Friday, September 19, 2014

সাঈদীর রায়ে সরকার লাভবান হয়েছে -মনে করে জামায়াত by সেলিম জাহিদ

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে সরকারই সবচেয়ে লাভবান হয়েছে বলে মনে করে জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতা–কর্মীদের মতে, আমৃত্যু কারাদণ্ড মৃত্যুদণ্ডেরই কাছাকাছি। কিন্তু এ রায়ের পর সরকারের সঙ্গে আঁতাতের রটনা রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে জামায়াতকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার দলটির কেন্দ্রীয় ও মধ্যম সারির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জামায়াতের ভেতরকার এ পর্যালোচনার কথা জানান। তবে তাঁদের কেউই উদ্ধৃত হয়ে কথা বলতে রাজি হননি।
দলীয় একাধিক সূত্র জানায়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ডের রায়ে জামায়াতের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মী ‘অসন্তুষ্ট’ ও ‘ব্যথিত’। তবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকলে নেতা-কর্মীদের মনে যে ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হতো, এ রায় তাতে অনেকটাই ছেদ ঘটিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে গতকালের হরতালেও।
এই ‘বেদনা’ ও ‘অসন্তুষ্টির’ মধ্যে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব এখন ‘বিব্রত’ রায়ের পর সরকারের সঙ্গে আঁতাতের গুজবে। গত দুদিনে রাজনীতি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরছে সরকারের সঙ্গে ‘সমঝোতা’ করেছে জামায়াত।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী অনেকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আঁতাত করে জামায়াত কাদের মোল্লার ফাঁসি, সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড, শীর্ষ নেতাদের ফাঁসির আদেশ পেয়েছে। শত-সহস্র নেতা জেলে গেছে, পঙ্গু হয়েছে, নিষিদ্ধ না হয়েও জামায়াতের সব কার্যালয়ে তালা ঝুলছে। এর চেয়ে নির্মম আঁতাতকারী পৃথিবীতে আর কে আছে!’
আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি জামায়াতের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতার কথা অস্বীকার করে আসছেন।
জামায়াত মনে করে, সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণা নিয়ে এত দিন বেশ চাপে ও অস্বস্তিতে ছিল সরকার। বিশেষ করে ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডাদেশের পর সারা দেশে যে রক্তক্ষয়ী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, একই সাজা আপিল বিভাগে বহাল থাকলে সে পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে সরকার শঙ্কায় ছিল। এ পরিস্থিতি এড়ানোর কৌশল খুঁজছিল সরকার। এখন আপিল বিভাগের রায়ে সরকার সে সুযোগ পেয়েছে। এ রায়ের ফলে সরকার এক ঢিলে দুই পাখি মেরেছে। সাঈদীর মৃত্যুদণ্ডের কাছাকাছি সাজা হয়েছে। আবার সরকার রাজনৈতিকভাবে ‘স্বস্তিদায়ক’ অবস্থান পেয়েছে। জামায়াত মনে করে, সাঈদীর মৃত্যুদণ্ড হয়নি, কিন্তু তাতে দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামী বা ব্যক্তিগতভাবে সাঈদী—কেউই লাভবান হননি। কারণ, আমৃত্যু তাঁকে কারা প্রকোষ্ঠেই থাকতে হবে।
জামায়াতের নীতিনির্ধারকদের মূল্যায়ন হচ্ছে, বরং আপিল বিভাগের এ রায় জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে বড় ধরনের ‘সন্দেহ’ এবং ‘প্রশ্নের’ মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে, দলের প্রধান রাজনৈতিক মিত্র বিএনপির নেতাদের বড় একটি অংশের ভেতর এত দিন ঘুরপাক খাওয়া ‘সন্দেহ’ এখন ভিত্তি পেতে পারে। পাশাপাশি সরকারের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে জামায়াতের মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। এতে শেষ বিচারে দলই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জামায়াতের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায় দলের নীতিনির্ধারকদের মনোবলের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। কারণ, দলের নেতা-কর্মীরা মনে করতেন, মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারাধীন বা সাজা পাওয়া দলের নেতাদের মধ্যে সাঈদী ‘একেবারেই নির্দোষ’। এমনকি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ, সাক্ষ্য ও তথ্য-উপাত্তকে ‘দুর্বল’ বলে মনে করতেন তাঁরা।
এ ছাড়া সারা দেশে ওয়াজ-মাহফিলের কারণে দলের বাইরেও সাঈদীর অনুরাগী ও বড় সমর্থক গোষ্ঠী রয়েছে। তাঁর বড় ধরনের সাজা হলে বিরূপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সব মিলিয়ে দলটির নেতারা আশাবাদী ছিলেন যে সাঈদীর বড় ধরনের কোনো সাজা হবে না। কিন্তু তাঁর আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ নেতাদের হতাশ করেছে। এখন তাঁরা মনে করছেন, বিচারাধীন অন্য নেতাদের সাজা আরও কঠোর হবে।

Thursday, September 18, 2014

আ.লীগ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে দ্বিধান্বিত: ইমরান

বর্তমান আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আওয়ামী লীগ নয়, বরং বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে যে রাজনীতি শুরু হয়েছিল, তারা সে রাজনীতিই করছে।
আজ বৃহস্পতিবার শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার। তিনি বলেন, ‘বলতে বাধ্য হচ্ছি, আজকে এই সরকার, এই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে পঁচাত্তরের পর যে রাজনীতি শুরু হয়েছিল, সেই রাজনীতি করে যাচ্ছে। এ কারণেই তাঁরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার ক্ষেত্রে সব সময় দ্বিধান্বিত।’
ইমরান বলেন, ‘বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতাও “মহান” সংসদ নিয়েছেন। কিছুদিন আগেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তিনি বাদে সবাইকে টাকা দিয়ে কেনা যায়। তার মানে অপেক্ষা করছি, যাঁদের টাকা দিয়ে কেনা যায়, তারাই ভবিষ্যৎ​ বিচারকদের নিয়োগ দেবেন।’
বিকেল চারটা থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সমাবেশে বিভিন্ন বাম এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা যোগ দেন। তাঁরা স্লোগান তোলেন, ‘দেইল্লা চোরার ফাঁসির রায়, বেইচা দিলি কয় টাকায়’, ‘রং বেরংয়ের দালালেরা, হুঁশিয়ার সাবধান’।

সমাবেশের সময় গণজাগরণ মঞ্চের কামাল পাশা চৌধুরী-সমর্থিত অংশটির নেতারা জাদুঘরের সামনে উত্তর পাশে উপস্থিত থাকলেও তাঁরা আলাদা কোনো কর্মসূচি পালন করেননি। তবে বেলা ১১টার দিকে ‘শাহবাগ আন্দোলন’ ব্যানারে দুই অংশের বাইরে পাঁচটি বাম ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সাঈদীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ করেন। সন্ধ্যায় তাঁরা শাহবাগ থেকে মশাল মিছিলও করেছেন।
গণজাগরণ মঞ্চের সমাবেশে যুব ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান বলেন, সাঈদীর এমন একটি রায় দেওয়া হয়েছে যাতে জনগণের করের টাকায় তাঁকে সারা জীবন পুষতে হয়। স্বৈরাচারী এরশাদ ও জিয়ার সংসদেও এমন কেউ ছিল না, যারা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলতেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ধিক্কার জানাই এই সংসদে এমন কেউ নেই যে বাংলাদেশের মানুষের কণ্ঠের প্রতিধ্বনি করতে পারে।’
ইমরান এইচ সরকার সংবিধানের ৪৯ ধারার সমালোচনা করে বলেন, এই ধারা অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি যেকোনো অপরাধীকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। অতীতে রাজনৈতিকভাবে চিহ্নিত অপরাধীদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই যাতে যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষেত্রে এ ধারা ব্যবহার করা না যায়, সে জন্য এই ধারা বাতিল করতে হবে।
সাংসদদের সমালোচনা করে ইমরান বলেন, ‘যখন যুদ্ধাপরাধীরা নানা রকম তাণ্ডব করে, বিচার যখন রাতের অন্ধকারে পরিবর্তন হয়ে যায়, তখন কিন্তু সাংসদদের দেখি না বক্তব্য দিতে। গতকালকে দেখলাম এই সাংসদরা, মন্ত্রীরা অনেকে হাততালি দিয়েছেন। বলেছেন, খুব ভালো রায় হয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নেতারাও এই রায়কে সাদরে গ্রহণ করে নিয়েছেন।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের দপ্তর সম্পাদক নাসিরউদ্দিন প্রিন্স বলেন, বিচারপতিদের অভিশংসনের ক্ষমতা সংসদের হাতে নেওয়ার মাধ্যমে তাদের ন্যূনতম যে স্বাধীনতা ছিল, তা-ও হরণ করা হয়েছে। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে সম্প্রচার নীতিমালা করা হয়েছে।
সমাবেশে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম জিলানি, ব্লগার আরিফ জেবতিক, উদীচীর সহ সাধারণ সম্পাদক জমশেদ আনোয়ার প্রমুখ বক্তব্য দেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন ব্লগার মারুফ রসূল।
কাল শুক্রবার বিকেল চারটায় শাহবাগে গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের প্রকৃত অবস্থা দেখেন -প্রধানমন্ত্রীর প্রতি বিরোধীদলীয় নেতা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেশের মানুষের প্রকৃত অবস্থা দেখে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। আজ বৃহস্পতিবার দশম সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে সমাপনী দিনের বক্তৃতায় তিনি এ আহ্বান জানান। রওশন এরশাদ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘একদিন বের হয়ে দেখেন। মানুষ কীভাবে বেঁচে আছে। আপনাকে এ বিষয়ে কেউ বাস্তব কথা বলবে না। সবাই গা বাঁচিয়ে চলবে। আপনাকে নিজের চোখে গিয়ে দেখতে হবে।’

রওশন এরশাদ আরও বলেন, ‘আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা। আপনি দেশের কথা, জনগণের কথা ভাবেন না কেন? আপনারা এ নিয়ে তিনবার ক্ষমতায়। কেন খাদ্যে ও ওষুধে ভেজালের ওপর গুরুত্ব দেননি। ভুয়া ডাক্তারের কাছ থেকে ব্যবস্থাপত্র নিয়ে ভেজাল ওষুধ খেলে কি রোগী বাঁচবে। খাদ্যে বিষ বন্ধ না করতে পারলে আপনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা হলেন কীভাবে? আপনি দেশকে ভালোবাসেন না? আপনি চাইলে এক দিনেই ফরমালিন বন্ধ করতে পারেন। এখন কোরবানির গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে, হরমোন ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। মুরগিকে খাওয়ানো হচ্ছে ট্যানারির বর্জ্য। এগুলো যারা খাবে, নির্ঘাত তার মৃত্যু হবে। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় প্রতি বছর ৪৫ লাখ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। আপনি কেবল আওয়ামী লীগের নয়, সারা দেশের প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশের কথা ভাবতে হবে।’
বন্যায় দুই লাখ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে এবং এর আর্থিক মূল্য এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করেন রওশন এরশাদ। তিনি কৃষকদের ঋণ না দিয়ে আর্থিক সাহায্য, বিনা মূল্যে সার ও বীজ সরবরাহের অনুরোধ জানান।
দরিদ্রদের জন্য সরকারের আবাসন প্রকল্পের সমালোচনা করে রওশন এরশাদ বলেন, এসব আবাসন প্রকল্প না করে ছোট ছোট শিল্প কারখানা তৈরি করতে হবে। এতে দরিদ্ররা নিজেদের আবাসন নিজেরাই তৈরি করে নিতে পারবে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করে আবাসনের ব্যবস্থা করে দিলে তারা না খেয়ে খালি পেটে বাড়িতে বসে থাকবে?
প্রধানমন্ত্রীর বাসার বিদ্যুৎ যায় না, লোডশেডিং কীভাবে বুঝবেন
বিরোধীদলীয় নেতা জানান, বিদ্যুৎ খাতে বছরে লুটপাট হয় দেড় হাজার কোটি টাকা। বছরে ২২০ কোটি টাকার তিন কোটি ঘনফুট গ্যাস চুরি হচ্ছে। বিদ্যুতে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বিল বকেয়া। বিদ্যুতের লোডশেডিং সম্পর্কে রওশন এরশাদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বাসার বিদ্যুৎ তো যায় না। তিনি কীভাবে বিদ্যুতের লোডশেডিং বুঝবেন।
ব্যাংক ও আর্থিক খাত সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে বিভিন্ন কোম্পানি তিন দশকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি ঋণ নিয়েছে। সরকার আদায় করতে পারবে না বলে এগুলোকে এখন আল্লাহর ওয়াস্তে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এনামে-সেনামে ঋণ নিয়ে তারা দেশ ছেড়ে চলে গেছে।
রওশন এরশাদ বলেন, ঢাকার বাইরে প্রতিটি মহাসড়কের অবস্থা বেহাল, চলাচলের অযোগ্য। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। চালকেরা পয়সা দিয়ে লাইসেন্স নিয়েছে, যে কারণে অবিরাম দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। ঢাকা চলাচলের অযোগ্য। রাস্তার দৈর্ঘ্য ২ হাজার ২৮৯ কিলোমিটার। রাস্তার সংখ্যা ৪ হাজার ১০৭টি। ৬০ শতাংশ রাস্তা চলাচলের অযোগ্য। ফুটপাত হকারদের দখলে। যানজট তো আছেই। গুলশান থেকে মতিঝিল যেতে আসতে আট ঘণ্টা সময় লাগে। এর বিকল্প একটা কিছু করতে হবে।
সম্পত্তিতে নারীর অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে রওশন এরশাদ বলেন, ছোটকালে বাবার, যৌবনে স্বামীর, বৃদ্ধ বয়সে ছেলের কাছে থাকতে হয়। এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
শিক্ষার মান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন রওশন এরশাদ। তিনি বলেন, লাখে লাখে জিপিএ পাচ্ছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পাস করতে পারছে না।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে রওশন এরশাদ বলেন, ‘আপনার কাছে আমার দাবি, আমার কথা আপনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। দেশের জন্য, জনগণের জন্য ভাবতে হবে।’

