
গত নভেম্বরে পটিয়া থানার ১শ’ গজের অদূরে ওয়ালটনের শো-রুমে রহস্যজনক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এই সময় ডাকাতরা শো-রুম থেকে ৮টি ফ্রিজ, ৫টি টেলিভিশন, নগদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়। শো-রুমের মালিক মিজানুর রহমান এই ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার রাতে ১০-১২ জন সন্ত্রাসী দোকান ডাকাতি করে ট্রাকভর্তি মালামাল নিয়ে চলে যায়।
চট্টগ্রামের রাউজানে এই চিত্র আরও ভয়াবহ। স্থানীয় বিনাজুরী ইউনিয়নের জগন্দি চৌকিদার বাড়িতে ১০/১২টি ঘরে ডাকাতি হয়েছে সম্প্রতি।  এই সময় বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে ডাকাতের গুলিতে এক গৃহকর্তা নিহত হন। ছুরিকাঘাতে জখম হন আরও ২ জন। ২০/২৫ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল ১০/১২টি ঘরে ঢুকে কয়েক লাখ মালামাল নিয়ে সটকে পড়ে। এলাকাবাসী জানায়, এই সময় তাদের অনেকে হাফপ্যান্ট ও মুখোশ পরিহিত ছিল। ডাকাতির ঘটনায় ৬ ঘর থেকে মোট ১৪/১৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২০/২৫টি মোবাইল, নগদ টাকা ও কয়েক লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে। চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান, পটিয়া, সাতকানিয়াসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার লোকজন জানান, ডাকাতদের হাত থেকে বাঁচতে অনেক গ্রামে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন অনেকে। পুলিশ প্রশাসনকে এই ব্যাপারে একাধিকবার জানালেও তারা লিখিত কোন অভিযোগ না পাওয়ায় কোন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাউজানের বিনাজুরী ইউনিয়নের বাসিন্দা মনমোহন দাশ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ডাকাতের আতঙ্কে বাড়িতে থাকতে ভয় হচ্ছে আমাদের। কারণ তারা কেবল টাকাই লুট করছে না। পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রাণটাও কেড়ে নিচ্ছে। তাই সবাই মিলে একসঙ্গে রাত জেগে পাহারা দিয়ে সময় পার করছি।

রাজনৈতিক সহিংসতা বেড়েছে

রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের দুর্বৃত্তায়ন বন্ধের জন্য সরকারকে এদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। সব রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা ও সংঘাতপূর্ণ রাজনীতি বন্ধে ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে এবং সহিংসতার দায় একে অপরের ওপর চাপানোর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে। গতকাল মানবাধিকার সংগঠন অধিকার নভেম্বর মাসের প্রতিবেদনে এসব দাবি জানিয়েছে। অধিকারের তথ্য মতে, নভেম্বর মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ জন নিহত এবং ৮৫৪ জন আহত হয়েছেন। এই মাসে আওয়ামী লীগের ৪৭টি এবং বিএনপির ৫টি অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। অধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, নভেম্বর মাসে ৬ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের শিকার হয়েছেন। নিহত ৬ জনের মধ্যে ৫ জন তথাকথিত ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জন পুলিশের হাতে এবং ৩ জন র‌্যাবের হাতে নিহত হয়েছেন। অধিকার মনে করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- অব্যাহত থাকায় দেশের আইন ও বিচার ব্যবস্থা প্রতিনিয়তই হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে এবং সরকার মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক পরিম-ল এবং মানবাধিকার কর্মীদের কাছে দেয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করে সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের পায়ে গুলি করার একটি নতুন প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেজনক। ইতিমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। কিন্তু দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অভিযুক্তদের পক্ষে বক্তব্য দিয়ে দায়মুক্তির সংস্কৃতিকেই আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করছেন। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের হাতে নির্বিচারে গুলির ঘটনা ঘটেই চলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর অনেকেরই কোন খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ভিকটিমদের পরিবারগুলোর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই তাদের ধরে নিয়ে গেছে এবং এরপর থেকে তারা গুম হয়েছেন অথবা পরে কারও কারও লাশ পাওয়া গেছে। গুম মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার। গুম হওয়া ব্যক্তিরা প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হন এবং তাদের জীবন নিয়ে তারা ভীতসন্ত্রস্ত থাকেন। তাদের সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি তারা আইনি সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত থাকেন। অধিকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী গত মাসে দুই ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। এছাড়া ২০০৯ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১৪-এর নভেম্বর পর্যন্ত ১৬৪ জন গুম হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ জনের লাশ পাওয়া গেছে।
অধিকার-এর তথ্য অনুযায়ী নভেম্বর মাসে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ ৪ জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। তাদের মধ্যে ১ জন গুলিতে ও ৩ জন নির্যাতনে মারা গেছেন। বিএসএফ মোট ৫ জনকে আহত করেছে। এর মধ্যে ১ জন গুলিতে, ২ জন নির্যাতনে এবং ২ জন বিএসএফ-এর ছুড়ে মারা বোমার আঘাতে আহত হন। একই সময়ে বিএসএফ-এর হাতে অপহৃত হয়েছেন ১২ জন বাংলাদেশী।
অধিকার তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত মাসে কারাগারে অসুস্থতায় ৫ জন মারা গেছেন। গণপিটুনিতে সারা দেশে নিহত হয়েছেন আটজন।  এ ছাড়া সারা দেশে ৩৯ নারী যৌন হয়রানির শিকার, ৩৪ জন নারী যৌতুক সহিংসতার শিকার, চারজন এসিড নিক্ষেপের শিকার ও ৫৪ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। গত মাসে চারজন সাংবাদিক আহত, একজন হুমকির সম্মুখীন এবং ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
অধিকার উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, নাগরিকদের বিভিন্ন মন্তব্য বা মতপ্রকাশের প্রতি বিদ্বেষবশত তাদেরকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। এতে রাষ্ট্রকে একটা ঠুনকো বিষয়ে যেমন পরিণত করা হচ্ছে, একই সঙ্গে এই ধরনের অভিযোগ চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা হরণ করার প্রক্রিয়া হয়ে উঠেছে। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুসারে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারিত হয়েছে মৃত্যুদ-। এই পরিপ্রেক্ষিতে কোন নাগরিককে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে অভিযুক্ত করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এর ফলে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠছে তা বাংলাদেশকে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতার মধ্যে ঠেলে দেবে। অধিকারের প্রতিবেদনে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল বিরোধী রাজনৈতিক দলের ও মতের অনেক সভা-সমাবেশে বাধা দিচ্ছে এবং হামলা চালাচ্ছে। সভা-সমবেশে বাধা এবং হামলার করার অর্থই হচ্ছে গণতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা। অধিকারের হিসাব অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ ক্ষমতাসীন দল সমর্থক রাজনৈতিক ব্যক্তি ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে।

অপহরণ থেকে গুম পর্যন্ত ঘটনার বর্ণনা দিলেন র‌্যাব সদস্য নুরুজ্জামান

(গতকাল নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভি নিহত জাহাঙ্গীর ও স্বপনের পরিবারের খোঁজ খবর নেন। এ সময় তিনি জাহাঙ্গীরের মেয়েকে কোলে নিয়ে আদর করেন) নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সেভেন মার্ডার মামলায় রিমান্ডে থাকা র‌্যাব সদস্য নুরুজ্জামান (৩৫) দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি র‌্যাব-১১তে কর্মরত ছিলেন। পরে তার নিজ বাহিনী সেনাবাহিনীতে তাকে ফিরিয়ে নেয়ার পর স্বেচ্ছায় তিনি অবসরে  গিয়ে পলাতক থাকেন। বুধবার দুপুর সোয়া ১টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টা নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইশতিয়াক আহমেদের আদালতে তিনি জবানবন্দি দেন। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাগুরার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নুরুজ্জামান মাগুরা সদর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে। মঙ্গলবার পুলিশ তাকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয়। জবানবন্দিতে তিনি সাতজনকে অপহরণ থেকে শুরু করে লাশ গুম পর্যন্ত পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন আদালতে। এবং ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্তার পাশাপাশি জড়িত সকলের নামও বলেছেন। জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি ও চন্দন সরকার মেয়ের জামাতা বিজয় কুমার পালের দায়ের করা দুটি মামলায়ই তিনি জবানবন্দি দিয়েছেন নুরুজ্জামান।
 সেভেন মার্ডার মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ও জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন মানবজমিনকে জানান, স্বীকারোক্তিতে নুরুজ্জামান নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। এবং সাতজনকে অপহরণ করে গাড়িতে তোলা, হত্যা ও পরে লাশ গুম করার সময় লাশের শরীরে ইট বাঁধার সময় তিনি নৌকায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সাতজনকে অপহরণ থেকে শুরু করে হত্যা ও লাশ গুম পর্যন্ত কারা কীভাবে জড়িত তারও বর্ণনা দিয়েছেন নুরুজ্জামান। অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন আরো জানান, ইতিপূর্বে এ ঘটনায় দায় স্বীকার করে যারা জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের জবানবন্দিতে নুরুজ্জামানের নাম আসে।
৭ খুনের মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ ম-ল জানান, মঙ্গলবার দিনগত রাত ৭ টার দিকে নুরুজ্জামানকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে মাগুরা সদর থানা পুলিশ। পরে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে মঙ্গলবারই তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে নুরুজ্জামান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়।
মামলার তদন্ত সংস্থার সূত্রমতে, এ পর্যন্ত ১১ জন র‌্যাব সদস্যসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।  গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নুরুজ্জামানসহ ১২জন র‌্যাব সদস্য এবং নুর হোসেনের দুই সহযোগী মোট ১৪ জন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া অপহরণ ও খুনের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ৯জন র‌্যাব সদস্যসহ মোট ১৪ জন।
উল্লেখ্য, গত ২৭শে এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়াম এলাকা থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। পরে ৩০শে এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ৬ জনের ও ১লা মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ভোলাগঞ্জ কোয়ারি নিয়ে যে কারণে দ্বন্দ্ব আওয়ামী লীগে, ৬ বছরে শতকোটি টাকা লোপাট by ওয়েছ খছরু

৬ বছরে অন্তত শতকোটি টাকা লুটপাট হয়েছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের পাথররাজ্য ভোলাগঞ্জ থেকে। কোয়ারির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই টাকা লুটে নিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতারাই। এ নিয়ে ইতিমধ্যে ৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। অসংখ্যবার হয়েছে গুলি বিনিময়। সর্বশেষ প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ নেতাদেরই হাতে খুন হন কোয়ারির একাংশের নিয়ন্ত্রক আবদুল আলী। সে খুনের ঘটনায় রক্তক্ষরণ চলছে স্থানীয় আওয়ামী লীগে। তার পরও শেষ হচ্ছে না লুটপাটের মহোৎসব। কোয়ারিতে প্রতি মাসে চলছে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি। এ অভিযোগ করেছে কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগের বড় অংশের। চাঁদাবাজির বন্ধের দাবিতে আওয়ামী লীগের নেতারা দিয়েছেন হরতালের হুমকি। দেশের বৃহত্তম পাথর কোয়ারি কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ। ‘সরকার যার কোয়ারি তার’- এই নিয়মেই গত কয়েক দশক ধরে চলছে ভোলাগঞ্জ কোয়ারির শাসন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর কোয়ারির আধিপত্য চলে যায় আওয়ামী লীগের হাতে। সরকারের শুরুতেই কোয়ারির অধিপতি হয়ে উঠেছিলেন কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত যুবলীগ নেতা শামীম আহমদ ও আবদুুল আলী। এর মধ্যে আবদুুল আলী খনিজ মন্ত্রণালয়ের লিজ নিয়ে কোয়ারিতে রয়েলটি আদায়ে নামে। আর যুবলীগ নেতা শামীম তার বাহিনী নিয়েই নামে কোম্পানীগঞ্জের নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে সরকারের শুরু থেকেই কোয়ারির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এ নিয়ে কোয়ারির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শামীম ও  আবদুল আলী বাহিনীর মধ্যে অসংখ্যবার গুলিবিনিময় ঘটে। এতে বিভিন্ন সময় আবদুল আলীসহ কমপক্ষে ৫জন নিহত হন। সর্বশেষ আবদুুল আলী ২৪শে অক্টোবর গুলিতে নিহত হলে তোলপাড় শুরু হয় কোম্পানীগঞ্জে। খুনের ঘটনার পর আবদুল আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম কোম্পানীগঞ্জের আলোচিত যুবলীগ নেতা শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন। ঘটনার পর পুলিশ শামীমের দীর্ঘ দিনের সহযোগী আলতু চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে। ইতিমধ্যে আলতু চেয়ারম্যান আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিতে খুনের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে। ওদিকে, আবদুল আলী খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে চলছে হামলা ও লুটপাট। আসামিদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, আবদুল আলীর খুনের ঘটনার পর মামলার বাদী পক্ষ বাড়িঘরে হামলা চালিয়ে লুটপাট চালিয়েছে। এ ঘটনায় গত সপ্তাহে কোম্পানীগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা করা হয়েছে। আসামিদের স্বজনরা জানিয়েছেন, আবদুুল আলীর মামলার বাদী পক্ষের লোকজন এখন তাদের এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। ওদিকে, আবদুুল আলী খুনের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছেন সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। গত সপ্তাহে সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সংবাদপত্রে প্রেরিত এক বিবৃতিতে আবদুল আলী খুনের ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতাদের জড়িত করায় নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা আবদুল আলীর খুনিদেরও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ওদিকে, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা শামীমকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগ নেতারা। মঙ্গলবার সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশের ডিআইজি ও পুলিশ সুপার বরাবরে কাছে দেয়া অভিযোগে তারা জানিয়েছেন, পাথর শামীম, মাহফুজ ও আজমলের নেতৃত্বে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারীতে চাঁদাবাজি ও অবৈধ বোমামেশিন দ্বারা পাথর উত্তোলন চলছে। অবিলম্বে পাথর উত্তোলন বন্ধ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারির ঘোষণা দিয়েছেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী আমজাদ ও সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া স্বাক্ষরিত এক স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ কোয়ারির খাস কালেশনের ইজারা প্রকাশ্যে লিলামের মাধ্যমে প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় কোম্পানীগঞ্জ আওয়ামী লীগ হরতাল, অবরোধসহ কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। স্মারকলিপিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দের মধ্যে স্বাক্ষর করেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আলী আমজাদ, সহসভাপতি আবদুল হান্নান, মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক আপ্তাব আলী কালা মিয়া চেয়ারম্যান, যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির মছব্বির, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ইয়াকুব আলী, উত্তর রণিখাই ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ, ইছাকলস ইউপি চেয়ারম্যান এখলাছুর রহমান, কোম্পানীগঞ্জ শ্রমিক লীগের সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ, সাধারণ সম্পাদক শামছুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মো. রশিদ আলী, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, পশ্চিম ইসলামপুর ইউপি আওয়ামী লীগ মো. রফিক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলী, পূর্ব ইসলামপুর ইউপি সভাপতি মো. মুল্লুক হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন দে, দক্ষিণ রণিখাই ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল হাশিম, সাধারণ সম্পাদক নরেশ চন্দ্র দাস, তেলিখাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. কমর উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আনছার উদ্দিন, ইছাকলস ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহিদ আল হাসান, সাধারণ সম্পাদক আছার মিয়া, উত্তর রণিখাই ইউপি আওয়ামী লীগ সভাপতি কালা মিয়া, সাধারণ সম্পাদক কৃষধন সিংহ, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক ইকবাল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম, শৈলেন চন্দ্র নাথ, মুজিবুর রহমান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলজার হোসেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অখিল চন্দ্র বিশ্বাস, প্রচার সম্পাদক বজলু মিয়া পাঠান, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার শফিউদ্দিন রেণু, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক খলিলুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাবুসহ ৪৮ জন।

বরিশালে নার্সদের ওপর চড়াও পুলিশ, আহত ৪০, আটক ১৪

বরিশালে সড়ক অবরোধকারী ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি) শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় ৩ পুলিশ কনস্টেবল সহ ৪০ জন আহত হন। গতকাল সকাল ১১টার দিকে নগরীর বান্দরোড শেবাচিম হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ১৪ শিক্ষার্র্থীকে আটক করে পুলিশ। আহত শিক্ষার্থীদের শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, অবিলম্বে ‘বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিক্যাল এডুকেশন বোর্ড’ গঠন, ৪ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা মেডিক্যাল টেকনোলজি ও ফার্মেসি  কোর্স চালু, নতুন পদ সৃষ্টি, আইনগত সমস্য নিষ্পত্তি, সরকারি চাকরিতে ডিপ্লোমা মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মসিস্টদের ২য় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা পদমর্যাদা, উচ্চশিক্ষা সমপ্রসারণে বিএসসি ও এমএমসি কোর্স চালু, Bangladesh University of Medical Seience and Technology গঠন করাসহ ১০ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সকাল ১০টায় শিক্ষার্থীরা বান্দরোডে মানববন্ধন শুরু করে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া আইএইচটি শিক্ষার্থী মো. হোসেন জানান, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যদার দাবিতে কিছুদিন ধরেই তারা ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। গতকাল সকালে বান্দরোডে মেডিক্যাল কলেজের সামনে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলেন। কিন্তু পুলিশ বিনা উস্কানিতে তাদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ করায় ৩০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। লাঠিচার্জে তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাখয়াত হোসেন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে লাঠি চার্জ করতে বাধ্য হয়। এতে পুলিশের সার্জেন্ট কামরুল ইসলাম ও কনেস্টাবল বেল্লাল হোসেনসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে বরিশাল নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ খান পিপিএম জানান, রাস্তা অবরোধ করে দাবি আদায় হয় না। দাবি আদায়ের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে যেতে হয়। এর আগেও তারা সড়ক অবরোধ করেছিল। তখন তাদের বুঝিয়ে-শুনিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু গতকাল সড়ক অবরোধকালে পুলিশ তাদের বোঝাতে  গেলে শিক্ষার্থীরা অনাকাঙিক্ষত আচরণ  করায় জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে পুলিশ বল প্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশের গার্মেন্টে শিশুশ্রম ব্যবহার হচ্ছে by দীন ইসলাম

বাংলাদেশের গার্মেন্টসহ ১৫ ধরনের পণ্য উৎপাদনে শিশু ও জবরদস্তিমূলক শ্রম ব্যবহার করা হচ্ছে। গত ১লা ডিসেম্বর মার্কিন শ্রম দপ্তর থেকে প্রকাশিত ‘ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশনস রি-অথরাইজেশন অ্যাক্ট (টিভিপিআরএ)’ তালিকায় বাংলাদেশের নাম স্থান পেয়েছে। এ তালিকায় গার্মেন্ট, বিড়ি, ইট, শুকনা মাছ (শুঁটকি), ফুটওয়্যার, ফার্নিচার (স্টিল), গ্লাস, চামড়া, দিয়াশলাই, পোল্ট্রি, লবণ, চিংড়ি, সাবান, টেক্সটাইল এবং টেক্সটাইল (পাট)-এর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ সব পণ্য উৎপাদনে শিশু ও জবরদস্তিমূলক শ্রম ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে শুঁটকি উৎপাদনে একই সঙ্গে শিশু ও জবরদস্তিমূলক শ্রম ব্যবহার করা হয়। বাকি পণ্যগুলো উৎপাদনে শুধু শিশুশ্রম ব্যবহার করা হয়। বিষয়টি জানিয়ে গত ২রা ডিসেম্বর বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিবকে চিঠি দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমেরিকা অনুবিভাগ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠির সঙ্গে মার্কিন দূতাবাসের ডিপ্লোমেটিক নোট (কূটনৈতিক পত্র) যোগ করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু মানবজমিনকে বলেন, গার্মেন্ট সেক্টরে কোন শিশু শ্রমিক নেই। শতভাগ শিশু শ্রমমুক্ত করতে পেরেছি। এটা সম্ভব হয়েছে মালিক-শ্রমিকদের যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে। এ সংক্রান্ত ইন্সপেকশন রিপোর্টও আমাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন, সব সেক্টরে শিশুশ্রম মুক্ত করবো। এর মধ্যে গার্মেন্ট সেক্টরে সফল হয়েছি। কিছু সেক্টরে শিশুশ্রম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, কিছু সেক্টরে এখনও শিশু শ্রমিকরা কাজ করছে। এগুলো রাতারাতি ঠিক করা যাবে না। এ জন্য আমরা বিভিন্ন প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি। আশা করছি, ঠিক হয়ে যাবে। এদিকে মার্কিন দূতাবাসের কূটনৈতিক পত্রে বলা হয়েছে, টিভিপিআরএ তালিকায় বাংলাদেশের তৈরী পোশাক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ ছাড়াও অন্যান্য পণ্য রয়েছে ওই তালিকায়। স্বাধীন ও বহুমুখী প্রশ্নের ভিত্তিতে নিজস্ব চ্যানেলে তদন্তের মাধ্যমে এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শিশুশ্রম ব্যবহার হচ্ছে না- এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। তখন মার্কিন সরকারের শ্রম দপ্তর বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে। কূটনৈতিক চিঠির সঙ্গে পাঠানো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়, মার্কিন দূতাবাসের তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র শ্রম দপ্তর ১লা ডিসেম্বর ট্রাফিকিং ভিকটিমস প্রোটেকশনস রিঅথরাইজেশন অ্যাক্ট (টিভিপিআরএ) তালিকা প্রকাশ করেছে। যে সব পণ্য উৎপাদনে শিশুশ্রম ও জবরদস্তিমূলক শ্রম ব্যবহৃত হয় বলে যুক্তরাষ্ট্র শ্রম দপ্তর মনে করে ওই তালিকায় সে সব পণ্য তালিকাভুক্ত হয়। টিভিপিআরএ তালিকায় বাংলাদেশের তৈরী পোশাক অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে। গতকাল বিকালে বাণিজ্য, স্বরাষ্ট্র এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় চিঠি পেয়েই কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় গার্মেন্টে শিশুশ্রম মুক্ত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন বাছাই করছে। এগুলো পাঠানো হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। এছাড়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ও তাদের মন্ত্রণালয়ের অবস্থান তুলে ধরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরির কাজ শুরু করেছে। এর আগে ২০১৩ সালের ২৮শে জুন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশী পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা বা জিএসপি স্থগিত করে মার্কিন সরকার। বাংলাদেশে শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তার অভাবের কারণ দেখিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র। জিএসপি স্থগিত সংক্রান্ত সিদ্ধান্তে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে জানায়, শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত থাকবে। সময়ে সময়ে এটি পর্যালোচনা হবে। কিন্তু এরপরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা ফেরত পায়নি বাংলাদেশ। সরকারের পক্ষ থেকে দেন-দরবার অব্যাহত রয়েছে। এখন নতুন করে মার্কিন শ্রম দপ্তরের শিশুশ্রমিক ব্যবহারকারীর তালিকায় বাংলাদেশের গার্মেন্টের নাম ওঠায় নতুন ধাক্কা বলে মনে করা হচ্ছে।

অজানাই থেকে গেল ব্ল্যাকআউটের কারণ

১লা নভেম্বর সারা দেশে একযোগে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের পেছনে সুনির্দিষ্ট কোন কারণ খুঁজে পায়নি তদন্ত কমিটি। খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় এবং লোড ম্যানেজমেন্ট না থাকায় সারা দেশে ওই বিপর্যয়ের  ঘটনা ঘটেছিল বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু। গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। গত ১লা নভেম্বর সকাল সাড়ে এগারোটায় গোটা দেশ এক সঙ্গে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ওই দিনই বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কায়কাউসের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রথমে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয় কমিটিকে। নির্ধারিত সময়ে ব্যর্থ হয়ে পঞ্চম কার্যদিবসে প্রাথমিক রিপোর্ট দেয় কমিটি। প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ কারণেই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটে। নির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করা যায়নি। তদন্ত কমিটি প্রণীত সুপারিশমালা গতকাল সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। সেখানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, চাহিদা ও সরবরাহের সঙ্গে লোড ম্যানেজমেন্ট না থাকায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছিল। মূল কারণ হলো ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট’ করতে পারেনি। ব্ল্যাকআউটের পর এখনও জাতীয় গ্রিড ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের উৎপত্তি বাংলাদেশে নাকি ভারত থেকে হয়েছিল- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, লোড বেশি হওয়ায় আন্ডার ফ্রিকোয়েন্সির জন্য এ ঘটনা ঘটেছিল। চাহিদার সঙ্গে ভারসাম্য না থাকায় এ অবস্থার তৈরি হয়। তিনি বলেন, ঝুঁকি এড়াতে ফিডারের নির্দিষ্ট ও যৌক্তিক লোড অটোমেটিক কন্ট্রোল হবে। এই সমস্যাগুলো কিভাবে সমাধান করা যায়, সেজন্য আমাদের আরও আধুনিক হতে হবে। এজন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ  মেয়াদে পরিকল্পনা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। তবে এজন্য সময় লাগবে বলেও জানান তিনি। এছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশ কিছু পুরনো সিস্টেম রয়েছে, বেশ কিছুর ঘড়ির সময় জিপিএসের সঙ্গে সিনক্রোনাইজ নেই। ফ্রিকোয়েন্সি আপ অ্যান্ড ডাউন হলে অনেক জায়গায় ম্যানুয়ালি ফোন দিয়ে কন্ট্রোল করতে হয়, সময়মতো বন্ধ না করলে ট্রিপ করে যায় বলেন প্রতিমন্ত্রী। পলিসি মিসটেকের কারণে বিপর্যয় ঘটেনি দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সময়ের কারণে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। যত দ্রুত আমরা ডেভেলপ করেছি, তত দ্রুত আমরা পার্টিসিপেট করতে পারিনি। এখন আর বসে থাকার সময় নেই। আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনা তদন্ত কমিটি ২২টি স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা এবং ১০টি মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুপারিশ করেছে। এ ঘটনার জন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ম্যানুয়ালি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে এমনটি হয়েছে। এ কারণে যারা ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেন তারাও ঝুঁকির মধ্যে আছেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎসচিব মনোয়ার ইসলাম, পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডের মাসুম আল বেরুনী প্রমুখ।