জাতিসংঘের ৬৯তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৯তম অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন। ২১শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন। ২৩শে সেপ্টেম্বর থেকে তার সফরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে চলবে ২৮শে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর প্রস্তুতি নিয়ে গতকাল পররাষ্ট্র দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সচিব মো. শহীদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। ৫ই জানুয়ারীর একতরফা নির্বাচনে তৃতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর শেখ হাসিনা এই প্রথম জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। বিশ্ব পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে আসন্ন অধিবেশনটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পেশাদার কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। এ কারণে এবারে বেশ বড় ডেলিগেশন নিয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। মোট কতজন তার সফরসঙ্গী হচ্ছেন- জানতে চেয়ে একাধিক প্রশ্ন আসে সংবাদ সম্মেলনে। পররাষ্ট্র মন্ত্রী সঠিক সংখ্যা প্রকাশ না করে বলেন, অর্থ, পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, প্রবাসী কল্যাণ, পরিবেশ ও বন, খাদ্যমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ প্রায় ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল তার সঙ্গে যাচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো না হলেও সফর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র দপ্তরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রী, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সংসদ সদস্য, সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা, বিশিষ্ট বক্তিত্ব, রাজনীতিবিদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, নিরাপত্তা ও মিডিয়া টিম এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল (নিজ খরচে) প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন। সব মিলে এ সংখ্যা ১৭০’র বেশি হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। স্বাধীনতার পর এত বৃহৎ ডেলিগেশন এবারই প্রথম। সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রায় সব সদস্যই জাতিসংঘ অধিবেশনের বিভিন্ন পর্বে অংশ নেবেন। ৫ই জানুয়ারীর নির্বাচনকে সামনে রেখে গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত ৬৮তম জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইড লাইনে সংস্থার মহাসচিব বান কি-মুনের সঙ্গে ১৫ মিনিটের একটি বৈঠক হয়েছিল। বৈঠকে স্থায়ীস্থ কম হলেও এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। ওই বৈঠকেই বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সংলাপ ও সমঝোতার তাগিদ পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন মুন। বিশ্ব বিবেকের আহ্বান সত্ত্বেও দশম সংসদ নির্বাচন নিয়ে কোন সমঝোতা হয়নি। বরং বিরোধী প্রধান জোট ও দলগুলোকে বাদ দিয়ে এখানে একটি নির্বাচন হয়েছে। এর ১৫৪ আসনে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতারই প্রয়োজনই পড়েনি। পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বান কি-মুন তার অবস্থানেই অটল রয়েছেন। সম্প্রতি আবারও তিনি সংলাপ ও সমঝোতার আহ্বান জানিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে এবার মুনের সঙ্গে কোন বৈঠক প্রস্তাব করা হয়েছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিক। পররাষ্ট্র মন্ত্রী তা স্পষ্ট করেননি। অবশ্য সফর প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হলেও একটি অনুষ্ঠানে  শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুন। প্রধানমন্ত্রী সেই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন এটা প্রায় নিশ্চিত।

সংবাদ সম্মেলনে যা বলা হয়েছে: পররাষ্ট্র দপ্তরের আনক্লজ সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পর এই প্রথম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন বসছে। এটি সরকারের ভাবমূর্তি উপস্থাপনের একটি সুযোগ হতে পারে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, নিয়মিত অধিবেশনে ভাষন দেয়া ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সঙ্গে বৈঠক করবেন। সাইড লাইনে চিলি, কাতার, নেপাল ও বেলারুশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গেও তার বৈঠকের আলোচনা চলছে। ২৭ শে সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দেয়ার সময়ক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন আয়োজিত জলবায়ু সম্মেলনে ২৩ শে সেপ্টেম্বর, বৈশ্বিক শিক্ষা নিয়ে ২৪ শে সেপ্টেম্বর, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে ২৬ শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেয়ার কথা রয়েছে বলেও জানান মাহমুদ আলী। জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্য পদ লাভের ৪০ বছরপূর্তি  উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও শেখ হাসিনার বক্তৃতা করার কথা রয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
জলবায়ু ও অভিবাসী শ্রমিকের অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে ভাষণে: আসন্ন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন এজেন্ডার পাশাপাশি বৈশ্বিক জলবায়ু ও অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, এবারের অধিবেশনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘ডেলিভারিং অন এ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টিং এ ট্র্যান্সফরমেটিভ পোস্ট-২০১৫ ডেভেলপমেন্ট এজেন্ডা’। অধিবেশনে জাতিসংঘের পোস্ট মিলিনিয়াম গোলস-এর (এমডিজি) একটি প্রস্তাবনা আনা হতে পারে বলে জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, অতীতের বছরগুলোর মতো এবারও প্রধানমন্ত্রী বাংলায় ভাষণ দেবেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বেশ কয়েকটি বিষয়ের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।

‘সংশোধনীতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হুমকির মুখে’

বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে দিয়ে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি। সমিতির সভাপতি সিনিয়র এডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন,  বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে  ফেলতে এই সংশোধন করা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারকে এ জন্য একদিন জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। এসময় সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, জ্যেষ্ঠ সহসম্পাদক এডভোকেট নাসরিন আক্তার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় ভোটারবিহীন নির্বাচন করে অবৈধভাবে ক্ষমতায় রয়েছে। সেই ভোটারবিহীন সংসদের কাছে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের অপসারণের ক্ষমতা দিয়ে সরকার সম্পূর্ণ অনৈতিক ও অবৈধভাবে সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করেছে। বিচারপতি অপসারণের ক্ষমতা সংসদের কাছে দিয়ে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বুধবার রাতে সংসদে পাস হয়।

সব সংশোধন ছুড়ে ফেলা হবে -বিএনপি

দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা সংবিধানের সংশোধনগুলো ছুড়ে ফেলে দেয়া হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার। বলেছেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া একটা ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী ক্ষমতায় বসে আছে। তারা সংবিধানকে নিজেদের মতো করে যাচ্ছেতাইভাবে কাটাছেঁড়া করেছে। বিচার বিভাগকে তারা ধ্বংস করে ফেলেছে। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, যখন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে, এই সরকারের সব সংশোধনী ছুড়ে  ফেলে দেয়া হবে। গতকাল ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে দিগন্ত টেলিভিশন আয়োজিত ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দিগন্ত টেলিভিশন-সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ৫শ’তম দিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ‘ছক’ শিগগিরই খালেদা জিয়া প্রকাশ করবেন জানিয়ে এমকে আনোয়ার বলেন, আন্দোলনের ছক তৈরি করে রেখেছেন খালেদা জিয়া। সেই ছকেই আন্দোলন হবে। আপনারা শুরু অপেক্ষা করেন। বিএনপির এ সিনিয়র নেতা বলেন, গণমাধ্যমের ওপর সরকার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে জাতীয় সমপ্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। রাষ্ট্রের সব অঙ্গকে আজ ধ্বংস করে দেয়া হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যমকে  নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার নানা নীতিমালা করেছে। তিনি বলেন, ৭৫ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কি করেছিল? ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর তারা কয়েকটি সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছিল। কেবল তাই নয়, তারা যখনই ক্ষমতায় এসেছে, প্রশাসনসহ সব কিছু চরমভাবে দলীয়করণ করেছে। পাঁচ সচিবের ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে চাকরি করাকে নজিরবিহীন দলীয়করণ মন্তব্য করে এম কে আনোয়ার বলেন, আমরা কোথায় যাবো? যারা রাষ্ট্রের সচিব মর্যাদায় আছেন, তারা কয়েক বছর চাকরির মেয়াদ বাড়াতে মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া সনদ জমা দিয়েছেন। যা আজ ধরা পড়েছে। এসব সচিব এমন কাজ করার সাহস কোথা থেকে পায়- প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ওই সচিবদের দিয়ে সরকার এমন কাজ করিয়েছে যে তারা যে কোন সময়ে থলের বিড়াল প্রকাশ করতে পারেন। সেজন্য তারা আজ যা ইচ্ছা তাই করছেন। সরকারের এম কে আনোয়ার বলেছেন, বাঘের পিঠে উঠে ক্ষমতার বড়াই দেখাচ্ছেন। এখনও সময় আছে এই বাঘের পিঠ  থেকে নামুন। অন্যথায় বাঘের পেটে যেতে হবে। দিগন্ত টেলিভিশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাহবুব আলমের সভাপতিত্বে আলোচনায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী, কলামনিস্ট ফরহাদ মজহার, সাংবাদিক সাদেক খান, কল্যাণ পার্টির সভাপতি মে.জে. (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন,  চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাস

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউরোপিয় পার্লামেন্ট। এ বিষয়ে আজ সেখানে একটি যৌথ প্রস্তাব পাস হয়েছে। এতে র‌্যাব ও অন্যান্য নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গুম ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকা- ঘটনো। শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদ- বাতিল করতে বলা হয়েছে এতে। নারায়ণগঞ্জে বহুল আলোচিত সেভেন হত্যা মামলার বিষয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। মিডিয়ার স্বাধীনতা মেনে নিয়ে তার প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে সরকারের প্রতি। বলা হয়েছে নতুন সম্প্রচার নীতিমালা বাতিল করতে। গত ৬ই আগস্ট বাংলাদেশ সরকার প্রকাশ করেছে নতুন সম্প্রচার নীতিমালা। এর মাধ্যমে মিডিয়ার স্বাধীনতাকে সীমিত করা হয়েছে। সুশীল সমাজের স্বাধীনতা সীমিত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম করে এনজিওগুলোর ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। জোরালো সমালোচনা আছে যে, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত আন্তর্জাতিক মানদন্ড মেনে চলছে না। রানা প্লাজা ট্রাজেডির পর বিদেশী সংস্থাগুলো যে তদন্ত করেছে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। কিন্তু যে তদন্ত বাংলাদেশ সরকার করেছে তা এখনও পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। শ্রম আইনের সামান্য সংস্কার হলেও এখনও যারা শ্রমিক ইউনিয়নে যোগ দিতে চান বা ইউনিয়ন গঠন করতে চান তাদেরকে অব্যাহতভাবে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।