ইরাকে জিম্মি- সন্তানের প্রতীক্ষায় মায়ের বুকফাটা আহাজারি

মায়ের আর্তনাদ। বাকরুদ্ধ পিতা। স্বামীর প্রতীক্ষায় প্রহর গুনে কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকানো প্রিয়তমা স্ত্রী। প্রতারণার মামলা করে ভীত-সন্ত্রস্ত ভাই। এ অবস্থা ইরাকে জিম্মি ১৮০ জন বাংলাদেশীর স্বজনদের। তাদের আর্তনাদ, হাহাকার আর বুকফাটা কান্নায় গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের হলরুমে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। জিম্মির স্বজনদের সংবাদ সম্মেলন পরিণত হয় শোকাতুর মানুষের সমাবেশে। আহাজারিতে ভারি হয়ে ওঠে বাতাস। দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে জিম্মিদের ফেরত আনতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কাকুতি-মিনতি জানান স্বজনরা। এদিকে আগামী ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে জিম্মিদের ফেরত আনার দাবি করেছেন বিশিষ্ট নাগরিকেরা। দুপুরে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ছেলের দুর্দশার কথা বলতে গিয়ে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন মা। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট মাছুয়া গ্রামের জাকিয়া বেগম চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে বলেন ‘আমি কিছুই চাই না। আমার একমাত্র ছেলেরে ফেরত চাই। ওর শোকে গেল মাসে বাপটাও মইর‌্যা গ্যাছে। ট্যাকা গেছে যাক, আমার গর্ভের ধনরে আপনারা দ্যাশে আইনা দ্যান।’ ডায়াসে দাঁড়িয়ে কথাগুলো বলতে বলতেই সংজ্ঞা হারান তিনি। পরে অন্যরা ধরাধরি করে মুখে পানি ছিটিয়ে তার সংজ্ঞা ফেরান। জাকিয়া জানান, তার একমাত্র ছেলে রুবেল শাহ গত ৭ মাস ধরে ১৭৯ জন হতভাগ্য বাংলাদেশীর সঙ্গে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় ইরাকের নাজাফে একটি ঘরে বন্দির মতো রয়েছে। তাদের ঠিকমতো খেতে দেয়া হয় না। দিনে ২টা রুটি, রাতে শুধু একটা কলা খেয়ে কাটছে তাদের দিন। ছেলের এমন দুরবস্থার কথা শুনে এক মাস আগে রুবেলের পিতা আবুল শাহ মারা গেছেন। মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোর, শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম ও বাংলাদেশ মানবাধিকার সমন্বয় পরিষদ (বামাসপ) বিপদগ্রস্ত এসব পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে রাইটস যশোর-এর নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক লিখিত বক্তব্যে বলেন প্রতারণার শিকার জিম্মি ওই ১৮০ জনের অনেককেই কাতারে ভাল বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ২২শে মে ইরাক নিয়ে যায় একটি রিক্রুটিং এজেন্সি। সেখানে নিয়ে গিয়ে তাদের কাছে থাকা সকল বৈধ কাগজপত্র এবং মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। প্রতারণার প্রতিবাদ করলে এজেন্সির লোকেরা তাদের হুমকি দেয় এবং বিকল্প কোন উপায় নেই বলে জানায়। বাধ্য হয়ে সেখানে তারা কাজ করতে রাজি হলেও কোন কাজ না দিয়ে বিগত ৭ মাস ধরে আটকিয়ে রেখেছে। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ইরাকে যাওয়ার জন্য বিএমইটি’র ছাড়পত্র, মেডিক্যাল রিপোর্ট, পাসপোর্ট থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ কোম্পানির লোকেরা করেছে। এমনকি ভুক্তভোগী ১৮০ জনকে শুধু কোম্পানির নাম জানানো হয়। ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে বিনয় কৃষ্ণ দাবি করেন ইরাক যাওয়ার আগে এজেন্সি তার পাশের বিল্ডিংয়ের ছাদে সকলকে জড়ো করে। তখন বলা হয়, কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন। কিন্তু সেটা না করে আকস্মিকভাবে তাদের জানানো হয় প্লেনের সময় হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি না গেলে তারা প্লেন মিস করবেন। সে কারণে সবাইকে তড়িঘড়ি করে কন্ট্রাক্ট পেপারে সই করিয়ে নেয় তারা। ভুক্তভোগীরা জানতেও পারেনি তাতে কি লেখা ছিল। এসব দায় এড়াতে এজেন্সি বিভিন্ন কূটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছে বলেও তিনি জানান। ওই সংবাদ সম্মেলনে অর্ধশতাধিক জিম্মি পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।
তারা বলেন- তাদের কেউই গত দেড় মাস ধরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। বরং দু’একজনের সঙ্গে যোগাযোগ হলে তারা দুর্ভোগের কথাই বলছেন। স্বজনদের প্রত্যেকেই দাবি করেন, ৩ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকায় কাতারে চাকরি দেয়ার কথা বলে ইরাকে পাচার করে দেয়া হয়েছে। অসহায় এসব মানুষকে দেশে ফেরত এনে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণ কিংবা চুক্তি অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করতে সরকার বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। জিম্মি ইঞ্জিনিয়ার সিদ্দিকের ভাই জাভেদ বলেন, কিছুদিন আগে তার ভাইসহ ১৬ জনকে আলাদা করে আটক করে রাখা হয়েছে। তাদের ওপর চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগের পর গত ১১ই নভেম্বর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এক সপ্তাহের মধ্যে তাদেরকে ফেরত দেয়া হবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার কোন আলামত লক্ষ্য করা যায়নি। তিনি বলেন, কোন কথা বললেই ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তারা এমন কথা শুনছেন যে ক্রীতদাস হিসেবে তাদের বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। তিনি জিম্মিদের ফেরত আনার দাবি জানিয়ে বলেন এক শ্রেণীর কর্মকর্তা সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য এ ধরনের কাজ করছে। জিম্মি রুবেলের মা বানু আরা খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে আমার ছেলের প্রাণ ভিক্ষা চাই। তাকে পেশাব-পায়খানার পানি খেতে দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন- বহু কষ্টে ধার দেনা করে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দালালদের দিলেও এখন আমার এক পয়সা-কড়িরও দাবি নাই। শুধু সন্তানকে ফেরত চাই।’ রূপগঞ্জের মমতা ম-ল বলেন, ‘তার স্বামী জিম্মি দশরথ ম-ল কান্নাকাটি করছেন সেখানে। তিনি তাকে জানিয়েছেন কোন কথা বললেই তারা মারধর করে। তিনি বলেন, আদম ব্যাপারীর কাছে গেলে সে বলে তার কিছু করার নেই।’ গাজীপুরের বাদল মোল্লার মা কিছু বলতে চাইলেও কাঁদতে কাঁদতে কোন কথা বলতে পারেননি। কাপাসিয়ার মাজেদা সুদে টাকা নিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছেন উল্লেখ করে বলেন ভিক্ষা করে হলেও ছেলেকে কাছে রাখবো। কোন দাবি নাই, শুধু ছেলেকে ফেরত চাই। কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের মাহিনা জানান, তার জামাই (মেয়ের স্বামী) ১০ বছর গার্মেন্টে কাজ করে কিছু টাকা জমান। সব টাকাই মার গেল। বিদেশে টাকা আয় করার স্বাদ মিটে গেছে। এখন তিনি তার মেয়ের জামাইকে ফেরত পেতে চান।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জিয়াউর রহমান বলেন- তার ভাই ফোনে দুর্ভোগের কথা বললে কোর্টে মামলা করেন তিনি। কিন্তু কয়েকদিন পর থানার ওসি আসামিকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে যায়। এখন তিনি বাড়িতেও ঘুমাতে পারেন না। এছাড়া, অপরিচিত নম্বর থেকে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। তার বাবা-মা বলেন এক ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে হারিয়েছি, এখন মামলা করে আরেক ছেলেকেও হারাতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহ্‌দীন মালিক বলেন, ৬ মাস ধরে তারা সেখানে আটক আছেন। থানার ওসি থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে ধরনা দিয়েও তারা কোন ফল পায়নি। সব আশা ছেড়ে দিয়ে এখন তারা শেষ চেষ্টা হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ আশা করছেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন- আমিও তাদের পক্ষ থেকে করজোড়ে আপনার কাছে মিনতি করছি আপনার হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছু হবে না। তিনি বলেন, সব দেখে মনে হচ্ছে এদেশ থেকে ইনসাফ চলে গেছে। এটা চলে গেলে তো কিছুই থাকে না। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনি কোন সরকার চালাচ্ছেন- যে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠানও দুর্বলদের পাশে দাঁড়ায় না? তিনি বলেন- আমরা আশা করবো ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগেই এর একটা সুরাহা হবে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সি আর আবরার, বামাসপ-এর এএইচএম নোমান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ইরাকের নাজাফ শহরের আবু তোরাব এলাকায় গত মে মাস থেকে জিম্মি জীবন কাটাচ্ছেন ওই ১৮০ বাংলাদেশী। ইতিমধ্যে তাদের কয়েকজনকে সেখান থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ ওঠেছে। এ ব্যাপারে বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও এখনও ওই সব কর্মীকে কাজ দেয়া হয়নি বা ফেরত পাঠানোর কারণ ব্যবস্থা করা হয়নি।

মালয়েশিয়ার সঙ্গে চুক্তি, প্রটোকল সই

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে  জনশক্তি রপ্তানি, পর্যটন ও সংস্কৃতি খাতে একটি চুক্তি এবং ৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার পুত্রজায়ায় দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসা শর্তাবলির আংশিক বিলোপন, পর্যটন খাতে সহযোগিতা, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান সম্পর্কিত ২০১২ সালের প্রটোকল সংশোধন এবং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য খাতে সমঝোতা স্মারক। মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আহাদ জাহিদ হারমিদি ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ভিসা শর্তাবলীর আংশিক বিলোপন সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন। শ্রমিকদের প্রটোকল সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতো সোরি রিচার্ড রাইয়ত আনাক জায়েম ও বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পর্যটন খাতে সহযোগিতার সমাঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ার পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মোস্তফা মুহামেদ ও বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কিত সমঝোতায় স্বাক্ষর করেন মালয়েশিয়ার পর্যটন ও সংস্কৃতি বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। পারদানায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মোহা. নাজিব বিন তুন আবদুল রাজাকের উপস্থিতিতে এসব চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বেসমারিক বিমান পরিবহন, পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। চুক্তি স্বাক্ষরের আগে প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, বৈঠকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক থাকার কথা জানিয়েছেন। তিনি এ সম্পর্ককে সর্বোচ্চ উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। এর আগে স্থানীয় সময় বিকাল ৩টায় শেখ হাসিনা পুত্রজায়ার পারদানা স্কয়ারে পৌঁছলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর নাজিব রাজাক তাকে অভ্যর্থনা জানান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সেখানে লালগালিচা সংবর্ধনা দেয়া হয়, একটি চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার দেয়। তিন দিনের সফরে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মালয়েশিয়া যান। আজ তার দেশে ফেরার কথা।
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আহবান: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে মালয়েশিয়ান বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কুয়ালালামপুরে বুধবার গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলে ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের সুযোগ বিষয়ক সংলাপ’ অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে আজকের আধুনিক মালয়েশিয়া গড়তে আপনাদের অনেকেই অবদান রেখেছেন। আমি বিশ্বাস করি, একই সুযোগের হাতছানি বাংলাদেশেও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমাবদ্ধতা ও নিম্নপর্যায়ের অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশ বিনিয়োগের যে সুযোগ ও প্রণোদনা দিচ্ছে তা আপনাদের সদয় বিবেচনার দাবি রাখে।
অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া সাউথ সাউথ এসোসিয়েশন (এমএএসএসএ)-এর প্রেসিডেন্ট আজমান হাশিম এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার এ কে এম আতিকুর রহমান বক্তব্য দেন।
এছাড়া মালয়েশিয়া সরকারের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত এস সামি ভেল্লুু, মালয়েশিয়ান স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড এক্রিডিটেশন কাউন্সিল ডাটুকের চেয়ারম্যান মুস্তাফা মনসুর, এমরেইল এসডিএন বিএইচডির নির্বাহী পরিচালক ড. অরবিন্দ হরি নারায়ণ, এক্সিসজাভা গ্রুপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর  বেন্নি হো এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগ প্রতিনিধিদল এতে অংশ নেন। ফেডারেশন অব চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও সংলাপ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক আরও প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রসমূহ চিহ্নিত করেছেন। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তরিত করতে পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ইতিমধ্যে বড় অঙ্কের এফডিআই রয়েছে এবং দেশের বৃহত্তর চাহিদা মেটাতে মালয়েশিয়া থেকে মানসম্পন্ন বিনিয়োগকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের সক্ষম পরিবেশ  তৈরির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো সম্পর্কে আমরা জানি। ফলে ১৮টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরির প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি বলেন, আমি মনে করি সড়ক, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পর্যটন ও সেবা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি সরবরাহের মতো অবকাঠামো খাতগুলো আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করবে। একই ভাবে খাদ্য ও কৃষিখাতের পুরোটাই হবে উৎসাহব্যঞ্জক। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বসহ (পিপিপি) যে কোন ধরনের অংশীদারিত্বের বিষয় বিবেচনা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের যোগাযোগ মাধ্যম বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া এবং আরও পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। এক্ষেত্রে সার্ক, বিমসটেক ও বিসিআইএন-এর মাধ্যমে আমাদের অগ্রসরমান অর্থনৈতিক সংহতি গড়ে উঠছে।
তিনি বলেন, আমাদের সমাজ হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিমূলক, বহুমাত্রিক ও সমজাতিক। আমরা উৎপাদনকে দায়িত্ব ও কর্ম হিসেবে গণ্য করি; যা অন্যের জীবন ও জীবনযাত্রাকে ব্যহত না করে বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যাশিত মুনাফা ও শ্রমিকদের কল্যাণ বয়ে আনে। সামাজিক উন্নয়ন ও অর্থনীতি পাশাপাশিই এগিয়ে যায় এবং দীর্ঘ মেয়াদে যা সুফল বয়ে আনে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

দুর্নীতি আরও বেড়েছে: টিআই, রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান দুদকের

বাংলাদেশের দুর্নীতি পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বৈশ্বিক দুর্নীতি ধারণা সূচকে দুই ধাপ অবনতি হওয়ায় এবার বাংলাদেশের অবস্থান হয়েছে ১৪তম। গত বছর অবস্থান ছিল ১৬তম। দক্ষিণ এশিয়ায় দুর্নীতির দিক দিয়ে আফগানিস্তানের পরই বাংলাদেশের অবস্থান। গতকাল প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)-এর বৈশ্বিক দুর্নীতির ধারণা সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের দুর্নীতির সূচক দেশে দুর্নীতির প্রকট রূপেরই ইঙ্গিত করে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আরও কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে টিআই বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রিপোর্টের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সিপিআই ২০১৪-এর ফল অনুযায়ী মানের নিচের দিক থেকে দুর্নীতির ধারণা সূচকে গত বছরের  চেয়ে ২ ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় হওয়ায় দুর্নীতির ব্যাপকতা ও গভীরতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন টিআইবি ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল। আরও উপস্থিত ছিলেন টিআইবি’র ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য এম হাফিজউদ্দিন খান ও ড. এটিএম শামসুল হুদা এবং উপ-নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের। দুর্নীতির সূচক (সিপিআই)  ফেব্রুয়ারি ২০১১ সাল থেকে আগস্ট ২০১৪ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে  তথ্য  সংগ্রহ করে এ  প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে বাংলাদেশের চিত্র  তুলে ধরে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, এ বছর বাংলাদেশ ০-১০০ স্কেলে ২৫ স্কোর পেয়ে ১৭৫টি দেশের মধ্যে ঊর্ধ্বক্রম অনুসারে ১৪৫তম এবং নিচের দিক থেকে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। ২০১৩ সালের তুলনায় অবস্থানের নিম্নক্রম অনুযায়ী দুই ধাপ নিচে নেমেছে এবং গত বছরের ২৭ স্কোরের চেয়ে দুই স্কোর কম পেয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া উপরের দিক থেকে গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশ এ বছর ৯ ধাপ নিচে নেমে গেছে। ড. ইফতেখারুজামান বলেন, একমাত্র আফগানিস্তান ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার ৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ  নিচের দিক থেকে দ্বিতীয় সর্বনিম্নে অবস্থান করছে এবং ২০১৪ সালে বাংলাদেশ দুই পয়েন্ট কম পাওয়ায় এবং তা বৈশ্বিক গড় ৪৩-এর চেয়ে অনেক কম হওয়ায় সার্বিকভাবে দুর্নীতির বৈশ্বিক ধারণা সূচকে বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৪ সালের সিপিআই অনুযায়ী ৯২টি দেশের স্কোর বেড়েছে, ৪৭টি দেশ আগের স্কোর ধরে রেখেছে। অন্যদিকে যে ৩৬টি দেশের স্কোরের অবনতি হয়েছে, দুঃখজনকভাবে সেই তালিকায় বাংলাদেশও রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে একই স্কোর পাওয়া অন্য চারটি দেশ হলো- গিনি, লাওস, কেনিয়া ও পাপুয়া নিউগিনি। ২০১৪ সালে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে ডেনমার্ক (স্কোর ৯২)। ৯১ স্কোর পেয়ে তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফিনল্যান্ড (স্কোর ৮৯)। ৮ স্কোর পেয়ে ২০১৪ সালে তালিকার সর্বনিম্নে অবস্থান করছে যৌথভাবে সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া। ১১ ও ১২ স্কোর পেয়ে তালিকার সর্বনিম্নের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দেশ হিসেবে রয়েছে যথাক্রমে সুদান ও আফগানিস্তান।
সূচকে স্কেলের ০ স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণায় সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং ‘১০০’ স্কোরকে দুর্নীতির ব্যাপকতার ধারণার মাপকাঠিতে সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত বা সর্বোচ্চ সুশাসন প্রতিষ্ঠিত দেশ বলে ধারণা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সুলতানা কামাল বলেন, দুর্নীতি ও অনিয়মের ব্যাপক বিস্তার এবং জবাবদিহির ঘাটতির কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশের দরিদ্র জনগণ। আমরা সরকারের কাছ থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ও দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ দেখতে পাইনি। সে কারণে রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে। যে কোন সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য হচ্ছে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় হয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধের দাবি উত্থাপনে সোচ্চার হওয়া।
যে  কারণে এ অবনতি:  ড. ইফতেখারুজামান বলেন, বিভিন্ন কারণে সিপিআই সূচকে এ বছর ক্রমাবনতি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার অনুযায়ী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের ঘাটতি, কার্যকরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের দৃষ্টান্তের অভাব, দুদকের স্বাধীনতা খর্ব করার অপপ্রয়াস, পদ্মাসেতু প্রকল্প, রেলওয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, শেয়ারবাজার, হলমার্ক ও ডেসটিনি এবং সোনালী ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে ব্যাপক অনিয়ম, রানা প্লাজার ঘটনার ব্যাপারে শৈথিল্য, ক্ষমতাবানদের বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদের বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণের দৌরাত্ম্য, সংসদসহ সংশ্লিষ্ট জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানের ব্যর্থতা, নিয়োগ বাণিজ্যের রাজনীতিকীকরণ এবং ভূমি ও নদী-জলাশয় দখলের মহোৎসব। তিনি বলেন, বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুদককে অনেক সময়ই দেখা গেছে সরকারের এক প্রকার বি-টিমের ভূমিকা পালন করতে। এ প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজামান বলেন, সিপিআই সম্পর্কে যথাযথ ধারণার অভাবে মনে করা হয় বাংলাদেশ বা তার অধিবাসীরা দুর্নীতিগ্রস্ত। বাস্তবে দেশের মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত নয়। তারা দুর্নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগী মাত্র। ক্ষমতাবানদের দুর্নীতি ও তা প্রতিরোধে দেশের নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যর্থতার কারণে দেশ বা জনগণকে কোনভাবেই দুর্নীতিগ্রস্ত বলা যাবে না। এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজামান বলেন, গত বছর সুইস ব্যাংকের সূত্র ধরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে সেকেন্ড হোমের জন্য বাংলাদেশীরা বিগত বছরের তুলনায় দুই-তিন গুণ টাকা জমা রেখেছেন। এছাড়া জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতিবাচক প্রতিবেদনও এ অবনতির কারণ হলেও হতে পারে।
সিপিআই ২০১৪-এর জন্য বাংলাদেশের সূত্র হিসেবে  যে ৭টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নেয়া হয়: বার্টেলসমান ফাউন্ডেশন কর্তৃক পরিচালিত ট্রান্সফরমেশন ইনডেক্স, ইকোনোমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট কর্র্তৃক পরিচালিত কান্ট্রি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, গ্লোবাল ইনসাইটের কান্ট্রি রিস্ক রেটিংস, পলিটিক্যাল রিস্ক সার্ভিসেস-এর ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি রিস্ক গাইড, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল অ্যাসেসমেন্ট, ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের এক্সিউকিউটিভ ওপিনিয়ন সার্ভে এবং ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট পরিচালিত রুল অব ল’ ইনডেক্স-এর রিপোর্টসমূহের জরিপ ব্যবহৃত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা  হয়, সিপিআই নির্ণয়ে টিআইবি কোন ভূমিকা পালন করে না। এমনকি টিআইবি’র গবেষণা থেকে প্রাপ্ত কোন তথ্য বা বিশ্লেষণ সিপিআই-এ পাঠানো হয় না। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের টিআই চ্যাপ্টারের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অন্যান্য দেশের টিআই চ্যাপ্টারের মতোই টিআইবি দুর্নীতির ধারণা সূচক স্থানীয় পর্যায়ে প্রকাশ করে মাত্র।
এতে আরও বলা হয় ২০০১ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পর পর পাঁচবার নিচের দিক থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ২০০৬ সালে তৃতীয়, ২০০৭ সালে সপ্তম, ২০০৮এ দশম, ২০০৯ সালে ১৩তম, ২০১০ সালে ১২তম, ২০১১ সালে ১৩তম, ২০১২ সালেও একই অবস্থান ১৩তম ও ২০১৩ সালে ১৬তম অবস্থানে ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে টিআই দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) প্রকাশ করে আসছে।
টিআইয়ের রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য নয়: দুদক
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচক রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, টিআইবির পরিসংখ্যান প্রকৃত চিত্রের চেয়ে ভিন্নতর। দুদক তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নয়। সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে গতকাল সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু বলেন, বাস্তবতার নিরিখে তাদের (টিআই) প্রকাশিত প্রতিবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে একমত নই। যদিও পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এখনও আমরা হাতে পাই নি, তারপরও বলছি, এ প্রতিবেদন হাতে  পেলেও তা  গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমি মনে করি না। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনদের বেলায় ছাড় দেয়ার কথা ঠিক নয়। দুর্নীতিগ্রস্ত যে-ই হোক না কেন কাউকেই কোন রকম ছাড় দেয়া হচ্ছে না। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই হলমার্ক, ডেসটিনির কেলেঙ্কারির মূল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দাবি করেন, আগের যে কোন সময়ের তুলনায় এখন দুদক সক্রিয়। এ কারণে দুর্নীতিও কমে এসেছে।