হাসিনা বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন

জামাতে ইসলামির শীর্ষ নেতা দেলোয়ার হোসেন সাইদির প্রাণদণ্ডের সাজা কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিল বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট। একাত্তরে খুন, গণহত্যা, ধর্ষণ, লুঠপাট ও ধর্মান্তরের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে গত বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি সাইদিকে প্রাণদণ্ড দিয়েছিল আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিলেন জামাতের এই নায়েবে আমির। এ দিন সুপ্রিম কোর্ট চূড়ান্ত রায়ে সেই সাজা বদল করল।
সরকার এই রায়কে সর্বোচ্চ আদালতের স্বাধীন মতামত বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু সাইদির ফাঁসির দাবিতে কাল থেকে ঢাকার শাহবাগ চত্বরে অবস্থান শুরু করা গণজাগরণ মঞ্চের সদস্যরা এই রায়কে ‘সরকার-মৌলবাদী আঁতাঁতের রায়’ বলে বর্ণনা করেছেন। তবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া ‘ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি’ সরকারকে দোষারোপ না-করে ব্যর্থতার জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের দফতরকে দায়ী করেছেন। কমিটির আহ্বায়ক শাহরিয়ার কবির বলেন, “যুদ্ধাপরাধ আদালতে সাইদির বিরুদ্ধে মামলায় যে সব আইনজীবী আপ্রাণ পরিশ্রম করে জয় আদায় করেছিলেন, আপিল মামলায় তাঁদের ডাকা তো দূরের কথা, পরামর্শটুকু নেয়নি এজি অফিস। অথচ আন্তর্জাতিক আইনকানুনে সরকারি আইনজীবীরা আদৌ অভ্যস্থ নন। তার ফলেই সাইদির মতো এক জন কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী ফাঁসি থেকে পার পেয়ে গেল।” কবিরের কথায়, আমৃত্যু কারাবাস খুবই বড় শাস্তি। কিন্তু সাইদির বিরুদ্ধে যে সব অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, তাতে তাঁর প্রাণদণ্ড প্রাপ্য ছিল বলেই বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ মনে করেন। প্রশাসনিক সূত্রের ব্যাখ্যা, শেখ হাসিনার সরকার এই রায়ে ঘরে-বাইরে বেশ খানিকটা স্বস্তিতেই থাকবে। ধর্মীয় নেতা হিসেবে দেলোয়ার হোসেন সাইদির সমর্থন জামাতে ইসলামির চৌহদ্দি ছাড়িয়ে অন্য দলের মানুষের মধ্যেও কম নেই। তাঁর ফাঁসি অনেকেই হয়তো মেনে নিতে পারতেন না। তা ছাড়া, যৌথ বাহিনীর একের পর এক অভিযানে জামাতের সংগঠন এখন অনেকটাই কোণঠাসা। সুপ্রিম কোর্ট সাইদির ফাঁসির রায় বহাল রাখলে নাশকতার মাধ্যমে তারা ফের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেত। আন্তর্জাতিক মহলেও জামাত নেতাদের ফাঁসির বিরুদ্ধে একটা জনমত গড়ে উঠেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আমেরিকা ও কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ধর্মীয় নেতাদের ফাঁসির বিরোধিতা করেছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ইইউ। সরকারের এক কর্তার কথায় এই পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্ট যে সরকারকে অস্বস্তি থেকে বাঁচাল, শেখ হাসিনা তার জন্য বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ দিতেই পারেন।
এই রায় উপলক্ষে কাল বিকেল থেকেই গোটা বাংলাদেশের নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছিল। ঢাকায় পুলিশের বিশেষ পাহারা ও টহলদারি চোখে পড়েছে। পুলিশের পাশাপাশি ছিল সীমান্তরক্ষী বাহিনীও। খানাতল্লাশির পরে আইনজীবী-সহ সবাইকে আদালত প্রাঙ্গণে ঢুকতে দেওয়া হয়। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রধান বিচারপতি মহম্মদ মোজাম্মেল ও অন্য চার বিচারপতি আদালত কক্ষে আসেন। মাত্র তিন মিনিটে তাঁরা রায়ের সারাংশ পাঠ করে আদালত মুলতবি করে দেন। আব্দুল কাদের মোল্লার মামলার পরে এই নিয়ে দ্বিতীয় যুদ্ধাপরাধের মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হল। কাদের মোল্লার ফাঁসির রায়ও কার্যকর করেছে সরকার। রায় ঘোষণার পরে দুপুরেই সরকারি জোটের ১৪ দল বৈঠকে বসে। পরিস্থিতি পর্য়ালোচনার পরে রায়কে স্বাগত জানায় তারা। তবে জামাত রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বর্ণনা করে কাল ও রবিবার দু’দফায় ৪৮ ঘণ্টা করে হরতালের ডাক দিয়েছে। সরকার তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, হরতালে নাশকতা ও সন্ত্রাসের চেষ্টা হলে কঠোর হাতে মোকাবিলা করা হবে।
আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, পছন্দ হোক বা না-হোক, সর্বোচ্চ আদালতের রায় মানতেই হবে। অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম জানান, প্রাণদণ্ড বহাল থাকবে বলেই তিনি আশাবাদী ছিলেন। এই রায় রিভিউয়ের সুযোগ থাকলে সরকার নিশ্চয়ই তা গ্রহণ করবে। শরিক নেতা বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, মানুষ ফাঁসির রায় চেয়েছিলেন। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায় মেনে নিতেই হয়।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

হাজারো মানুষের নিরন্তর অপেক্ষা

গাজার বাসিন্দা মোহাম্মেদ আল নাজার অনেক শখ করে একটি বাড়ি বানিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন পরিবারের সবাই মিলে হাত-পা ছড়িয়ে থাকবেন সেখানে। কিন্তু ইসরায়েলের হামলায় গুঁড়িয়ে গেছে তাঁর স্বপ্নের বাড়ি। বড় পরিবার নিয়ে এখন একটি কুঠুরির মধ্যে গাদাগাদি করে থাকেন তাঁরা।

গাজার এমন অনেক পরিবার এভাবে বাড়িঘরের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাস করছেন। হাজারো মানুষের চলছে নিরন্তর অপেক্ষা—কবে নতুন করে গড়ে উঠবে বাড়ি, কবে ফিরবে সেই স্বাভাবিক জীবন।
আজ বৃহস্পতিবার এএফপিতে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ইসরায়েলে আট বছর ধরে চলা অবরোধে বসতি নির্মাণের সামগ্রী গাজায় আসে না। ইসরায়েলি হামলায় গাজায় একের পর এক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হলেও এ অবরোধের কারণে ধ্বংস হওয়া ভবন আর গড়ে ওঠেনি। এতে গাজায় পুনর্বাসনকাজ এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ৬০ বছর বয়সী নাজ্জার সাই বলেন, অস্থায়ী হিসেবে পাওয়া আশ্রয়কেন্দ্র এখন স্থায়ী হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আতঙ্কে আছি যে গাজার অবরোধ কোনোদিনও উঠবে না। ইসরায়েল আমাদের বসতি নির্মাণের জন্য কোনো সামগ্রী দেবে না।’
গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনুস শহরের কাছে খুজানা এলাকায় অস্থায়ী ওই আশ্রয়কেন্দ্রে মাত্র দুটি ঘর। সেখানেই গাদাগাদি করে ছয়জনকে নিয়ে থাকেন নাজ্জার সাই। সবাই মিলে একটি ছোট রান্নাঘর আর শৌচাগার ব্যবহার করেন।
তবু নিজেদের অন্যের তুলনায় সৌভাগ্যবান মনে করেন নাজ্জার সাই। কারণ অন্য গৃহহীনরা এর চেয়েও করুণ অবস্থায় রয়েছেন।
গত জুলাই থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত চলা ইসরায়েলের হামলায় গাজার ১৮ হাজারের বেশি বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। কয়েকটি ত্রাণ সংস্থা গাজায় গৃহহীনদের জন্য ১০০টি মোবাইল ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। কিছু অস্থায়ী স্কুলও নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে পুনর্বাসন আদৌ সম্ভব কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র আদনান আবু হাসনা বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় স্টিল, সিমেন্ট বা কংক্রিট আসে না। এই অবরোধ না তুললে গাজা পুনর্বাসন করতে আরও ১০ বছর সময় লাগবে।
ফিলিস্তিনের কর্মকর্তারা জানান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুসারে ইসরায়েল গাজায় নির্মাণসামগ্রী পাঠানোর ব্যাপারে তাদের নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করবে বলে জানিয়েছিল। কিন্তু এতে খুব সামান্যই অগ্রগতি হয়েছে।
নাজ্জার সাইয়ের মতো আরেক হতভাগ্য হলেন গাজার পূর্বাঞ্চলে শেজায়া শহরের বাসিন্দা সুহেলা মোহাম্মেদ। স্বামী, শিশু ও নাতি নাতনিদের নিয়ে ছোট একটি তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছেন। সুহেলা বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে ১০ বছর ধরে আমরা একটি বাড়ি করেছিলাম। কিন্তু আমাদের শিশুরা সেখানে থাকতে পারেনি।
সাধের বাড়ির পরিত্যক্ত ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে সুহেলা বলেন, ‘এই ঘর আবার গড়ে ওঠার আগেই আমি মারা যাব।’
নিজের বিধ্বস্ত বাড়ির সিঁড়ির কাছে ঘুমাতে হয় শোকরকে। তিনি বলেন, হামলায় বিধ্বস্ত তাঁর বাড়ি আবার ঠিক করতে আট বছরের বেশি সময় লাগবে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘এই আট বছর আমরা কোথায় থাকব? আমাদের কোনো খাবার নেই। পানি নেই। এমনকি বিদ্যুৎও নেই।’
জাতিসংঘের শান্তিবিষয়ক দূত রবার্ট শেরি বলেন, গত মঙ্গলবার ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সে অনুসারে নির্মাণসামগ্রী গাজায় আসতে পারে। পশ্চিমা বিশ্ব সমর্থিত ফিলিস্তিনের সরকার জানায়, তারা এই চুক্তি কার্যকর করতে কাজ করে যাচ্ছে।
রামাল্লা ভিত্তিক প্যালেস্টাইন ইকোনমিক কাউন্সিল ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যদি গাজা থেকে এখন অবরোধ তুলেও নেওয়া হয় তাহলে পুনর্বাসনকাজে কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় লাগবে। খরচ হবে ৭৮০ কোটি ডলার।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার মুখপাত্র আবু হাসনা বলেন, অবরোধ তুলে নিতে ইসরায়েল যত বেশি সময় পার করবে, গাজার গৃহহীনদের হতাশাও তত বাড়বে।