মাহজাবিনের লাশ কবর থেকে তোলা হবে আজ

ডা. শামারুখ মাহজাবিনের লাশ কবর থেকে তোলা হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা যশোরে এসে পৌঁছতে না পারায় লাশ উত্তোলন সম্ভব হয়নি বলে জানান যশোরের জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। তদন্ত কর্মকর্তা গতকাল সকালে ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। ফলে আজ সকাল ১০টার দিকে লাশ উত্তোলন করা হবে। জেলা প্রশাসক জানান, পুনঃময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের সময় সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার উপস্থিত থাকার বিধান রয়েছে। কিন্তু সিআইডির এএসপি মুন্সি রুহুল হক ধানমন্ডি থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে যথেষ্ট সময়ক্ষেপণ হয়েছে। সে কারণে তিনি নির্ধারিত দিন মঙ্গলবার যশোরে এসে পৌঁছতে পারেননি। গত ১৩ই নভেম্বর রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার বাসভবনে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় ডা. শামারুখ মাহজাবিনকে উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ওই রাতেই ডা. শামারুখের পিতা নূরুল ইসলাম ধানমন্ডি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য (যশোর-৫) টিপু সুলতান, তার স্ত্রী ডা. জেসমিন ও ছেলে সাদাবকে আসামি করা হয়। সাদাবকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। আর টিপু সুলতান ও তার স্ত্রী উচ্চ আদালতে হাজির হয়ে আগাম জামিন নেন। ডা. মাহজাবিনের লাশের ময়না তদন্ত হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। গত ২৩শে নভেম্বর প্রকাশিত ময়না তদন্ত রিপোর্টে ডা. মাহজাবিন আত্মহত্যা করেছেন বলে বলা হয়। এর আগে ২০শে নভেম্বর প্রেস ক্লাব যশোরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম আশঙ্কা করেন, প্রভাবশালী টিপু সুলতান ময়না তদন্ত রিপোর্ট প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।
ঢামেকের ময়না তদন্ত রিপোর্ট চ্যালেঞ্জ করে গত ২৫শে নভেম্বর মঙ্গলবার প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম আদালতের শরণাপন্ন হন। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বিকাশ কুমার সাহা ওই দিনই ডা. মাহজাবিনের লাশ উত্তোলন করে আবার ময়না তদন্তের নির্দেশ দেন যশোরের সিভিল সার্জনকে। গত শনিবার সকালে নূরুল ইসলাম নিজের ও ছেলে শাহানুর মো. শরীফের জীবনাশঙ্কা ব্যক্ত করে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। একই দিন তিনি যশোরের কারবালা কবরস্থান পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং পীর নূর বোরহান শাহ হাফিজিয়া মাদরাসার সাধারণ সম্পাদক বরাবর একটি আবেদন করেন। তার আশঙ্কা বিবাদী পক্ষের লোকেরা আলামত নষ্ট করার জন্য শামারুখের লাশ গায়েব করতে পারে। যশোরের পুলিশ সুপার ও কোতোয়ালি থানার ওসির কাছেও তিনি একই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। পুলিশ কারবালা কবরস্থানের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে।

Wednesday, December 3, 2014

‘শুধু আমার কলিজারে ফেরত দেন’

(ইরাকে পাচার হওয়া ছেলে মো. রুবেলের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন মা জাকিয়া বেগম। কয়েক বার মূর্ছা যান। জ্ঞান ফিরতেই আবার ছেলের জন্য বিলাপ শুরু করেন। ছবিটি আজ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে তোলা। ছবি: সাহাদাত পারভেজ) (ছেলে বাদল মোল্লাকে কাতার পাঠানোর কথা বলে সাত মাস আগে পাচার করা হয় ইরাকে। ছেলেকে হারিয়ে এখন শুধু চোখের জলই সম্বল বানেছা বেগমের। ছবি: সাহাদাত পারভেজ) ছেলের কথা বলতে বলতেই মূর্ছা গেলেন দুই মা। স্বজনেরা একে একে এলেন। জানালেন তাঁদের বাবা, ছেলে কিংবা সন্তানের দুর্দশার কথা। এক সন্তান তাঁর বাবার জন্য কাঁদছেন, আরেক বাবা তাঁর সন্তানের জন্য। এটি এক সংবাদ সম্মেলনের চিত্র। ইরাকে শ্রম পাচারের শিকার ১৮০ বাংলাদেশির প্রত্যাবাসন ও ক্ষতিপূরণ বিষয়ে স্বজনেরা আজ বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তাঁদের সহযোগিতা করে রাইটস যশোর, শিক্ষা স্বাস্থ্য উন্নয়ন কার্যক্রম ও বাংলাদেশ মানবাধিকার পরিষদ নামের তিনটি বেসরকারি সংগঠন।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে রাইটস যশোরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। ওই বক্তব্য থেকে জানা যায়, ক্যারিয়ার ওভারসিজ কনসালট্যান্ট লিমিটেড নামের একটি রিক্রুটিং এজেন্সি কাতারে ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে গত মে মাসে ১৮০ জনকে ইরাকে পাঠায়। ইরাকে যাওয়ার পর থেকে তাঁদের একটি কক্ষে বন্দী রাখা হয়। সেখান থেকে তাঁরা মুঠোফোনে স্বজনদের জানান, নিয়মিত খাবার দেওয়া হয় না। এক কক্ষে সবাইকে বন্দী রাখা হয়েছে। কোনো কাজ নেই। বাড়ি ফিরতে চাইলে মারধর করা হয়।
লিখিত বক্তব্যের পর স্বজনেরা বক্তব্য দেন। বক্তৃতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে কুষ্টিয়া থেকে আসা মা বানোয়ারা খাতুনের আকুতি, ‘আমার ছেলের জীবন ভিক্ষা চাই। আমি গরিব মানুষ বাবা, তাও টাকা-পয়সা চাই না। শুধু আমার কলিজারে ফেরত দেন।’
অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, সব নিয়মকানুন মেনে বৈধ পথে যাওয়ার পরও তাঁরা বিপদে আছেন। এটি কখনোই হতে পারে না। তাঁদের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। যাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, তাঁদের জবাবদিহি করতে হবে।
বিশিষ্ট আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, থানার ওসি থেকে শুরু করে রাষ্ট্রদূত পর্যন্ত সবার কাছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ধরনা দিয়েছে। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সব ভুক্তভোগী পরিবারের কথা শুনে মনে হচ্ছে, দেশ থেকে ইনসাফ চলে যাচ্ছে। গত ছয় মাসে সরকারের কোনো প্রতিষ্ঠান এসব মানুষের পাশে দাঁড়ায়নি। তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং ১৬ ডিসেম্বরের আগেই তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার সুস্পষ্ট পদক্ষেপ আশা করেন।

বিয়ের বয়স নিয়ে নারী আন্দোলন কর্মীরা মাঠে থাকবে

(আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম বয়স ১৮ নিশ্চিত করার দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনঅনুষ্ঠিত হয়) মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর করা না হলে নারী আন্দোলনের কর্মীরা মাঠে আছেন এবং মাঠে থাকবে। আজ বুধবার দুপুরে ৬৮টি নারী মানবাধিকার ও উন্নয়ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আন্দোলনের কর্মীরা। আইনে মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম বয়স ১৮ নিশ্চিত করার দাবিতে এ মানববন্ধন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সবাইকে সোচ্চার হওয়ারও আহ্বান জানানো হয়। আজ সামাজিক প্রতিরোধ কমিটির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, একই দাবিতে সারা দেশে একযোগে একই সময়ে এই মানববন্ধন কর্মসূচিটি পালন করা হয়।
রাজধানীতে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়শা খানম বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত বিস্মিত, দুঃখিত ও লজ্জিত এই কারণে যে, মেয়েদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৮ নিশ্চিত করার দাবিতে আমরা পথে নেমেছি। ১৯২৯ সালে যেখানে মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৮ করা হয়, সেখানে ২০১৪ সালে এসে সরকার কীভাবে নারীদের বিয়ের বয়স ন্যূনতম ১৬ করতে চায়, তাই আমাদের প্রশ্ন। সরকার যদি এই সিদ্ধান্তে অটল থাকে তাহলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।’
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের প্রতিনিধি রওশন জাহান বলেন, ‘আমাদের সম্মিলিত দাবি মেয়েদের বিয়ের বয়স যদি ১৮ করা না হয়, তাহলে আমরা পথে আছি এবং পথে থাকব।’

বরিশালে হেলথ টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলা

(ছবি:-২ বরিশাল শহরের বান্দরোডে আজ বুধবার ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচীতে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। ছবি: মো. সাইয়ান) (ছবি:-২ বরিশালে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজীর শিক্ষার্থীরা আজ বুধবার সকালে শহরের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সামনে দশ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশেরা শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে সড়িয়ে দেয়। এতে অনেকেই আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। ছবি: মো. সাইয়ান) বরিশালে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থীদের অবরোধ কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় পুলিশের তিন সদস্যসহ ২৬ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ১৪ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ বুধবার সকাল ১০টায় নগরের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বান্দরোডে ১০ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করতে চাইলে পুলিশ লাঠিপেটা করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সরকারি চাকরিতে ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদাসহ ১০ দফা দাবিতে তাঁরা বেশ কিছুদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। একই দাবিতে আজ সকাল ১০টার দিকে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে তাঁরা বান্দরোডে যান। পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষার্থীরা পুলিশকে লক্ষ্য ওপর ইটপাটকেল ছোড়েন। পরে পুলিশ তাঁদের বেধড়ক লাঠিপেটা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে একজন ছাত্রীসহ ১৪ শিক্ষার্থীকে।
বরিশাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছিলাম। পুলিশ বিনা উসকানিতে আমাদের ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়েছে।’
পুলিশের দাবি, আন্দোলনের নামে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি করেন। সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও তাঁরা শোনেননি। তাঁরা পুলিশের সঙ্গে বিরোধে জড়ান।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করা হলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হন। এ সময় তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। এতে পুলিশের সার্জেন্ট কামরুল ইসলাম ও কনস্টেবল বেলাল হোসেনসহ পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করে। আটক করা হয় ১৪ শিক্ষার্থীকে।

মুজাহিদের আপিল শুনানি ১৪ জানুয়ারি

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদের করা আপিলের শুনানি আগামী ১৪ জানুয়ারি শুরু হবে। আজ বুধবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ মুজাহিদের আপিল শুনানির এ তারিখ ধার্য করেন। মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে গত বছরের ১১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় আপিল করেন মুজাহিদ। মুক্তিযুদ্ধকালে বুদ্ধিজীবী নিধনের পরিকল্পনা ও সহযোগিতা করার দায়ে গত বছরের ১৭ জুলাই মুজাহিদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায় ঘোষণার ২৫ দিনের মাথায় আপিল করে আসামিপক্ষ। আপিলের পর মুজাহিদের আইনজীবী তাজুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেছিলেন, আপিলে আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদকে খালাসের আরজি রয়েছে। ১১৫টি যুক্তি তুলে ধরা হয়েছে। ৯৫ পৃষ্ঠার মূল আপিলের সঙ্গে তিন হাজার ৮০০ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালে মুজাহিদের বিরুদ্ধে মামলার রায়ে বলা হয়, মুজাহিদের বিরুদ্ধে গঠন করা সাতটি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছে। তৃতীয় অভিযোগে (ফরিদপুরের রণজিৎ নাথকে আটক রেখে নির্যাতন) আসামিকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও পঞ্চম অভিযোগে (নাখালপাড়া সেনাক্যাম্পে আলতাফ মাহমুদ, রুমী, বদি, আজাদ, জুয়েল হত্যাকাণ্ড) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ষষ্ঠ (বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড) ও সপ্তম অভিযোগে (বাকচরে হিন্দুদের হত্যা ও নিপীড়ন) মুজাহিদকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ষষ্ঠ অভিযোগের সঙ্গে প্রথম অভিযোগ (সাংবাদিক সিরাজুদ্দীন হোসেন হত্যা) একীভূত করায় এতে আলাদা করে শাস্তি ঘোষণা করা হয়নি। দ্বিতীয় ও চতুর্থ অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আসামিকে খালাস দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেল রপ্তানি করবে ভারত

পাইপ লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল রপ্তানি করবে ভারত। ভারতের ডেইলি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকা জানায়, ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডের একটি সহযোগি প্রতিষ্ঠান আসাম ভিত্তিক নুমালিগড় রিফাইনারী লি. খুব শিগগির পশ্চিমবঙ্গে শিলিগুড়ি থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুরে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পেট্রোল সরবরাহ কাজ শুরু করবে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহের অনুমোদন মিলেছে। এ লক্ষ্যে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে। এনআরএল হাইস্পীড ডিজেল (এইচএসডি) এবং মটর স্পিরিট বাংলাদেশে রপ্তানি করবে। কোম্পানির একজন মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পত্রিকা খবরে বলা হয়, এনআরএল এ বিষয়ে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই রিপোর্ট প্রস্তুত করছে। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই এটির কাজ সম্পন্ন হবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এনআরএল আগামী বছর থেকে নেপাল, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারে পেট্রোলজাত পণ্য রপ্তানি করবে। খবরে বলা হয়, তিনটি দেশই তাদের নিজ নিজ দেশে এই জ্বালানি তেল আমদানি করার প্রস্তাব দেয়। পত্রিকার খবরে কোম্পানির মুখপাত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, প্রতিবেশী তিনটি দেশে তাদের উৎপাদিত জ্বালানি তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হব। এনআরএল ইতোমধ্যেই বর্তমান পর্যায়ে জ্বালানি তেল তিন মিলিয়ন টন থেকে ৯ মিলিয়ন টনে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। বছরের গোড়ার দিকে এইচএসডি ও মটর স্পীরিট বিক্রয়ের জন্য নেপাল ভিত্তিক বিরাট পেট্রোলিয়াম প্রায়. লি. এর সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। উৎপাদিত পণ্য শিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল থেকে নেপালের বিরাটনগরে পাঠানো হবে।

দুর্নীতি বেড়েছে, গত বছরের চেয়ে ২ ধাপ অবনতি -ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশ ১৪তম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ। ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের এই অবস্থান। আজ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) প্রকাশিত দুর্নীতির ধারণা সূচকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৪’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ কথা জানান। দুর্নীতির এই ধারণা সূচক অনুযায়ী, সবচেয়ে কম দুর্নীতি হয় ডেনমার্কে। আর দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় সোমালিয়া ও উত্তর কোরিয়া যুগ্মভাবে শীর্ষে রয়েছে। তবে সিপিআই ২০১৪ এর ফলাফল অনুযায়ী মানের নিন্মক্রম অনুসারে দুর্নীতির ধারণা সূচকে গত বছরের চেয়ে ২ ধাপ অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। এই ধারণা সূচকে গতবছর বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬তম। এবছর ২ ধাপ কমে ১৪তম অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে রয়েছে আফগানিস্তান।

বাদ দেওয়ার আজব শর্ত by মানসুরা হোসাইন

(বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমীন সুলতানা জ্বরের কারণে তিন দিন মহড়ায় অংশ নিতে পারেননি। এ কারণে তাঁকে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ছবি: খালেদ সরকার) আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আজব এক শর্তের কারণে প্রতিবন্ধীদের অংশগ্রহণে বাধার সৃষ্টি হয়েছে। ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অন্যতম শর্ত রিহার্সেলে প্রতিদিন (৩০ দিনই) উপস্থিত থাকতে হবে। অক্ষরে অক্ষরে এ শর্ত পালন না করতে পারায় বাদ পড়েছেন অনেকে। বাদ পড়া প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কর্মরত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা প্রতিবন্ধীদের জন্য আনুষ্ঠানিকতা পালনের বেলায় এত কঠিন শর্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।  আজ বুধবার পালিত হবে ২৩তম আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস। সরকার এ দিবসে ‘জাতীয় প্রতিবন্ধী’ দিবস হিসেবেও পালন করে। এবার ১৬তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। আজ বিকেল তিনটায় দিবসটির অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ অনুষ্ঠানের জন্যই নির্বাচিত হওয়ার পরও অনেককে বাদ পড়তে হয়েছে শর্তপূরণের বাধ্যবাধকতার কারণে। অনুষ্ঠান আয়োজকদের সদস্য সচিব দিলারা সাত্তার বলেন, ‘শর্ত পূরণ করতে না পারায় অনেককে বাদ দিতে হয়েছে। অনুশীলন শুরুর আগেই সবাইকে বলে দেওয়া হয়েছে, প্রতিদিন উপস্থিত হতে পারলে তাঁরা অংশ নিতে পারবেন।’
দিলারা সাত্তার বলেন, ‘প্রতিবন্ধীরা প্রতিদিন উপস্থিত হতে পারবে না, তা ঠিক নয়। প্রতিবন্ধীদের মধ্যে যে মেধা আছে, তা আমরা তুলে ধরতে চাই। তাই প্রতিদিন আসতেই হবে। এ ছাড়া এ ধরনের শর্ত ওপর মহল থেকেই দেওয়া হয়েছে, আমার কিছু করার নেই।’
বাদ পড়াদের কথা
শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করছে হাই কেয়ার। এ প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল জুলেখা বেগম বললেন, ‘আমার প্রতিষ্ঠানের আটটি বাচ্চা নাচের জন্য নির্বাচিত হয়েছে। কিন্তু দুঃখের কথা হলো, তারা শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারছে না। কেননা “এক দিনও মিস করলে নেওয়া যাবে না”—এ শর্ত মানা কঠিন। প্রায় মাসব্যাপী রিহার্সেল হয়েছে। এখন বার্ষিক পরীক্ষার সময়। শর্ত মানা সম্ভব নয় বলে নিজেরাই আর বাচ্চাদের নিয়ে যাইনি। এতে বাচ্চাদের খুব মন খারাপ।’
বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শারমীন সুলতানা জ্বরের কারণে তিন দিন রিহার্সেলে যেতে পারেননি। জ্বরের কথা অপর একজন অংশগ্রহণকারীর মাধ্যমে জানানোর পাশাপাশি দিলারা সাত্তারকে ফোনও করেছিলেন তিনি। কিন্তু লাভ হয়নি। বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁকে। শারমীন সুলতানা বলেন, ‘অনেক শখ ছিল রাষ্ট্রপতির সামনে গাইব। আমাদের ব্যাপারে আপনারা (সমাজে সুস্থরা) যদি এত কড়াকড়ি করেন, তাহলে কেমনে চলবে?’
এ ব্যাপারে দিলারা সাত্তার বলেন, ‘অটিস্টিক বাচ্চারা যদি প্রতিদিন আসতে পারে, তিনি (শারমীন) দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে কেন পারবেন না? এ ছাড়া নাচের সঙ্গে তাঁর যে গান গাওয়ার কথা ছিল, তা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বাদ দিতে হয়েছে।’ অন্যদিকে শারমীন সুলতানা জানালেন, তাঁকে জানানো হয়েছে, তাঁর জায়গায় অন্য একজনকে নেওয়া হয়েছে। সেই একজনের সঙ্গে হলেও গান গাওয়ার একটু সুযোগ চাইলেও তা দেওয়া হয়নি।
এর আগেও দিবসের এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ উঠেছিল। সাভারে সালভেশন আর্মি ইন্টিগ্রেটেড চিলড্রেন সেন্টার প্রতিবন্ধী শিশুদের সঙ্গে স্বাভাবিক শিশুদের পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত একসঙ্গে পড়ানো হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘গত বছর চার দিন রিহার্সেলে যাই। বাচ্চাদের পরীক্ষার কথা জানাই। তখন বলা হয়, কালকে না আসতে পারলে আর আসবেন না। বাচ্চাদের পরীক্ষা বাদ দিয়ে তো আর যেতে পারি না। এবার তাই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কোনো প্রস্তুতিই নেইনি।’
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীরের ভাষ্য, এ ধরনের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন। অনুষ্ঠান আয়োজন-সংক্রান্ত সাংস্কৃতিক উপকমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন বলেন, ‘এ অভিযোগ সঠিক নয়। কেউ আমাকে কিছু জানায়নি। দিলারা সাত্তার অনেক কষ্ট করে অনুষ্ঠান সাজাচ্ছেন। কেউ তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ অভিযোগ করেছে। আর এটা নিউজ হওয়ার মতোও কোনো ঘটনা না।’

‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নামে বাংলাদেশে ক্রুসেড চলছে’ -ড. তুহিন মালিক

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী  ড. তুহিন মালিক  বলেছেন, বাংলাদেশ ভারতের কাছে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। শরীরের আকার বড় হলেও হাতি যেমন বনের রাজা হতে পারেনি, তেমনি ভারত আয়তনে যতই বড় হোক - বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভারতকে  রাজা মানবে না। রোববার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের ওয়াটার লিলি হলে সিটিজেন মুভমেন্ট ইউকে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। তুহিন মালিক বলেছেন, নাস্তিকদের সঙ্গে নিয়ে শেখ হাসিনা পুরো রাজনীতিটাকে কলুষিত করেছেন। যে নাস্তিকরা তার বাবাকে হত্যা করতে চেয়েছেন, তার বাবা মারা যাওয়ার পর ট্যাংকের ওপরে দাঁড়িয়ে উলঙ্গ নৃত্য করেছে, তার বাবার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বানাতে চেয়েছে; শুধুমাত্র ইসলামকে আঘাত করার জন্য এই নাস্তিকদের শেখ হাসিনা সঙ্গে রেখেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বাম পচলে হয় আওয়ামী লীগ আর আওয়ামী লীগ যখন পচে যায় তখন তার নাম হয় নাস্তিক।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আর ধর্মনিরপেক্ষতার নামে বাংলাদেশে ক্রুসেড চলছে।  আওয়ামী লীগ সরাসরি ধর্মের বিরুদ্ধে লেগেছে, ছদ্মবেশে তারা ধর্মযুদ্ধ চালাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা যে মুক্তিযুদ্ধ করেছি সেটা খন্ডিত মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শেষ হয়নি। নাস্তিক ও ইসলাম বিরোধীদের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে, এটাই আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। নিজেদের অস্তিত্বের কারণে এখন আমাদের এ লড়াই করতে হবে। তা না হলে আমাদের নতুন প্রজন্ম ভুলে যাবে যে এটা শাহজালাল আর শাহপরানদের দেশ; এটা আলেমদের দেশ, এটা দেওবন্দিদের দেশ। সেমিনারে ফরহাদ মাজহার বলেন, ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিলের স্বাধীনতা ঘোষণায় গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র আর অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নিয়ে যে ঐক্য গড়ে উঠেছিলো  আওয়ামী লীগ তা বিনষ্ট করেছে। এই ঐক্য বিনষ্টের ফলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়েছে। আমাদেরকে এই তিন নীতির ভিত্তিতে আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সেমিনারে সমবেত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ও প্রবাসী বাঙালীদের পক্ষে পাঁচ দফা প্রস্তাবনা পেশ করেন সিটিজেন মুভমেন্ট ইউকের আহ্বায়ক এমএ মালেক।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘন, ৫ই জানুয়ারীর প্রহসনের নির্বাচন,  বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ড, গুম,  দৈনিক আমার দেশ, দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিসিহ সকল বন্ধ গণমাধ্যম খুলে দেয়া এবং ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলের স্বাধীনতার ঘোষণা অনুযায়ী সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন বাংলাদেশকে গঠন করার আহ্বান জানান। সিটিজেন মুভমেন্ট ইউকের আহ্বায়ক এমএ মালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাহিদুর রহমান, মুফতি শাহ সদর উদ্দিন, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক মাওলানা সালেহ আহমেদ, উপদেষ্টা ব্যারিস্টার এমএ সালাম,  ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, শিক্ষাবিদ সৈয়দ মামনুন মোর্শেদ, মানবাধিকার কর্মী মনোয়ার বদরুদ্দোজা, ব্যারিস্টার নাজির আহমেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপির সহসভাপতি শাহ আখতার হোসেন টুটুল, আক্তার হোসেন, শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ইউকের চেয়ারম্যান শরীফুজ্জামান চৌধুরী তপন, বিএনপি নেতা প্রফেসর ফরিদ উদ্দিন, যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ চৌধুরী।