নেপথ্যে গোপন বিয়ে by মহিউদ্দীন জুয়েল

নওগাঁয় এক স্ত্রী রয়েছে। সেখানে আছে দুই সন্তান। পরিবারের লোকজন জানতেন সেটিই সুখের সংসার। কিন্তু মৃত্যুর পর বেরিয়ে এসেছে আরেক নতুন তথ্য। মিশু নামের এক মেয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল তার। গত জুন মাসে গোপনে বিয়ে হয় তাদের। এরপর থেকে আলাদা বাসা নিয়ে প্রথম স্ত্রীর অগোচরে থাকতেন তিনি। আর এ নিয়ে অশান্তি শুরু। সেখান থেকেই হত্যা। চট্টগ্রামে কাজী আবদুল হাসিব মোহাম্মদ সাঈদ (৪৭) নামের এক বিচারকের মৃত্যুর ঘটনায় বেরিয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এ ঘটনায় ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে স্ত্রী বলে দাবি করা সানজিদা আক্তার মিশু ও শাশুড়ি লাকি আক্তার নামে দুই নারীকে। গতকাল বুধবার সকালে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর হালিশহরের মোল্লাপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে কাজী আবদুল হাসিবকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান গ্রেপ্তার হওয়া এ দুই নারী। ওই সময় তারা দাবি করেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরে তাদের কথাবার্তায় সন্দেহ হয় মেডিকেল পুলিশের। এরপর দু’জনকে আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (পশ্চিম) এস এম তানভির আরাফাত এ বিষয়ে মানবজমিনকে বলেন, ‘কথিত স্ত্রী মিশুর সঙ্গে নিহত বিচারকের সম্পর্ক ছিল এ বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। তবে তারা বিয়ে করেছেন কিনা তা জানা যাবে কাবিন হাতে পাওয়ার পর। মিশুকে নিয়ে আমরা যেসব তথ্য পেয়েছি তা চমকে ওঠার মতো। তদন্তের স্বার্থে এখনই কিছু বলতে পারছি না।
গতকাল সকালে এ বিষয়ে জানতে যাওয়া হয় নগরীর হালিশহর এলাকার সেই মোল্লাপাড়ায়। সেখানে গিয়ে স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে পাওয়া যায় নানা তথ্য। তারা জানান, প্রায় সময় বিচারক সাঈদকে কথিত স্ত্রী সানজিদা আক্তার মিশুর বাসায় আসা-যাওয়া করতে দেখতেন সেখানকার বাসিন্দারা।
এরপর গত জুন মাসে ওই নারী তাকে বিয়ে করেছেন বলে আশপাশের লোকজনকে জানান। বিষয়টি সত্য বলে ধরে নেন লোকজন। কেননা বিয়ের খবর চাউর হওয়ার পরই নওগাঁ থেকে ঘন ঘন চট্টগ্রামে আসতেন এই অতিরিক্ত জেলা জজ।
পুলিশের ধারণা, নওগাঁয় বদলি হওয়ার আগ থেকে মিশুর সঙ্গে পরিচয় ঘটে বিচারক সাঈদের। বিষয়টি তার প্রথম স্ত্রী জানতেন না। নওগাঁয় প্রথম স্ত্রী থাকার বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেননি দ্বিতীয় স্ত্রী মিশু। আর তা নিয়ে সংসারে টানাপড়েন শুরু হয়।
তাকে ডিভোর্স দেয়ার জন্য চাপাচাপি করলে এ নিয়ে উত্তেজিত হয়ে পড়েন বিচারক সাঈদ। একপর্যায়ে বাসার ভেতর ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটলে কেউ একজন পেছন থেকে ধারালো লোহা দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি লুটিয়ে পড়ে মারা যান।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের একটি সূত্র জানায়, নিহত বিচারক সাঈদের মাথার পেছনে ও মাঝে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে মাঝখানে একটি গর্ত দেখা গেছে, যা থেকে বোঝা যায় তিনি আত্মহত্যা করেননি। তাকে কেউ একজন আঘাত করেছে।
গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালে তার মৃত্যুর পেছনে আত্মহত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে চালিয়ে দেয়া হয়। এ কাজটি খুবই কৌশলে করার চেষ্টা করেন স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়া মিশু ও শাশুড়ি লাকী আক্তার। সাঈদের মাথার খুলিতে গর্ত দেখা যায়। মাথার খুলি থেকে মৃত্যুর সময় তাজা রক্ত বের হচ্ছিল। নিহতের গলায় কালো দাগ দেখা যায়। হাত-পা ছিল স্বাভাবিক।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ঘটনাটিকে প্রাথমিক দৃষ্টিকোণ থেকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে না। কেননা গলায় ফাঁস দিলে মুখ দিয়ে ফেনা বের হতো।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, নওগাঁয় নিহত বিচারক সাঈদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সেখানে অবস্থান করা তার স্ত্রীর নাম মনিকা। আর দুই সন্তান অনিন্দ্য (১২) ও মেয়ে রোসাবা (১০)। ১৮তম বিসিএস (বিচার) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী জজ হিসেবে চাকরি শুরু করেন তিনি।
ঘটনার ৪ দিন আগে গত শুক্রবার সকালে বিচারক সাঈদ মিশুর হালিশহরের বাসায় আসেন। মঙ্গলবার বিকালে চিৎকার শুনতে পেয়ে আশপাশের লোকজন সেখানে গিয়ে দেখতে পান ওই বিচারক গলায় কাপড় পেঁচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছেন। পরে এ ঘটনায় কথিত স্ত্রী মিশু ও তার মা লাকী আক্তার পুলিশের কাছে ব্যাখ্যা দেন দাম্পত্য কলহের জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
আর মাথায় নিজেই ধারালো কাঁচি দিয়ে আঘাত করে রক্ত বের করেছেন। বিচারক সাঈদকে মিশু নিজের স্ত্রী বলে দাবি করলেও তার পরিবারের অনেক কিছুই তিনি জানেন না বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্ত্রী দাবি করা মিশুর এর আগে আরও একবার বিয়ে হয়েছিল। সেখানে তার একটি পুত্রসন্তানও রয়েছে। তবে ডিভোর্স হয়ে যাওয়ার পর ওই সংসারের কারও সঙ্গে মিশুর কোন সম্পর্ক নেই। মিশুর পিতা একজন ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী। তার নাম নাছির আহমেদ। তিনিও হালিশহরের ওই বাসায় বসবাস করতেন।
এ বিষয়ে হালিশহর থানার ওসি (তদন্ত) সাইফুদ্দিন আনোয়ার বলেন, মিশুর আচরণ বেশ রহস্যজনক। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন। ওই বিচারকের মৃত্যুর পরও সে বেশ স্বাভাবিক। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে এ বিষয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, মনে হচ্ছে কৌশলে জজ সাঈদকে হত্যা করা হয়েছে। মিশু ধরা পড়ার পর থেকেই বলছেন তাকে বিয়ে করেছেন। অথচ সাঈদের প্রথম স্ত্রী এ নিয়ে কিছুই জানেন না। তার মানে যদি বিয়ে হয়ে থাকে তবে তা গোপনে। আর না হলে কোন ধরনের ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে তাদের সম্পর্ক আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি দু’-একদিনের মধ্যে সব কিছু বের হয়ে আসবে।

শ্রদ্ধা কাপুর আলোচনায় আসতে চাইছেন ভিন্ন উপায়ে

চেহারা তার বেশ। ফিগারও তেমনই। আর অভিনয়েও কম যান না। এর পরেও বলিউডের শক্তিমান ভিলেন শক্তি কাপুর কন্যা শ্রদ্ধা কাপুর অন্য কিছুকে পুঁজি করেই এগোতে চাইছেন বলিউডের পথে। তার সব ছবিতেই দেখা যাচ্ছে ভিন্ন উপায়ে আলোচনায় আসতে চাইছেন তিনি। আর সেটি হচ্ছে ছবির নায়কের সঙ্গে গভীর চুম্বন দৃশ্যে পারফরম করা। ‘আশিকি টু’ ছবিতে আদিত্যর সঙ্গে চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করার পর এবার বিশাল ভরদ্বাজ পরিচালিত ‘হায়দার’ ছবিতেও একটি গানে শাহিদ কাপুরের সঙ্গে গভীর চুম্বনের দৃশ্যে অভিনয় করেছেন তিনি। গত বছর মুক্তি পাওয়া ‘আশিকি টু’ ছবিতে মদ্যপ আদিত্য রয় কাপুরের সঙ্গে চুম্বন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন শ্রদ্ধা। এরপর ‘এক ভিলেন’ ছবিতেও সিদ্ধার্থ মালহোত্রার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় করেন তিনি। জানা গেছে, ‘হায়দার’ ছবিতে চুম্বনের পাশাপাশি শাহিদের সঙ্গে শ্রদ্ধার ঘনিষ্ঠ দৃশ্যও রয়েছে।

জামায়াতকে পুনর্বাসন করতেই এ রায়: গণজাগরণ মঞ্চ

আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আপিলের রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে গণজাগরণ মঞ্চ। রায় ঘোষণার পর গণজাগরণ মঞ্চের তিনটি অংশ আলাদাভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচি ও সমাবেশ করে। সমাবেশ থেকে দু’টি অংশ আলাদা কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে। শাহবাগে রাস্তায় অবস্থান কর্মসূচি পালনের সময় পুলিশি হামলার শিকার হয়েছে মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকারসহ বেশ কয়েকজন কর্মী। তাদেরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। শাহবাগে সমাবেশ থেকে ইমরান এইচ সরকার বলেন, সরকার জামায়াতের সঙ্গে আঁতাত করেই এই রায় দিয়েছে। আমরা এই রায় মানি না। দেশবাসী এই রায় মানে না। সরকার জামায়াতকে পুনর্বাসন করতেই এই রায় ঘোষণা করেছে। ডা. ইমরান আরও বলেন, ফাঁসির রায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না। তিনি দেশবাসীকে রায় প্রত্যাখ্যান করে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানান। এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শাহবাগে আবারও অবস্থান নিয়েছে মঞ্চের দুই পক্ষ। মঙ্গলবার থেকে শাহবাগে অবস্থান করছেন মঞ্চের ডা. ইমরানের নেতৃত্বাধীন অংশ। সকাল থেকে কামাল পাশার নেতৃত্বাধীন পক্ষও অবস্থান নেয়। দুই পক্ষ ঘোষণা করেছে আলাদা আলাদা কর্মসূচি। এর আগে রায় ঘোষণার পর রায়ে সন্তুষ্ট না হয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন ডা. ইমরানের নেতৃত্বাধীন অংশের কর্মীরা। এতে শাহবাগ মোড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দশটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ সময় পুলিশ তাদের ওপর জলকামান এবং টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এতে ডা. ইমরানসহ চার জন আহত হন। আহতদের ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। মঞ্চের কর্মীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে। প্রায় ১০ মিনিট পর পরিস্থিতি শান্ত হয়। হামলার বিষয়ে পুলিশের রমনা জোনের এসি শিবলী নোমান বলেন, মঞ্চের বিক্ষোভ মিছিলে আমরা বাধা দিইনি। কিন্তু তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা দেয়ায় আমরা তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দিয়েছি। তখন মঞ্চের অপর পক্ষ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণসংগীত পরিবেশন করছিলেন। তারা ডা. ইমরানদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিক নিন্দা জানান।

কর্মসূচি: মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিকালে প্রতিবাদী সমাবেশের আয়োজন করেন ডা. ইমরান এইচ সরকারের নেতৃত্বাধীন অংশ। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডাকসু’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক হোসেন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সম্পা বসু, কেন্দ্রীয় খেলাঘরের সাবেক সভাপতি তাহমিনা সুলতানা সাথী, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাসান তারেক, যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, মঞ্চের অন্যতম সংগঠক মারুফ রাসুল প্রমুখ। সমাবেশে ফেরদৌসি প্রিয়ভাষিণী বলেন, স্বীকৃত যুদ্ধাপরাধী সাঈদীকে ফাঁসি দেয়া হলো না। এর প্রতিবাদ জানালে নতুন প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর পুলিশ হামলা করেছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ কাল ধরে যুদ্ধাপরাধী পোষার কলঙ্ক বয়ে চলছি। জাতিকে এই অভিশাপ ও কলঙ্ক থেকে মুক্ত করতে সরকারকে বাধ্য করতে হবে। সমাবেশ শেষে কর্মসূচি ঘোষণা করেন আরিফ জেবতিক। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আজ বিকাল চারটায় শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও রাত দশটা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি এবং আগামীকাল শুক্রবার বিকাল চারটায় শাহবাগ জাদুঘরের সামনে গণসমাবেশ। এরপর কর্মসূচি ঘোষণা করেন কামাল পাশা পক্ষ। তারা শুক্রবার বিকাল চারটায় জাদুঘরের সামনে সমাবেশের ঘোষণা দেন। আবারও সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে মঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছাত্রসংগঠনগুলো। শত চেষ্টা করেও এক করতে পারেন নি মঞ্চের অন্য দুইপক্ষকে। এ বিষয়ে ছাত্র মৈত্রীর বাপ্পাদিত্য বসু বলেন, মঞ্চ আলাদা আলাদা থাকলে কোন দাবিই আদায় করা যাবে না। আগেও অনেক চেষ্টা করেছি। এখনও করছি। তাদের কোন কর্মসূচি রয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, এখনও সবাইকে একসাথে করার প্রক্রিয়া চলছে। যদি না হয় তবে আলাদা কর্মসূচি ঘোষণা করবো। যদি তারা সঙ্গে আসে তবে স্বাগতম।
ছাত্রলীগের বিক্ষোভ মিছিল: এদিকে রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রলীগ। গতকাল দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে একটি মিছিল শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ, সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম, ঢাবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক ওমর শরীফ প্রমুখ।

ফাঁসি নয়, আমৃত্যু কারাদণ্ড -বাকি জীবন কারাগারে থাকবেন সাঈদী by মহিউদ্দিন ফারুক ও কুন্তল রায়