দেশে ফিরছেন সেই শারমিন

দীর্ঘ ভোগান্তির পর লেবানন থেকে আজ দেশে ফিরছেন প্রতারিত শারমিন আক্তার। সকাল ১০টায় এয়ার অ্যারাবিয়ানের একটি ফ্লাইটে তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবেন। বিমানবন্দর থেকেই তাকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হবে পঙ্গু হাসপাতালে। এর আগে গত ৬ মাস ধরে লেবাননের একটি হাসপাতালে যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন তিনি। এদিকে তাকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লেবানন পাঠালেও আজ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশনের বিরুদ্ধে। এমন কি শারমিনকে ফেরত আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও কোন উদ্যোগ নেয়নি এজেন্সিটি। স্বামী পরিত্যক্তা শারমিন আক্তার ভাগ্য বদলের আশায় গত ৩০শে এপ্রিল রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স বাংলাদেশ এক্সপোর্ট করপোরেশনের মাধ্যমে পাড়ি জমিয়েছিলেন লেবাননে। এজেন্সি তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গৃহকর্মীর কাজ দেয়ার। কিন্তু সে দেশে পা রেখেই শারমিন বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়েছেন। লেবাননে বসবাসকারী এজেন্সির প্রতিনিধি নিপা নামে বাংলাদেশী এক মহিলা তাকে কাজে নিয়ে যান। কয়েকদিন কাজ করার পর তাকে আটকে রাখা হয়। তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। অমানুষিক নির্যাতন সইতে না পেরে শারমিন ওই বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। পালানোর সময় তিনি সে দেশের ফাইদা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ডা. মনজের আল হাজ্ব হাসপাতালে ভর্তি করেন। তখন থেকেই শারমিন সেখানে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন। শাহিদা নামে এক বাংলাদেশী ওই হাসপাতালে চাকরি করেন। তিনি ফোনে শারমিনের স্বজনদের জানান, তাকে এতদিন হাসপাতালের মালিক নিজ খরচে চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। কিন্তু এখন আর অতিরিক্ত খরচ বহন করতে তিনি রাজি নন। এমনকি বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে পুলিশে হস্তান্তরেরও হুমকি দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সব মিলে সেখানে বকেয়া হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা। এব্যাপারে গত ২৯শে অক্টোবর মানবজমিন-এ একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ড আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থার কাছে চিঠি দেয়। কল্যাণ বোর্ডের পরিচালক (প্রশাসন ও উন্নয়ন) উপ-সচিব ড. মো. জিয়াউদ্দিন জানান, আমরা আর্থিক সাহায্য চেয়ে বিভিন্ন এনজিও ও দাতা সংস্থার কাছে চিঠি দিই। কিন্তু বর্তমান শারমিনকে দেশে ফেরত পাঠাতে বিপুল পরিমাণ এই অর্থ কে বহন করেছে- এ ব্যাপারে তিনি নির্দিষ্ট করে কিছু জানাতে পারেন নি। তবে তিনি বলেন- বিভিন্ন সংস্থা এবং স্থানীয় দাতারা ওই অর্থের যোগান দিয়েছেন। রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যাপারে তিনি বলেন, ইতিপূর্বে বিষয়টি অবহিত করে বিএমইটিকে চিঠি দেয়া হয়েছে কিন্তু সেখান থেকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে সে ব্যাপারে তারা কিছু জানাননি। গত ১২ই নভেম্বর এজেন্সির দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে একটি চিঠিও দেয় ওয়েজ আনার্স কল্যাণ বোর্ড। এ ব্যাপারে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক যুগ্ম-সচিব মো. গোলাম মোস্তফা খান বলেন, এ ব্যাপারে আমরা খুবই সতর্ক। কেউ কোন এজেন্সির দ্বারা প্রতারিত হলে ওই এজেন্সিকে ছাড় দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ওই এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া, গত ১৭ই নভেম্বর কর্মী ও নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে শারমিনকে দেশে ফেরত পাঠাতে পরিচালকের (কর্মসংস্থান) পক্ষ থেকে অনারারি কনসাল জেনারেলকে একটি চিঠি দেয়া হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ই সেপ্টেম্বর কর্মী ও নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে শারমিনকে দেশে ফেরত আনতে এজেন্সিকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলেও এ ব্যাপারে তারা অবহিত করেননি। শারমিনের ভগ্নিপতি কিসমত জানান, বোনটিকে ফেরত আনতে তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। সরকারি লোকজনও তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছেন। তিনি আরও বলেন এজেন্সি প্রথমে তাদের নিজ খরচে শারমিনকে দেশে ফেরত আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও কথা রাখেনি। কিভাবে তার চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহ করবেন তা-ও জানেন না তিনি।

এমআরপি বন্ধ মালয়েশিয়ায় by দীন ইসলাম

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) প্রদান কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ওই দেশে নিয়োগকৃত আউটসোর্সিং কোম্পানি ডাটাএজ-আইপিপল কনসোর্টিয়াম তাদের কাজটি সাব-কন্ট্রাক্ট দেয়ার কারণেই এমন সমস্যা তৈরি হয়েছে। এই কন্ট্রাক্ট বাতিল করে মূল কোম্পানি। এরই মধ্যে বিষয়টি সমাধানে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর মালয়েশিয়ায় নিয়োগকৃত আউটসোর্সিং কোম্পানি ডাটাএজ-আইপিপল কনসোর্টিয়ামকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। গত ৩রা নভেম্বর অতিরিক্ত সচিব (বহিরাগমন ও নিরাপত্তা)-এর সভাপতিত্বে এমআরপি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এরপরও বিষয়টির সুরাহা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই বৈঠকে উপস্থিত এক সদস্য জানান, মালয়েশিয়াতে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে এমআরপি প্রদান গত ২৬শে অক্টোবর পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল। এ তারিখের পর কোন ধরনের ডাটা এনরোলমেন্ট অনলাইন সফটওয়্যার-এ আসেনি। ফলে আউটসোর্সিং সংক্রান্ত সব ধরনের কাজ স্থবির হয়ে যায়। মালয়েশিয়াতে পাসপোর্ট বিতরণ না হওয়ায় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ বিষয়ে ওই দিনের বৈঠকে উপস্থিত বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুল মাবুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এমআরপি নিয়ে সৃষ্টি হওয়া সমস্যা সাময়িক। খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিষয়টি সমাধান হবে। আউটসোর্সিং কার্যক্রম আগের মতো চালু হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। এরপরও মালয়েশিয়াতে আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে এমআরপি কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সমাধানের পথে রয়েছে। আমরা আউটসোর্সিং কোম্পানিকে সাব-কন্ট্রাক্ট কোম্পানির ‘কন্ট্রাক্ট বাতিল আদেশ’ প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছি। আশা করছি, কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে মালয়েশিয়াতে বসবাসরত ৬ লাখ বাংলাদেশীকে এমআরপি দিতে ডাটাএজ-আইপিপল কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি করে সরকার। গত ১২ই ফেব্রুয়ারি সই করা চুক্তিতে বলা হয়, তারা মালয়েশিয়ার আটটি প্রদেশে পাসপোর্ট দেয়ার জন্য আবেদন ও বিতরণ কেন্দ্র খুলবে। সেখান থেকেই এমআরপি দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশী শ্রমিকদের সুবিধার জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়। পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যৌথ কোম্পানিটি এমআরপি’র কাজ পাওয়ার পর তারা মালয়েশিয়ার আটটি রাজ্যে আধুনিক তালিকাভুক্তকরণ কেন্দ্র স্থাপন করে। এ কেন্দ্রগুলোতে ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন খোলা থাকলেও সেখান থেকে কোন সেবা দেয়া যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে আবেদন জমা নেয়ার পর ওই সব আবেদনের একটি কপি অনলাইনের মাধ্যমে ঢাকার বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দেয়ার কথা। কিন্তু ঢাকায় এমআরপি দেয়ার কাজটি করছে ডি লা রুই ইন্টারন্যাশনাল নামে পোল্যান্ড ভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। আর সফটওয়্যার তৈরির কাজটি করছে আইরিশ নামের একটি কোম্পানি। কিন্তু তারা ঠিক সময়ে সফটওয়্যার তৈরি করে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরকে দিচ্ছে না। তাই এমআরপি তৈরিতে সফটওয়্যার সংক্রান্ত সহায়তা দেয়ার প্রতিষ্ঠান মালয়েশীয় আইরিশ করপোরেশনের গাফিলতির কারণে শুরুর দিকে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। এ কারণে ঢাকায় মালয়েশিয়ার আউটসোর্সিং কোম্পানির ডাটা ট্রান্সফার করে ঢাকায় প্রিন্ট দেয়া অনেক দিন বন্ধ ছিল। এদিকে মালয়েশিয়াতে দূতাবাস কর্মকর্তারা প্রায় ৬০ হাজার এমআরপি এ পর্যন্ত নিজেরা ইস্যু করতে পেরেছে। দূতাবাসের এমআরপি কার্যক্রম সরকার নির্ধারিত ফি ১১৬ রিঙ্গিতেই চালু রয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানটি আউট সোর্সিং হিসেবে তথ্য সংগ্রহ ও পাসপোর্ট বিতরণের কাজ করবে সারা মালয়েশিয়ার বাংলাদেশী অধ্যুষিত ৮টি স্থানে। বাকি কাজ করবে কুয়ালালামপুর দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পাসপোর্ট অধিদপ্তর। এসব কার্যক্রম বাস্তবায়নে অনেকটা তালগোল পাকিয়ে ফেলা হয়েছে। এদিকে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অনেক বাংলাদেশীর পাসপোর্টের মেয়াদ গত ২৪শে নভেম্বর থেকে অকার্যকর হয়ে গেছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এমআরপি না পাওয়ায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা রয়েছেন অনিশ্চয়তায়। এদিকে ২০১২ সালে এমআরপি প্রস্তুতের দায়িত্ব পায় একটি যৌথ অংশীদার প্রতিষ্ঠান। আইরিশ করপোরেশন এ কাজটি না পাওয়ায় তারা নানাভাবে এমআরপি’র কাজে অসহযোগিতা করে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আইরিশের সফটওয়্যার ও সিস্টেমের সঙ্গে যৌথ অংশীদার প্রতিষ্ঠানটির সফটওয়্যার ও সিস্টেম সমন্বয় করা দরকার হলেও, নানা অজুহাত দেখিয়ে সব কাজেই দেরি করছে আইরিশ। সমন্বয় কার্যক্রম এখনও অসম্পূর্ণ থাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসগুলো থেকে এমআরপি ইস্যু করা এখনও সম্ভব হচ্ছে না। এমআরপি না পাওয়া ওই ৩৩ জেলার জনসাধারণকে এখন অন্য জেলা কার্যালয়ের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। এ নিয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ও চিন্তার মধ্যে রয়েছে।

সিপিডি’র উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন বাণিজ্যমন্ত্রীর

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায় বিশেষ উদ্দেশ্য আছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। তিনি বলেন, তাদের গবেষণায় উদ্দেশ্য আছে এজন্য যে, বিশ্বের সবাই যখন বলছে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল, তখন এই গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি নেগেটিভ কথা বলছে। প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, সিপিডি কি বিশ্বব্যাংকের গবেষণার চেয়েও চেতা? গতকাল সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। গত ২৭শে নভেম্বর প্রকাশিত সিপিডির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের বের হয়ে আসা সম্ভব নয়। এজন্য এখন থেকে আগামী এক দশকেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে।
বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব বিদেশে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি তুলে ধরা। আমরা যখন তা তুলে ধরছি, তখন কতকগুলো সংগঠন নেগেটিভ তথ্য তুলে ধরছে। সিপিডির বক্তব্যে অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘উদ্দেশ্য তো আছেই। তবে কি উদ্দেশ্য জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, তা আমি বলবো না। তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে যখন বিদেশী পত্র-পত্রিকা লিখছে তা সিপিডির চোখে পড়ে না। এরপর বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিপিডির বক্তব্য দুঃজনক।
এদিকে গতকাল বাণিজ্যমন্ত্রী বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়ানের রাষ্ট্রদূত পিয়ারি মেয়াওডন-এর সঙ্গে মতবিনিময়কালে বলেন, ইরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাকের পাশাপাশি ঔষধ, জাহাজ এবং আইসিটি আমদানি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশী পণ্য আমদানি ও সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশস্থ ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ভুক্ত দেশসমূহের রাষ্ট্রদূত এবং সংশ্লিষ্ট চেম্বার অব কমার্সসমূহের ব্যবসায়িক নেতাদের সমন্বয়ে ‘ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বিজনেস কাউন্সিল’ গঠন করবে। এতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সঙ্গে  বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করা সহজ হবে। মন্ত্রী বলেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশের বিশ্বস্ত  বন্ধু। বাংলাদেশের বর্তমান মোট রপ্তানি ৩০.১৯ বিলিয়ন ডলার। এর অর্ধেকের বেশি রপ্তানি হয় ইরোপিয়ান ইউনিয়নে। ভবিষ্যতে সেখানে রপ্তানি আরও বাড়বে। এজন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ এবং ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করতে আগ্রহী। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও)-এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন বাংলাদেশকে ডিউটি ফ্রি ও কোটা ফ্রি সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে  ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাণিজ্য ক্ষেত্রে যে কোন বিষয়ে সহযোগিতা  প্রদান এবং অর্থনৈতিক কর্মকা- বৃদ্ধিতে আগ্রহী। তোফায়েল আহমেদ বলেন, রপ্তানি পণ্য সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির উদ্যোগকে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন স্বাগত জানিয়েছে।

মালয়েশিয়া সফরে প্রধানমন্ত্রী

তিন দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া গেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মাদ নাজিব বিন তুন হাজী আবদুল রাজাকের আমন্ত্রণে তিনি এ সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইট স্থানীয় সময় বিকাল ৩টা ৫৫ মিনিটে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মালয়েশিয়ার মানব সম্পদ বিষয়ক উপমন্ত্রী শ্রী হাজী ইসমাইল আব্দুল মুত্তালিব ও মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনার একেএম আতিকুর রহমান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে প্রধানমন্ত্রীকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে হোটেল গ্র্যান্ড হায়াত কুয়ালালামপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সফর চলাকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, তিন বাহিনীর প্রধানগণ, কূটনীতিক কোরের ডিন এবং উচ্চ পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা ঢাকায় বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। বুধবার প্রধানমন্ত্রী গ্র্যান্ড হায়াত বল রুমে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সুবিধা বিষয়ক একটি সংলাপে যোগ দেবেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ী নেতারা বৈঠকে অংশ নেবেন। বিকালে পুত্রজায়ার পারদানা স্কয়ারে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করবেন। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার সঙ্গে দু’টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে। সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত এক নৈশভোজ সভায় তিনি যোগ দেবেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা।

ছবিই সান্ত্বনা by কাজী সুমন

দুই বছরের শিশু মিসবাহ। কচি কণ্ঠে বাবা ডাক ফুটতে শুরু করেছে। আধো আধো উচ্চারণে ‘বাবা বাবা’ ডাকছে। কিন্তু অবুঝ শিশুটি জানে না-তার বাবা বেঁচে আছেন নাকি মারা গেছেন। অসহায় মায়ের চোখ থেকে গাল গড়িয়ে ঝরে ফোঁটা ফোঁটা অশ্রু। চাপা কষ্ট বুকে নিয়ে বাবার ছবি দেখিয়ে ছেলেকে সান্ত্বনা দেন মা। গত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে গুম হওয়া মাহবুব হাসান সুজনের পরিবার গত এক বছর ধরে বয়ে বেড়াচ্ছেন এমন যন্ত্রণা। গত বছরের ৭ই ডিসেম্বর রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার নয়াকান্দি গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে যায় বন্ধু ফরহাদসহ সুজনকে। এরপর র‌্যাব সদর দপ্তর, মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব কার্যালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নেন তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান মেলেনি। এরপর থেকে ভয়ে মামলা করারও সাহস পাননি সুজনের পিতা আবদুল জলিল খান। সবুজবাগের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট ফুটফুটে মিসবাহ ঘরময় ছুটোছুটি করছে। কখনও মায়ের কোলে, কখনও দাদার কোলে লুটিয়ে পড়ছে। আবার কখনও পাঁচবছর বয়সী বোন মাইমুনা তাসনিম জেবার সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠছে। আপন মনে ‘বাবা, বাবা’ বলে ডাকছে। গুম হওয়া সুজনের মেয়ে জেবা বলে, ৭ই ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১১টায় বাবা যখন মাকে ফোন করেছিল তখন আমি ফোন রিসিভ করেছিলাম। ভাত খেয়েছেন কিনা বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। এটাই ছিল বাবার সঙ্গে শেষ কথা। তবে এখনও স্বামীর আশা ছাড়েননি সুজনের স্ত্রী তানজিনা আক্তার। তিনি বলেন, কান্না ছাড়া আমার আর কিছু নেই। এখনও স্বামীর অপেক্ষায় আছি। গত একটি বছর কেটেছে দুঃসহ যন্ত্রণায়। তানজিনার মতোই স্বামীর ফিরে আসার আশায় বুক বেঁধে আছেন সুজনের সঙ্গে গুম হওয়া সবুজবাগ থানার ২৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি কাজী ফরহাদের স্ত্রী ফারিয়া আক্তার রিয়া। তিনি বলেন, আমার স্বামী যেদিন গুম হন তখন একমাত্র কন্যা ফারহিমা আক্তারের বয়স দুই মাস ১০ দিন। এখন তার বয়স প্রায় ১৪ মাস। কিন্তু ১০ মাস বয়স থেকেই সে বাবা ডাক শুরু করেছে। তিনি বলেন, মেয়েকে মিথ্যা সান্ত্বনা দিলেও নিজের মনকে আর সান্ত্বনা দিতে পারি না। তবে এখনও আশায় আছি। আল্লাহ যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখে তাহলে একদিন ফিরে আসবে। স্বামীকে হারিয়ে অথৈ সাগরে পড়েছেন বংশাল থানার ৭১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ হোসেনের স্ত্রী ফারজানা। স্বামী গুম হওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় পরিবারের অর্থ যোগানের উৎস। অবুঝ দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে ওঠেন বাবার বাড়িতে। চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। ফারজানা আক্তার বলেন, গত বছরের ২রা ডিসেম্বর রাজধানীর শাহবাগ থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যায় পারভেজ হোসেনকে। এরপর র‌্যাব সদর দপ্তরসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কোথাও তার সন্ধান পাইনি। এরপর বংশাল থানায় জিডি করেছি। তিনি বলেন, স্বামী যখন গুম হন তখন ছেলে আরাব হোসেন ছিল গর্ভে। পিতা যেমন দেখে যেতে পারেননি সন্তানের মুখ তেমনি সন্তান দেখতে পারেনি জন্মদাতা পিতাকে। এখন আরাবের বয়স চার মাস। নিষ্পাপ শিশুটি বাবার শূন্যতা বুঝতে না পারলেও বুঝতে শিখেছে তিন বছর বয়সী কন্যা আদিবা ইসলাম। কেউ মোবাইলে ফোন করলেই সে বলে, বাবা ফোন করেছে। বাবা চাঁদে গেছে, চলে আসবে- এই বলে মেয়েকে সান্ত্বনা দেই। বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে ফারজানা বলেন, গত একটি বছরের প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে স্বামীর অপেক্ষায়। এখনও আশায় আছি, স্বামী ফিরে আসবে। আর্থিক দৈন্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজনীতি করার জন্য স্বামী গুম হলেও দলের কেউ আমার পরিবারের খোঁজ রাখেনি। পারভেজ যখন গুম হন তখন আমি ৮ মাসের গর্ভবতী। সিজারের সময় সাবেক মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ২০ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য দেন। এরপর আর কেউ খোঁজ নেননি। অর্থাভাবে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে উঠেছি। দুই সন্তানের ভরণ-পোষণ চালাতে চরম হিমশিম খাচ্ছি। ৪ঠা ডিসেম্বর আমেরিকান দূতাবাসের সামনে থেকে গুম হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান রানা। বাসার কলিংবেল বাজলেই বুক কেঁপে ওঠে বড় বোন মিনারা বেগমের। তিনি বলেন, আমার ভাইয়ের শোকে বাবা-মা পাগলপ্রায়। রংপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে প্রতিদিনই ফোন করে জিজ্ঞেস করে রানার কোন খোঁজ পেয়েছি কিনা। অনেক সময় বলি, চলে আসবে। আবার অনেক সময় কোন উত্তর দিতে পারি না। তিনি বলেন, রানা আমার বাসায় থাকতো। ওর নামে থানায় একটি জিডিও ছিল না। কি অপরাধে আমার ভাইকে গুম করা হলো? তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে উঠে সংবাদপত্রগুলোতে খুঁজি কোথাও আমার ভাইয়ের খবর আছে কিনা। টেলিভিশনের শিরোনামগুলো দেখি। আমার বাসায় কলিংবেল বাজলেই মনে হয়- এই বুঝি আমার ভাই এসেছে। এভাবেই দুঃসহ যন্ত্রণায় গত একটি বছর কেটেছে। এখনও আশায় আছি- আমার ভাই একদিন ফিরে আসবে।
গত বছরের প্রায় কাছাকাছি সময়ে রাজধানী থেকে গুম হন ১৯ জন। ২০১০ সালের ২৫শে জুন রাতে রাজধানীর ইন্দিরা রোড থেকে ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৫৬ নং ওয়ার্ড কমিশনার ও বিএনপি নেতা চৌধুরী আলমকে সাদা পোশাকের কিছু লোক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ পাঁচ বছরেও তার সন্ধান মেলেনি। ২০১০ সালের ৮ই নভেম্বর গাজীপুর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে বিএনপি নেতা ও চট্টগ্রামের করলডেঙ্গার ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বাচাকে সাদা পোশাকে অপহরণ করা হয়। এরপর  থেকে তারও সন্ধান মেলেনি। ২০১০ সালের ২৩শে নভেম্বর বরিশালের উজিরপুরের বিএনপি নেতা হুমায়ুন খান রাজধানীর মালিবাগ থেকে নিখোঁজ হন। এরপর ২০১২ সালের ৪ঠা ফেব্রুয়ারি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী ছাত্র আল-মোকাদ্দেস ও ওয়ালিউল্লাহকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার পথে হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে র‌্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকে তারা নিখোঁজ। ২০১২ সালের ১লা এপ্রিল রাজধানীর উত্তরা থেকে নিখোঁজ হন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার। ২০১২ সালের ১৭ই এপ্রিল গুমের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে। ওই দিন নিখোঁজ হয়ে যান সিলেট জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক  মো. আনসার আলী। ওই দিন রাত সোয়া ১২টার দিকে নিজের বাসায় ফেরার পথে বনানীর ২ নম্বর সড়ক থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যায়। ২০১৩ সালের ২৩শে জুন নিখোঁজ হন খুলনার নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বিবিএ’র দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র আল-আশিক নির্মাণ। গত বছরের শেষের দিকে বিরোধী জোটের আন্দোলন শুরু হলে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া হয়। ওই বছরের ২৭শে নভেম্বর কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি সাইফুল ইসলাম হিরু ও পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ গুম হন। ওই দিন তারা দলের আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিতে এম্বুলেন্সে করে কুমিল্লা হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। পথে আলীশ্বর এলাকা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। ২৮শে নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজনৈতিক সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে গুম হন ঢাকা মহানগর ছাত্রদলের ৫ কর্মী। তারা হলেন- সূত্রাপুর থানা ছাত্রদল সাংগঠনিক সম্পাদক সম্রাট মোল্লা, ৭৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি খালেদ হাসান সোহেল, ৭৮ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদল সভাপতি আনিসুর রহমান খান, একই ওয়ার্ডের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব ও ৮০ নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিক দল সম্পাদক মিঠু। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আনিসুর রহমান, বিপ্লব ও মিঠুকে ছেড়ে দেয়। কিন্তু এখনও খোঁজ  মেলেনি সম্রাট ও খালেদের।
২রা ডিসেম্বর বংশাল থানা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. সোহেল, বিএনপি নেতা মো. হোসেন চঞ্চল, বংশাল ৭১ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. পারভেজ, একই ওয়ার্ডের ছাত্রদল নেতা মো. জহির শাহবাগ এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। ৪ঠা ডিসেম্বর বসুন্ধরা (আই ব্লক, রোড নং-৪, বাড়ি নং-৪১৪) এলাকা থেকে রাজধানীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন, একই ওয়ার্ডের নেতা তানভীর, ছাত্রদল নেতা আসাদুজ্জামান রানা, মাজহারুল ইসলাম রাসেল ও আল-আমিনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। একইদিন রাত আড়াইটার দিকে তেজগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা কাউসার ও এসএম আদনান চৌধুরীকে শাহীনবাগের বাসা থেকে র‌্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের খোঁজ  মেলেনি। ৬ই ডিসেম্বর তেজগাঁও কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম রাজধানীর দক্ষিণ খান এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। ১১ই ডিসেম্বর সূত্রাপুর থানা ছাত্রদল সভাপতি সেলিম রেজা পিন্টু পল্লবী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। ১৯শে ডিসেম্বর ৫৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক সোহেল ও রানা হাইকোর্ট এলাকা থেকে নিখোঁজ হন। গত এক বছর ধরে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলো অপেক্ষায় আছে, কবে ফিরবে তার স্বজন। এ ঘটনায় কোন কোন ক্ষেত্রে থানায় মামলা বা জিডি হলেও এ সবের তদন্তেরও কোন অগ্রগতি নেই বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।