ফাঁসির মঞ্চে যেতে হচ্ছে না জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশে সেই সর্বোচ্চ সাজা থেকে তিনি রেহাই পেয়েছেন। এর পরিবর্তে তাঁকে বাকি জীবন কারাগারে থাকার দণ্ড দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রথম আপিল নিষ্পত্তির ঠিক এক বছর পর গতকাল দ্বিতীয় আরেকটি মামলা নিষ্পত্তি করলেন আপিল বিভাগ। প্রথমটিতে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার শাস্তি যাবজ্জীবন থেকে বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।
গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিল আংশিক মঞ্জুর করে রায় দেন। রায়ে পাঁচটি অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত করে তাঁকে দণ্ড দেওয়া হয়। এর মধ্যে একাত্তর সালে তিন নারীকে অপহরণ করে আটকে রেখে ধর্ষণ এবং কয়েকজন ব্যক্তিকে জোর করে ধর্মান্তরিত করার ঘটনায় জড়িত থাকাসহ তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাঈদীকে স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সরকার ও আসামিপক্ষ উভয়েই বলেছে, রায়ে তাদের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। সহিংসতায় প্রথম তিন দিনেই ৭০ জন নিহত হন। এই মামলায় আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের করা দুটি আপিলের ওপর ৫০ দিনের মতো শুনানি শেষে গত ১৬ এপ্রিল আপিল বিভাগ রায় অপেক্ষমাণ রাখেন। ঠিক পাঁচ মাসের মাথায় গতকাল রায় ঘোষণা করা হয়। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সাঈদীর বিরুদ্ধে গঠিত ২০টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়। এগুলো হচ্ছে-৬, ৭, ৮, ১০, ১১, ১৪, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগ। এর মধ্যে ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন আপিল বিভাগ।
রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল সাড়ে আটটা থেকে আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকেরা আপিল বিভাগে জড়ো হন। সকাল ১০টা পাঁচ মিনিটে এজলাসে বসেন বিচারপতিরা। ততক্ষণে শতাধিক গণমাধ্যমকর্মী, পাঁচ শতাধিক আইনজীবী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে এজলাসকক্ষ ভরে যায়। এ সময় সাঈদীর ছেলে পিরোজপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ সাঈদীও উপস্থিত ছিলেন।
১০টা সাত মিনিটে রায়ের সংক্ষিপ্ত অংশ পড়ে শোনান প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেন। পিনপতন নীরবতায় মাত্র তিন মিনিটে রায় ঘোষণা শেষ হয়। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন: বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা, বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
রায়ে বলা হয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর করা ফৌজদারি আপিল ও সরকারের ফৌজদারি আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হলো। ৬, ১১ ও ১৪ নম্বর অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দেওয়া হলো। অষ্টম অভিযোগের একটি অংশ থেকে তাঁকে খালাস এবং অপর অংশে দণ্ড পরিবর্তন করে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হলো। সপ্তম অভিযোগে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০, ১৬ ও ১৯ নম্বর অভিযোগে স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হলো। সাজা ও খালাসের সব সিদ্ধান্ত সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে রায় দেওয়া হলেও কোন বিচারপতি কী মত দিয়েছেন, তা ঘোষিত রায়ে উল্লেখ করা হয়নি।
তিন অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ড: ১০ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২ জুন সকাল ১০টার দিকে সাঈদীর নেতৃত্বে সশস্ত্র দল পিরোজপুরের উমেদপুর গ্রামের হিন্দুপাড়ার ২৫টি ঘরে আগুন দেয়। পরে সাঈদীর ইন্ধনে বিসাবালিকে নারিকেলগাছের সঙ্গে বেঁধে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

১৬ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, সাঈদীর নেতৃত্বে ১০-১২ জনের রাজাকার দল পারেরহাট বন্দরের একটি বাড়ি থেকে তিন বোনকে ধরে পাকিস্তানি সেনাক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁদের তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করা হয়। এই অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও ট্রাইব্যুনাল কোনো সাজা দেননি। আপিল বিভাগ এই অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।
১৯ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, সাঈদী জোর করে পারেরহাটসহ অন্য গ্রামের ১০০-১৫০ হিন্দুকে ধর্মান্তরিত করেন। এই অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও ট্রাইব্যুনাল কোনো সাজা দেননি। আপিল বিভাগ এই অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।
দুটিতে দুই মেয়াদে কারাদণ্ড: ৭ নম্বর অভিযোগে বলা হয়, একাত্তরের ৮ মে সাঈদী পাকিস্তানি সেনাদের বাদুরিয়া গ্রামের নুরুল ইসলাম খানের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নুরুল ইসলাম খানকে আওয়ামী লীগার এবং তাঁর ছেলে শহীদুল ইসলামকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে চিহ্নিত করে পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তুলে দেন। পরে তাঁদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এই অপরাধে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে কোনো দণ্ড দেননি। তবে গতকাল আপিল বিভাগ সাঈদীকে এই অপরাধে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।
৮ নম্বর অভিযোগ অনুসারে, ১৯৭১ সালের ৮ মে সাঈদী ও তাঁর দলের সদস্যরা চিথোলিয়া গ্রামের মানিক পশারির গ্রাম লুট করেন। সেখান থেকে মানিক পশারির ভাই মফিজুদ্দিন ও ইব্রাহিম কুট্টিকে ধরে নিয়ে যান। পাঁচটি ঘরে আগুন দেন। সেনাক্যাম্পে ফিরে যাওয়ার সময় সাঈদীর প্ররোচনায় পাকিস্তানি সেনারা ইব্রাহিমকে হত্যা করে। মফিজকে সেনাক্যাম্পে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন। আপিল বিভাগ এই অভিযোগের অংশবিশেষ থেকে তাঁকে খালাস দিয়েছেন। বাকি অভিযোগের জন্য মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন।
তিন অভিযোগে খালাস: রায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে ৬, ১১ ও ১৪—এই তিন অভিযোগ থেকে সাঈদীকে খালাস দেওয়া হয়। ৬ নম্বর অভিযোগ হচ্ছে, পারেরহাট বাজারের আওয়ামী লীগ, হিন্দু সম্প্রদায় ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষদের বাড়িঘর ও দোকান লুট করা। ১১ নম্বর অভিযোগ ছিল, পাকিস্তানি সেনাদের নিয়ে গিয়ে টেংরাখালী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মাহাবুবুল আলম হাওলাদারের বড় ভাই আবদুল মজিদ হাওলাদারকে নির্যাতন এবং বাড়িতে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।
১৪ নম্বর অভিযোগ ছিল, ৫০-৬০ জনের একটি রাজাকার বাহিনী নিয়ে গিয়ে হোগলাবুনিয়ার হিন্দুপাড়ায় কয়েকজনকে ধর্ষণ করা এবং পাড়ায় আগুন দেওয়া।
এই তিন অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ট্রাইব্যুনাল সাঈদীকে কোনো সাজা দেননি। আপিল বিভাগ গতকালের রায়ে তাঁকে তিনটি অভিযোগ থেকেই খালাস দেন।
প্রতিক্রিয়া: রায়ে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি মন্তব্য করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকুক, এটাই ছিল আমার প্রত্যাশা। সেটা থাকেনি। এ জন্য আমার খুব খারাপ লাগছে।’
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রতিক্রিয়ায় মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘উচ্চ আদালতের রায়ের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। যে রায় হয়েছে, তা মাথা পেতে নিচ্ছি। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি বলব, কিছুটা হতাশ ও মর্মাহত হয়েছি। এটা আমার আবেগ। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর এ ব্যপারে কিছু করা যায় কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হবে।’
রায় ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে এক প্রতিক্রিয়ায় সাবেক আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালত সমস্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নিয়ে রায় দিয়েছেন। আপিল বিভাগের রায় সবাইকে মেনে নিতে হবে।’
সাঈদীর আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘সাঈদীর বিরুদ্ধে করা মামলাটি ছিল রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলা। রায় পর্যালোচনা করে এর বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হবে। এখনো বিশ্বাস করি, আসামি ন্যায়বিচার পাবেন।’
রায়ে সংক্ষুব্ধ ও অসন্তুষ্ট জানিয়ে সাঈদীর অপর আইনজীবী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে।
সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা প্রত্যাশিত ন্যায়বিচার পাইনি। আশা করেছিলাম তিনি খালাস পাবেন। পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর পুনর্বিবেচনার আবেদন করব।’
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন সাঈদী গ্রেপ্তার হন। ওই বছরের ২ আগস্ট তাঁকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন। ২৮ মার্চ দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষ। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আপিলের শুনানি শুরু হয়।

রুপালি পর্দার কুহকিনী

পুরুষেরা সাবধান! পাপ নগরে আছে এক কুহকিনী। তার নাম ইভা গ্রিন। অবিশ্বস্ত খুনে এক ছলনাময়ী সে। তার মোহের মায়ায় জড়ালে মেরুর বরফও মেঘ হয়ে যায়। ‘সিন সিটি: আ ড্যামে টু কিল ফর’ সিনেমায় ইভা গ্রিনের চরিত্রটি এমনই। সিনেমায় তার নাম আভা লর্ড। কিন্তু তাকে ‘ফেমে ফ্যাটালে’ বা ‘মারাত্মক কুহকিনী’ বলেও ডাকা যেতে পারে! লক্ষ্য হাসিলে ছলনায় ভুলিয়ে পুরুষকে ঘায়েল করে সে। যেন ঠিক একইভাবে রুপালি পর্দার দর্শকদেরও ঘায়েল করতে পারে সিনেমার এই নারী চরিত্ররা! পশ্চিমা সিনে দুনিয়ার এই ‘কুহকিনী’ চরিত্রের সামাজিক প্রেক্ষাপট নিয়ে বিবিসি অবলম্বনে এই প্রতিবেদন।

রুপালি পর্দার কুহকিনী
সিনেমায় এই ধাঁচের নারী চরিত্রের উপস্থিতির বিষয়টা খুবই স্পষ্ট। সুন্দর কোমল আঙুলে জশ ব্রোলিনের পুরো শরীর জড়িয়ে নিচ্ছেন ইভা গ্রিন...এই দৃশ্য কে-ই বা না দেখতে চাইবে! পুরুষ দর্শককেও সে এই মোহজালেই ভোলায়, কাছে টানে, কিন্তু সে নিষিদ্ধ ফলের স্বাদ দেয় না। সিনেমার এই ‘কুহকিনী’ চরিত্র নিয়ে একটা গবেষণা সম্পাদনা করেছেন ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর ক্যাথেরিন ও’রাওয়ে। গবেষণাটির শিরোনাম ‘ফিমে ফ্যাটালে: ইমেজেস, হিস্টোরিস, কনটেক্সটস’ বা ‘মারাত্মক কুহকিনী: প্রতিমূর্তি, ইতিহাস, পরিপ্রেক্ষিত’। ও’রাওয়ে মনে করেন, সিনেমায় এই ধাঁচের নারী চরিত্র আসলে ‘স্বাধীন নারী’র প্রতি সমাজের মিশ্র দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

ও’রাওয়ে বলছেন, ‘নারী প্ররোচকের এই চরিত্র নন্দনকাননে আদম-হাওয়ার কাহিনির মতোই আদি।’ তবে, ব্রিস্টলের এই গবেষক বলেন, ‘আজকে আমরা যে কুহকিনী নারীর চরিত্র দেখছি তার উত্থান ১৯ শতকের শেষ ভাগে। যে সময়টায় হেরোডের কন্যা সালোমে থেকে শুরু করে হেনরি রাইডার হ্যাগার্ডের শি কিংবা ব্রাম স্টোকারের নারী ভ্যাম্পায়ারের মতো একের পর এক এমন চরিত্র সমকালীন গল্প-উপন্যাসে আসতে শুরু করল। লক্ষণীয় বিষয় হলো, এমন এক সময়ে এসব চরিত্রের উত্থান ঘটতে থাকল যখন জনপরিসরে নারীর উপস্থিতি নিয়ে তুমুল আলোচনা হচ্ছে।’

একই বিষয় লক্ষ্য করা যাবে রুপালি পর্দায় মারাত্মক কুহকিনীদের উত্থান পর্বেও। এ জাতীয় চলচ্চিত্রগুলোতে সব সময়ই নারীকে পাতক ও প্ররোচক হিসেবে হাজির করা হয়েছে। ১৯১৫ সালের নির্বাক সিনেমা ‘আ ফুল দেয়ার ওয়াজ’-এর মধ্য দিয়েই হলিউডের এমন চরিত্রের রূপায়ণ শুরু হয়। এতে দেখা যায় ওয়াল স্ট্রিটের এক সম্মানিত আইনজীবী ‘মারাত্মক কুহকিনী’ থেডা বারার আদিরসের মোহবাণে আবিষ্ট হয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে যাচ্ছেন। তবে, হালের ‘মারাত্মক কুহকিনী’ চরিত্র ষোলকলা পূর্ণ করে পর্দায় হাজির হয় ১৯৪০-এর দিকে।

‘ফিল্ম নোয়া’ হিসেবে অভিহিত সিনেমার এ ঘরানা বিকশিত হয়ে ওঠে ‘গিল্ডা’, ‘দ্য কিলারস’, ‘মার্ডার’, ‘মাই সুইট’ এবং ‘ডাবল ইনডেমনিটি’র মতো চলচ্চিত্রগুলোর মাধ্যমেই। এ সময় নিজেদের আদিরসাত্মক সম্মোহনী ক্ষমতা দিয়ে রিটা হেওয়ার্থ, আভা গার্ডনার ও বারবারা স্ট্যানউইকের মতো অভিনেত্রীরা হয়ে ওঠেন রুপালি পর্দার ধ্রুপদী ‘কুহকিনী’। সিনেমায় দেখা যায় এই নারীরা যা চান, তা পাওয়ার জন্য তাঁরা সবকিছুই করতে প্রস্তুত। প্রতারণা হোক কিংবা প্ররোচনা যেকোনো মূল্যে খলনায়ককে বশে আনছে, এমনকি প্রয়োজনে খুন করতেও পিছপা হচ্ছে না। তবে, যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট আঙ্গিলার ‘ফিল্ম নোয়া’ বিশেষজ্ঞ ডক্টর অ্যালেন রাইট মনে করেন সিনেমার এমন চরিত্র কল্পনার জগতের মনে হলেও বাস্তব সমাজের সঙ্গে বিষয়গুলোকে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

‘ঘরের নারী’ না ‘বাইরের নারী’
ডক্টর অ্যালেন রাইট মনে করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রে যে শ্রম ঘাটতি দেখা দেয়, তা পূরণের জন্য অনেক নারীকে ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাইরের কাজ করতে হয়। এমনকি যেসব কাজকে একসময় ‘পুরুষালি’ কাজ বলে নারীদের দূরে রাখা হয়েছিল, সেসব কাজও করতে হয় নারীকেই। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় নারীরা তখন অনেক বেশি পারিশ্রমিক পান। নিজের উপার্জনে ঘরের বাইরে নারীর এ উপস্থিতি নিয়ে সমাজে আলোচনার ঝড় ওঠে। যুদ্ধকালীন আমেরিকায় আলোচনার অন্যতম বিষয়ে পরিণত হয় বাইরে কাজ করা, নারীর অবসর যাপন এবং তাঁর যৌনতার বিষয়টি। অ্যালেন রাইটের ধারণা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এমন সামাজিক পরিস্থিতিতেই সিনেমায় এই ‘কুহকিনী’ চরিত্রের জন্ম এবং ঘর থেকে বেরোনো নারীকে আক্রমণ করা এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য।

কিন্তু এমন বিশ্লেষণের সঙ্গে একমত নন অধ্যাপক মার্ক জাঙ্কোভিচ। ‘ডিফাইনিং কাল্ট মুভিস’ বইয়ের সহ-লেখক এবং চলচ্চিত্র গবেষক জাঙ্কোভিচ বলেন, ‘একটা নারীবাদী আলোচনা আছে যে, যুদ্ধের দিনগুলোতে স্বাধীন কর্মজীবী নারীর চরিত্র হনন করতেই কুহকিনী চরিত্রের সৃষ্টি হয়েছে।’ কিন্তু এ ধারণার সঙ্গে একমত নন জাঙ্কোভিচ। তিনি বলেন, ‘মনে করা হয় নারীকে বাইরে থেকে হটিয়ে আবারও ঘরে ফেরত পাঠানোর প্রোপাগান্ডার অংশ হিসেবেই এসব চরিত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমি এর ঠিক উল্টোটাই বলব। এই সিনেমাগুলো বরং যে নারীরা যুদ্ধের সময়েও কাজের জন্য ঘর থেকে বেরোয়নি তাঁদেরই সমালোচনা করে। কল-কারখানায় কাজ করে খেটে খাওয়া, দৃঢ় প্রত্যয়ী আধুনিক নারীরা কুহকিনী চরিত্রের বিষয় নয়; বরং জনপরিসরে এসে কোনো সামাজিক দায়িত্ব না নেওয়া, আলস্যে জীবন পার করা, স্বামীর টাকায় সেজেগুজে স্বল্প-বসনে ঘরে বসে থাকা নারীরাই মারাত্মক কুহকিনী।’

‘ঘরে থাকা নারী’ কিংবা ‘বাইরে বেরোনো’ বা ‘স্বাধীন কর্মজীবী নারী’ যাকেই ‘কুহকিনী’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়ে থাকুক না কেন বাস্তবতা হলো—সিনেমার এই নারীরা ঘৃণা নয় ভালোবাসাই পেয়েছেন। আর তা কেবল মোহগ্রস্ত পুরুষ দর্শকদের কাছ থেকেই নয়; বরং অনেক নারীর কাছ থেকেও। ডক্টর অ্যালেন রাইট বলেন, ‘একজন নারী দর্শক হিসেবে আমি এমন চরিত্রকে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দক্ষ চরিত্র হিসেবে মনে করি। যে শুধু আখ্যানকেই নিয়ন্ত্রণ করে না, সেজেগুজে টুমটুমা হয়ে নিজের যৌনতাকে মুক্ত করে ঘুরে বেড়ায় না; বরং শেষ পর্যন্ত সামাজিক ব্যবস্থায় নিজের অসম্মানজনক অবস্থানকে প্রত্যাখ্যান করে। কৃতকর্মের জন্য কপালে যে শাস্তিই জুটুক, এই নারী তার পরোয়া করে না। আমার এখনো মনে হয়, সে প্রবলভাবেই শক্তিমান ও উদ্দীপনামূলক একটা বার্তাই দেয়।’

কুহকিনী রমণী! না কুহক পুরুষ!
১৯৫০ সালের দিকে আমেরিকা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে শুরু করলে কুহকিনী চরিত্রটা বিবর্ণ হয়ে যেতে থাকে। কিন্তু পর্দা থেকে কখনোই পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি সে। ১৯৯০ সালের দিকে শ্যারন স্টোনের ‘বেসিক ইন্সটিঙ্কট’, ম্যাডোনার ‘বডি অব এভিডেন্স’ ডেমি মুরের ‘ডিসক্লোজার’ এবং নিকোল কিডম্যানের ‘টু ডাই ফর’-এর মতো সিনেমার মধ্য দিয়ে রুপালি পর্দায় আবারও জাঁকিয়ে বসে কুহকিনী চরিত্র।

নব্বইয়ের দশকে এ চরিত্রের পুনরুত্থানের সময়ও দেখা গেছে, সমকালীন সামাজিক উদ্বেগের সঙ্গে এর সম্পর্ক খুবই স্পষ্ট। রোনাল্ড রিগান এবং সিনিয়র বুশের শাসনামলে রক্ষণশীল যুক্তরাষ্ট্রে সতর্কভাবে স্বাধীন নারীর গল্প তুলে ধরতে পেরে আনন্দিতই ছিল হলিউড। ডক্টর ক্যাথেরিন ও’রাওয়ের ভাষায় এ সময়ে এমন সিনেমায় গল্পের আবশ্যক শর্ত ছিল ‘সামাজিক সীমা পেরোনো নারীকে অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে।’ হলিউডের বাস্তবতা যা-ই হোক আজকাল আর আগের মতো কুহকিনী রমণীদের দেখা যাচ্ছে না। তবে, ‘সিন সিটি: আ ড্যামে টু কিল ফর’ সিনেমায় ইভা গ্রিনের চরিত্রটির ‘আভা লর্ড’ নামের সঙ্গে ধ্রুপদী যুগের কুহকিনী ‘দ্য কিলার’-এর ‘আভা গার্ডনারের’ নামের মিল কাকতালীয় বলে মনে করার কোনো কারণই নেই। এই নতুন সিনেমাটিও হালের অন্যান্য সিনেমার মতোই সমকালীন বিষয় নিয়ে তেমন কিছুই বলছে না। বরং পুরোনো যুগের আবহে নিয়ে গিয়ে দর্শকদের কাছে ‘নতুন বোতলে পুরোনো মদ’ জোগাচ্ছে।

সাবেক কালের কুহকিনীদের আর দেখা যাচ্ছে না বলে ভাবার কোনো কারণ নেই যে, অনুরাগীদের তৃষ্ণা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া রহস্যময় আর খুনে প্ররোচকের আকাল পড়েছে সিনেমায়। কুহকিনী রমণীর জায়গায় আমরা ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’তে ক্রিশ্চিয়ান গ্রে এবং ‘টোয়াইলাইট’-এর এডওয়ার্ড কালেনের মতো প্ররোচক পুরুষের চরিত্র পাচ্ছি, যে কিনা আক্ষরিক অর্থেই একজন ড্রাকুলা। নারীরা সাবধান! এখানে হাজির ‘হোমে ফ্যাটালে’ বা ‘কুহক পুরুষ!’

স্কটল্যান্ডের ভাগ্য নির্ধারণ আজ

স্কটল্যান্ডবাসীর দোটানা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে স্কটল্যান্ড থাকবে, নাকি স্বাধীন হবে—আজ বৃহস্পতিবার ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোটের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করবেন স্কটিশরা।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, গণভোট নিয়ে যুক্তরাজ্য ও স্কটল্যান্ডে একধরনের উত্তেজনা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী মানুষ আজ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন। বিপক্ষে থাকা ব্যক্তিরা দেবেন ‘না’ ভোট।
ফলাফল কী আসবে—এখনই তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন জনমত জরিপে ব্যবধান কম ও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাঁচটি জনমত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৪৮ শতাংশ ভোটার স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে। ৫২ শতাংশ বিপক্ষে। অর্থাৎ, জরিপ অনুযায়ী, ‘না’ ভোট কিছুটা এগিয়ে আছে।
গ্রিনিচমান সময় ছয়টা থেকে শুরু হয়ে গণভোট শেষ হবে নয়টায়। ১৫ ঘণ্টা ধরে চলা এই গণভোটের ফল আগামীকাল শুক্রবার সকালে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্কটল্যান্ডের ৪২ লাখ ৮৫ হাজার ৩২৩ জন নিবন্ধিত ভোটার এই গণভোটে অংশ নেবেন। ২ হাজার ৬০৮টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। গণভোটে রেকর্ড পরিমাণ ৮০ শতাংশ ভোট পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রচারের শেষ দিন গতকাল বুধবার স্বাধীনতাকামী নেতা ও স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার অ্যালেক্স স্যামন্ড স্কটল্যান্ডের জনগণের উদ্দেশে বলেন, ‘এটা আমাদের সারা জীবনের জন্য একটা সুযোগ। এমন সুযোগ আর আসবে না।’
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন স্কটিশ ভোটারদের ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য থেকে স্কটল্যান্ডের বিচ্ছেদ হবে কষ্টদায়ক। সৃষ্টি হবে চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।
যুক্তরাজ্যের উপপ্রধানমন্ত্রী নিক ক্লেগ ও প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টির নেতা এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ডও স্কটল্যান্ডকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে একীভূত রাখার জন্য গতকাল ‘না’ ভোটের জন্য প্রচারণা চালান।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা
স্কটল্যান্ডের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়। পঞ্চদশ শতক থেকে ওই ভূখণ্ডের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তথ্য এখানে দেওয়া হলো:
১৫৬০: সংস্কার আন্দোলন হয়।
১৬০৩: স্কটল্যান্ডের রাজা ষষ্ঠ জেমস ইংল্যান্ডেরও রাজা হিসেবে স্বীকৃতি পান। ইংল্যান্ডে তিনি পরিচিতি পান প্রথম জেমস হিসেবে।
১৭০৭: অ্যাক্টস অব ইউনিয়ন বিধানের মাধ্যমে ইংল্যান্ড ও স্কটল্যান্ড এক করে গ্রেট ব্রিটেন গঠন করা হয়, যা যুক্তরাজ্য নামে আত্মপ্রকাশ করে। এতে এক মুকুট ও এক পার্লামেন্টের আওতায় আসে দেশ দুটি।
১৯৯৯: নতুন করে স্কটিশ পার্লামেন্ট গঠনের পর সদস্যরা প্রথমবারের মতো মিলিত হন এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোটের প্রস্তাব ওঠে।
২০১৪: স্বাধীনতা নিয়ে গণভোটের আয়োজন।

১০ দস্যুদলের নিয়ন্ত্রণে সুন্দরবন by এ, কে আজাদ

মুক্তিপণ আর লুটপাটের নেশায় অন্তত ১০টি বনদস্যু বাহিনী চষে বেড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন গোটা সুন্দরবন উপকূল। জেলেদের জিম্মি করে আদায় করছে মোটা অংকের অর্থ। লুটে নিচ্ছে মাছ ও নৌকাসহ অন্যান্য মালামাল। অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও দস্যুদের দমনে হিমশিম খাচ্ছে। কখনও আঁতাত করে আবার কখনও দস্যুদের অস্ত্রের মুখে জীবনবাজি রেখে মাছ শিকার করছে উপকূলীয় অঞ্চলের লাখ লাখ মৎস্যজীবী। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, প্রতিবছর দু’দফায় সাগরে মাছ শিকারে যান এ অঞ্চলের জেলেরা। শীত মওসুমে শুঁটকি আর বর্ষা মওসুমে ইলিশ আহরণকে কেন্দ্র করে সাগর উপকূলে জেলেদের ঢল নামে। চট্টগ্রাম, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা অঞ্চলের কয়েক লাখ জেলে অস্থায়ী বাসা বাঁধে সুন্দরবন উপকূলের সাগর চরে। ঝড়-জলোচ্ছ্বাস আর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে তারা মাছ শিকার করেন। কিন্তু বর্তমানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের চেয়েও জেলেদের কাছে বড় আতংক দস্যুবাহিনী। চলতি ইলিশ মওসুমকে ঘিরে সাগর উপকূলে চলছে দস্যুবাহিনীর রামরাজত্ব। ছোট বড় অন্তত ১০টি দস্যুবাহিনী দাপিয়ে বেড়াচ্ছে গোটা সাগর উপকূল। একের পর এক ঘটছে অপহরণ আর লুটপাটের ঘটনা। জেলেদেরকে শারীরিক নির্যাতন ছাড়াও মহাজনদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে লাখ লাখ টাকার মুক্তিপণ। অত্যন্ত দুর্গম এলাকা হওয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও হাঁপিয়ে উঠছে  দস্যু দমনে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মংলার একজন আড়ৎদার জানান, সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে রাজু বাহিনী, জুলফু বাহিনী, রাংগা বাহিনী, আউয়াল বাহিনী, বেলাল বাহিনী, ফরহাদ বাহিনী, রবিউল বাহিনী ও জিয়া বাহিনী বেশী বেপরোয়া। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এসব দস্যু বাহিনী উপকূল থেকে দু’শতাধিক জেলেকে মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করেছে। নিরস্ত্র জেলেদের ওপর হামলা করে এরা লুটে নিয়েছে জাল, নৌকা, মাছ ও জেলেদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র। সর্বশেষ গত শুক্র ও শনিবার সুন্দরবনের নারিকেল বাড়িয়ায় বেলাল বাহিনী ও চরাপুটিয়া থেকে রাংগা বাহিনী অন্তত ৮০ জন জেলেকে অপহরণ করেছে। মংলার একাধিক মৎস্য আড়ৎদার জানান, দস্যুরা নৌকা প্রতি একজন কিংবা দু’জন জেলেকে উঠিয়ে নিয়ে আড়ৎদারের কাছ থেকে আদায় করছে লাখ লাখ টাকার মুক্তিপণ। টাকা না দিলে জিম্মি জেলেদের ওপর চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। কখনো আবার গুলি করে জেলেদের লাশ ফেলে দেয়া হয় নদীতে। ব্যবসা চালানোর স্বার্থেই জেলে মহাজনরা দস্যুদের এসব নির্যাতন মুখ বুঁজে সহ্য করছেন। দস্যুদের সঙ্গে একরকম আঁতাত করেই ব্যবসা চালাচ্ছেন সাগরভিত্তিক এসব মৎস্য ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, প্রতিটি বনদস্যু বাহিনীকে জেলে প্রতি ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকা করে নিয়মিত মাসিক চাঁদা দিতে হয়। তারপরেও মাঝে মধ্যে তারা চড়াও হয় জেলেদের ওপর। এক গ্রুপকে চাঁদা দিয়ে শান্ত করলে আরেকটি গ্রুপ এসে জেলে বহরে হামলা করে। সুন্দরবন উপকূলে এরকম ছোট বড় অন্তত ১০টি গ্রুপ সক্রিয়  রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো নদীতে নিয়মিত টহল দিলেও দস্যুরা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। বঙ্গোপসাগরের মোহনা থেকে শুরু করে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে দস্যুদের একাধিক আস্তানা রয়েছে। এর মধ্যে মেহের আলীর চর, আলোর কোল, কটকা, আম বাড়িয়া, ডিমের চর, নারকেল বাড়িয়া, সোনার চর, ভদ্রা, চরাপুটিয়া, হারবাড়িয়া, বলেশ্বর নদীর মোহনা ও চান্দেরশ্বর সহ আশপাশের এলাকায় রয়েছে দস্যুদের অবাধ বিচরণ। দস্যুবৃত্তির খবর পাবার পর আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান চালালেও দস্যুরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। সময়ের ব্যবধানে তারা চলে যায় তাদের নিরাপদ আস্তানায়। মাঝে মধ্যে দু’চারজন দস্যু ধরা পরলেও তাতে বাহিনীর তেমন কোন ক্ষতি হয় না। মাছ শিকারের জন্য বন বিভাগকে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব দেন জেলে মহাজনরা। কিন্তু বনরক্ষীরা জেলেদের নিরাপত্তা দিতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। একের পর এক দস্যুদের হামলা ও গণহারে লুটপাটের ঘটনায় ইলিশ জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। জাল নৌকা আর পুঁজি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন জেলে মহাজনরা। দস্যুদের কাছে বনরক্ষীরাও নাকি অসহায়। তারা দস্যুদের সঙ্গে বিরোধে জড়ায় না, এমন অভিযোগ জেলেদের। অভিযোগ মতে, সুন্দরবনের অভ্যন্তরের অনেক ফরেস্ট ক্যাম্পেই নির্ভয়ে রাত কাটায় দস্যুরা। দস্যুদের হামলার কথা স্বীকার করে দুবলা ফরেস্ট ক্যাম্পের ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ডাকাতির খবর পেলেই আমরা ঘটনাস্থলে যাই, জেলেদের খোঁজ খবর নিই, কিন্তু দস্যুদের নাগাল পাওয়া যায় না। বিশাল সাগর উপকূল আর অসংখ্য নদ-নদীতে গুটি কয়েক বনরক্ষী দিয়ে জেলেদের পূর্ণ নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়।” কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন (মংলা) অপারেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার আলাউদ্দিন বলেন, ‘সুন্দরবনসহ সাগর উপকূলে কোস্টগার্ডের নিয়মিত টহল ছাড়াও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

দ্বন্দ্ব কবর দিতে হবে হাসিনা-খালেদাকে -গালফ নিউজের সম্পাদকীয়

বাংলাদেশের প্রতিদ্বন্দ্বী দু’নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে দ্বন্দ্ব কবর দিতে হবে। তারা দু’জনেই নিজেদের পুত্রকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করছেন। কিন্তু দেশের স্বার্থে নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্বের কবর দেয়া অগ্রাধিকারে থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রীকে তার কঠোর দৃষ্টিভঙ্গি পরিহকার করতে হবে এবং শাসন পদ্ধতিতে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কোন বিরোধী দল ছাড়া দেশ চালানোটা আপাতত তার জন্য মানানসই হলেও অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশের মতো একটি গণতন্ত্র আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে সুনাম হারাবে- যদি তা একদলীয় শাসনে চলতেই থাকে। অনলাইন গালফ নিউজের এক সম্পাদকীয়কে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দু’বারের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, বিএনপির নেত্রী খালেদা জিয়ার মধ্যে রাজনৈতিকভাবে এক ধাপ এগিয়ে থাকার লড়াইয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন এক নাটকীয় মোড়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের পর খালেদা জিয়ার পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আদালতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আশঙ্কা রয়েছে তার। দীর্ঘমেয়াদি কোন দণ্ড খালেদা জিয়াকে নিশ্চিতভাবে রাজনৈতিকভাবে তেপান্তরে পাঠিয়ে দেবে। তাছাড়া, দেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য অসংখ্যবার তিনি বাধা হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছেন। আর এমনটা হলে হাসিনা কৌশল চালানোর আরও সুযোগ পাবেন এবং তার দলের কর্তৃত্ব শক্ত করতে পারবেন। বর্তমান পরিস্থিতি বাংলাদেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা উস্কে দিতে পারে; বাংলাদেশ যে ঝুঁকি নিতে পারে না। জানুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে হাসিনার জয়কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ইতিমধ্যে প্রহসন বলে সমালোচনা করেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও দুই নেত্রীর চলমান দ্বন্দ্বে বর্তমানের এ অধ্যায় বাংলাদেশকে টালমাটাল করে দিতে পারে। বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উপভোগ করছে। কিন্তু একই সঙ্গে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে ইসলামপন্থিদের ক্রমশ উত্থান মোকাবিলা করছে আর সেনাবাহিনীর গভীর পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

Thursday, September 11, 2014

সরাসরি রাজনীতিতে ন্যান্সি

বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহসভাপতি মনোনীত হয়েছেন জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ন্যান্সি। আর এর মাধ্যমে সরাসরি রাজনীতিতে নাম লেখালেন তিনি। দুপুরে তিনি এ খবর নিশ্চিত করেন মানবজমিন অনলাইনকে। ন্যান্সি বলেন, বিএনপির আদর্শের প্রতি আমার ভালো লাগা অনেক আগে থেকেই। এর জন্য আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে অনেক মূল্য দিতে হয়েছে গেল কয়েক মাস ধরে। তিনি আরও বলেন, আমার মা নেত্রকোনা জাসাসের কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি শিল্পী ন্যান্সি সবার। শ্রোতাদের কারণেই আমি ন্যান্সি হয়েছি। তার মানে এই নয় যে, শিল্পী ন্যান্সির কারণে মানুষ হিসেবে আমার কোন ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক মতামত থাকতে পারে না।

Saturday, August 16, 2014

নওয়াজ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন: ইমরান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রধান ইমরান খান। এই দাবিতে তিনি আজ শনিবার বিকেলে ইসলামাবাদে তাঁর সমর্থকদের নিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে বসবেন। পাকিস্তানের ডন অনলাইনের খবরে এ কথা জানানো হয়।
২০১৩ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত দেশটির সাধারণ নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে তা বাতিল করে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিক বনে যাওয়া ইমরান খান।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে জানানো হয়, ইমরান খান আজ সকালে রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘জাতির সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আমি এখানে অবস্থান করব। কারচুপি করে ক্ষমতায় বসা প্রধানমন্ত্রীকে আমরা মেনে নেব না।’
ইমরান খানের নেতৃত্বে তাঁর দল পিটিআইয়ের নেতা-কর্মীরা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার পাঞ্জাবের লাহোর থেকে রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে ‘আজাদি মার্চ’ শুরু করেন। গতকাল শুক্রবার তাঁদের গাড়িবহর গুজরানওয়ালা শহরে পৌঁছালে সেখানে ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) নেতা-কর্মীরা আজাদি মার্চে জুতা ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন।

>>পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইমরান খান। ছবিটি গতকাল শুক্রবার তোলা। ছবি: এএফপি
ইমরানের অভিযোগ, তাঁর গাড়িবহর লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি। ঘটনাস্থলে থাকা বার্তা সংস্থা এএফপির এক আলোকচিত্রী জানান, তিনি গুলি ছোড়ার মতো কোনো শব্দ শোনেননি।

ত্বকী হত্যার অভিযোগপত্র অনিশ্চিত- আজমেরীসহ জড়িত ১১, ৯ জনই এখন বিদেশে by তানভীর সোহেল ও আসিফ হোসেন

নারায়ণগঞ্জে মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ঘটনায় জড়িত হিসেবে আজমেরী ওসমানসহ ১১ আসামির মধ্যে নয়জনই বিদেশে পালিয়ে গেছেন। একজন অন্য মামলায় কারাগারে আছেন। আরেকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী একটি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছেন। র‌্যাবের তদন্ত দলের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

র‌্যাবের সূত্র আরও বলছে, তদন্ত গুছিয়ে এনে তারা একটি খসড়া অভিযোগপত্রও তৈরি করেছে। তবে কবে নাগাদ অভিযোগপত্রটি চূড়ান্ত করে আদালতে জমা দেওয়া হবে, তা কেউই বলতে পারছে না। মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওসমান পরিবার এই হত্যায় জড়িত থাকায় সরকারের উচ্চপর‌্যায় থেকে মামলাটির কার্যক্রম বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
গত ৬ মার্চ ত্বকী হত্যার এক বছর পূর্ণ হওয়ার দিনে র‌্যাবের সহকারী মহাপরিচালক (এডিজি) জিয়াউল আহসান বলেছিলেন, শিগগিরই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে। অবশ্য এরপর সাড়ে চার মাস পার হলেও অভিযোগপত্র দেওয়া হয়নি।
র‌্যাবের সূত্র জানায়, তদন্তে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। আজমেরীর বাবা প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান। আর তার দুই চাচা হলেন বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান ও সেলিম ওসমান।
তদন্তে পাওয়া তথ্যমতে, ত্বকী হত্যায় অংশ নেওয়া বাকি ১০ জন হলেন রাজীব, কালাম শিকদার, মামুন, অপু, কাজল, শিপন, জামশেদ হোসেন, ইউসুফ হোসেন ওরফে লিটন, সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর ও তায়েবউদ্দিন ওরফে জ্যাকি। র‌্যাব ও পুলিশের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে মাদক মামলায় লিটন কারাগারে আছেন। আর কালাম শিকদার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন। র‌্যাবের সূত্র জানিয়েছে, তিনি নিহত হয়েছেন এবং তাঁর লাশ গুম করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি আজমেরী ওসমান এখন কলকাতায় আছেন। এই হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া একমাত্র আসামি সুলতান শওকত আছেন দুবাইয়ে। বাকি সাতজন বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পালিয়ে আছেন বলে র‌্যাব ও পুলিশ জানতে পেরেছে।
অভিযুক্ত ১১ জনের মধ্যে প্রথম আলো ছয়জনের পরিবারের সদস্য ও দুজনের ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে কথা বলেছে। এর মধ্যে সাতজনের পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনেরা তাঁদের বিদেশে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানতে চাইলে র‌্যাবের মহাপরিচালক মোকলেছুর রহমান বলেন, মামলার তদন্তে র‌্যাব অনেকটাই এগিয়েছে। কিছু কাজ বাকি আছে। সেগুলো শেষ করে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক, কিছু সম্ভাব্য আসামি দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন। অভিযোগপত্র দেওয়ার পর তাঁদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানো হবে।’
তবে পলাতকদের মধ্যে কালাম, শিপন, জামশেদ, লিটন, সুলতান শওকত ওরফে ভ্রমর ও তায়েবউদ্দিন ওরফে জ্যাকি বিভিন্ন সময়ে পুলিশের হাতে আটক বা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এদের মধ্যে শিপন ও জামশেদকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভ্রমর ও ও জ্যাকি আদালত থেকে জামিন নিয়ে গোপনে দেশ ত্যাগ করেছেন। এর মধ্যে ভ্রমর গত মার্চে এবং জ্যাকি গত জুনে জামিন পান। র‌্যাব সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
মামলার প্রধান আসামি আজমেরী গত ১ মে নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। ওই দিন তিনি বাবা নাসিম ওসমানের জানাজায় ও দাফনে অংশ নেন। এরপর আবারও তিনি কলকাতায় পালিয়ে যান বলে তদন্তসংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন। হত্যার পর কিংবা বাবার মৃত্যুর পর কলকাতা থেকে দেশে ঢুকলেও তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ বা র‌্যাব কোনো উদ্যোগই নেয়নি।
র‌্যাবের তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, হত্যায় অভিযুক্ত ইউসুফ হোসেন সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত এবং আজমেরীর ঘনিষ্ঠজন। সুলতান শওকত নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাবেক সভানেত্রীর ছেলে। অপরাধজগতে আজমেরীর ডান হাত বলে পরিচিত তিনি। অভিযুক্ত তায়েবউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে ওসমান পরিবারের রয়েছে পুরোনো সম্পর্ক। তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসেরও অভিযোগ আছে। অভিযুক্ত কালাম শিকদার আজমেরী ওসমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠজন ও চাঁদাবাজ। আরেক অভিযুক্ত মামুন আজমেরী ওসমানের খালাতো বোনের জামাই। কাজলকে চাঁদাবাজ ও আজমেরীর অন্যতম ঘনিষ্ঠজন বলে বর্ণনা করা হয়েছে নথিতে। তাঁর ভাই স্থানীয় যুবলীগের একজন নেতা। অভিযুক্ত অপু আজমেরীর তথ্যদাতা। রাজীব ও শিপন আজমেরীর বেতনভুক্ত ক্যাডার। অভিযুক্ত জামশেদ আজমেরীর গাড়িচালক।
এই হত্যাকাণ্ডে শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলেও র‌্যাব দাবি করেছে, তারা তাঁর সম্পৃক্ততা পায়নি। অয়নের দুই সহযোগী সালেহ রহমান ওরফে সীমান্ত ও রিফাত বিন ওসমান বিষয়েও র‌্যাব একই কথা বলেছে। এই দুজন গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। এর মধ্যে সীমান্ত এখনো কারাগারে আছেন।
মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত র‌্যাবের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ত্বকীকে যারা হত্যা করেছে, তাদের এখন বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো খুবই কঠিন হবে। কেননা, মূল আসামিদের কেউই দেশে নেই। বিদেশ থেকে আসামিদের ফিরিয়ে এনে বিচার করা অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে প্রায় অসম্ভব।
মামলার বাদী ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তকারী সংস্থা খুনিদের চিহ্নিত করেছে। অভিযোগপত্র দেওয়ার সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, হত্যায় ওসমান পরিবারের সদস্য আজমেরী ওসমান জড়িত থাকায় বিচার পাওয়াটা অনিশ্চিত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী চাইলেই এই মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া সম্ভব হবে। নয়তো কোনো দিনই দেওয়া হবে না।’
মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে র‌্যাবের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অভিযোগপত্র দেওয়ার জন্য র‌্যাবের ওপর উচ্চ আদালত বা অন্য কোনো স্থান থেকে নির্দেশনা এলে অভিযোগপত্র দেওয়া সহজ হবে। তাঁরা অভিযোগপত্র প্রায় প্রস্তুত করে বসে আছেন।
তবে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রথম আলোকে বলেন, স্পর্শকাতর এই মামলার অভিযোগপত্র শিগগিরই দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, ‘হত্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশে থাকুক আর দেশের বাইরে থাকুক, তাদের বিচার করা হবে।’
২০১৩ সালের ৬ মার্চ ত্বকীকে নারায়ণগঞ্জে নিজ বাসার কাছ থেকে অপহরণ করা হয়। ৮ মার্চ তার লাশ পাওয়া যায় শীতলক্ষ্যা নদীতে। উচ্চ আদালত র‌্যাবকে এই মামলার তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।

Tuesday, August 5, 2014

সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা ইসরায়েলের

ফিলিস্তিন-শাসিত গাজা উপত্যকা থেকে সব সেনাসদস্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর বরাতে আজ মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, গাজা উপত্যকার বাইরে মোতায়েন করা সব সেনা সরিয়ে নেওয়া হবে।
>>গাজা সীমান্তের কাছে ইসরায়েলের সেনাসদস্যরা। আজ মঙ্গলবার ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগেই গাজা থেকে সব সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। ছবিটি গতকাল সোমবার তোলা। ছবি: ছবি: রয়টার্স
ইসরায়েল ও হামাসসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন গোষ্ঠী ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। মিসরের মধ্যস্থতাকারী কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ স্থানীয় সময় বেলা ১১টা থেকে এ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা।
গাজায় গত ৮ জুলাই থেকে ইসরায়েলের বর্বর হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজার ৮৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে নয় হাজারের বেশি। তাদের অধিকাংশ বেসামরিক নাগরিক। এর মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। এ ছাড়া লাখো ফিলিস্তিনি হয়েছে বাস্তুচ্যুত।
ইসরায়েলের সামরিক কর্মকর্তা লে. কর্নেল পিটার লেরনার সাংবাদিকদের বলেছেন, আজ ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আগেই তাদের সেনাদের প্রত্যাহার করা হবে।
ইসরায়েলের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গাজায় সর্বশেষ সামরিক অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল হামাসের সুড়ঙ্গ ধ্বংস করা। তেল আবিবের সে উদ্দেশ্য ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।
এর আগেও গাজায় কয়েক দফায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অধিকাংশ ঘোষণাই ভেস্তে যায়। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের জন্য হামাস ও ইসরায়েল পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে সর্বশেষ গত সোমবার মিসরের রাজধানী কায়রোতে আলোচনা হয়। এতে হামাসের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের অন্য দলগুলোও যোগ দেয়। সেখানে অনুপস্থিত ছিল ইসরায়েল।
পরে ইসরায়েলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিবিসিকে বলেন, মিসরের প্রস্তাব অনুযায়ী ৭২ ঘণ্টার শর্তহীন যুদ্ধবিরতির খসড়া গ্রহণ করবে ইসরায়েল।
গাজার নিয়ন্ত্রক হামাসের মুখপাত্র সামি আবু জুহরি বলেছেন, ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব তাঁরাও গ্রহণ করেছেন।
মিসরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে মিসর। তারা ৭২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে এর আগেও একই ধরনের একটি উদ্যোগ নিয়েছিল মিসর। ওই প্রস্তাব ইসরায়েল গ্রহণ করলেও প্রত্যাখ্যান করে হামাস।
নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সব পক্ষের প্রতিনিধিরা বিস্তারিত আলোচনা করতে পরে কায়রোতে বসবেন।

Sunday, August 3, 2014

কেড়ে নিয়েছে শিশুর প্রাণ -যুদ্ধবিরতি ভেঙে হামলা জোরদার

সর্বশেষ দফা যুদ্ধবিরতিও ভেঙে যাওয়ার পর ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নতুন করে হামলা জোরদার করেছে ইসরায়েল। তাদের নির্বিচারে গোলাবর্ষণ কেড়ে নিয়েছে আরও ১০৭ জনের প্রাণ। বিধ্বস্ত হয়েছে গাজা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বড় অংশ।

গাজার রাজনৈতিক নিয়ন্তা হামাসও থেমে নেই। ইসরায়েলের দিকে তারাও রকেট হামলা অব্যাহত রেখেছে। তবে সেসব হামলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ রকম একটি নাজুক পরিস্থিতিতে মার্কিন কংগ্রেস ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ‘আয়রন ডোমে’র জন্য ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিল অনুমোদন করেছে। আয়রন ডোমের সাহায্যে ইসরায়েল হামাসের ছোড়া রকেট আকাশেই ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। বিদ্যমান সামরিক সহযোগিতার যুক্তি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ইতিমধ্যে সে দেশেই মজুত মার্কিন সমর উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। খবর এএফপি, বিবিসি ও আল-জাজিরার।
গত ৭ জুলাই থেকে চলা ইসরায়েলের এ অভিযানে গাজা উপত্যকায় এ পর্যন্ত অন্তত এক হাজার ৬৫০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় নয় হাজার। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই সাধারণ মানুষ। পক্ষান্তরে ইসরায়েল ৬৬ জনকে হারিয়েছে; যাঁদের মধ্যে ৬৩ জনই সেনাসদস্য।
জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল আটটায় আরেক দফা মানবিক যুদ্ধবিরতিতে যায় ইসরায়েল ও হামাস। কিন্তু ঘণ্টা দুয়েক যেতে না-যেতেই গাজার দক্ষিণে রাফা শহরে ফের আক্রমণ শুরু করে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী। তাদের দাবি, গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামাসের চোরাগোপ্তা হামলায় তাদের দুজন সেনা নিহত হওয়া ছাড়াও এক সেনা অপহৃত হয়েছে। তবে হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, কথিত অপহৃত সেনাটি সংঘর্ষে নিহত হয়ে থাকতে পারে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা জানান, রাফা শহরে শুক্রবার মধ্যরাত থেকে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো শুরু হয়। গতকাল সকালেও তা অব্যাহত ছিল। হামলায় গাজা শহরে অবস্থিত ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ওই হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনাস্থল থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক ইমতিয়াজ তায়েব বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন হামলা চালানো হলো, তা স্পষ্ট নয়। তবে গাজার পরিস্থিতি কতটা অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এ ঘটনা এটাই প্রমাণ করে।’
দুই পক্ষকে ওবামার আহ্বান: মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ‘নিখোঁজ’ ইসরায়েলি সেনার ‘নিঃশর্ত’ মুক্তি দাবি করেছেন। পাশাপাশি তিনি এও বলেছেন, গাজার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষায় ইসরায়েলকে আরও অনেক পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে ইসরায়েলের এ অভিযানকে ‘বোকামি’ ও ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ বলে অভিহিত করেছেন যুক্তরাজ্যের জোট সরকারের অংশীদার লিবারেল ডেমোক্র্যাট পার্টির সাবেক নেতা লর্ড অ্যাশডাউন। তিনি উভয় পক্ষকে সহিংসতার পথ ছেড়ে শান্তি আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। অ্যাশডাউন বলেন, ‘বিশ্বের সেরা ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী ব্যবস্থা হাতে থাকার পরও সামরিক অভিযান শুরু করা ইসরায়েলের জন্য বোকামি হয়েছে।’ পাশাপাশি সাবেক ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রক্ষণশীল দলের এমপি পিটার লাফ প্রধানমন্ত্রীকে চলমান গাজা-সংকটের বিষয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর আগে ক্ষমতাসীন দলটির আরও কয়েকজন এমপি অনুরূপ আহ্বান জানিয়েছেন।
অস্ত্রবিরতির আহ্বান মিসরের: দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি গতকাল বলেছেন, মিসরের অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনাই গাজায় সংঘাত নিরসনের ‘সুবর্ণ সুযোগ’ হতে পারে। তিনি এই অস্ত্রবিরতি পরিকল্পনার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়ে বলেন, ‘এটাই উপযুক্ত সময়। ফিলিস্তিনে রক্তপাত বন্ধে ও গাজার আগুন নেভাতে আমাদের দ্রুত এর সুবিধা নিতে হবে।’

Monday, July 28, 2014

পথে বিস্তর ভোগান্তি তবু ঘরে ফেরার আনন্দ

ঈদে সীমাহীন ভোগান্তি ও ঝুঁকির মধ্যে গন্তব্যে গেছেন শেষ সময়ের যাত্রীরা। শিল্প-কারখানা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস শেষে রোববার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে জনসে াত নামে। কাক্সিক্ষত যানবাহন না পাওয়া, যানজটসহ নানা ভোগান্তির শিকার হন এসব ঘরমুখো মানুষ। ঢাকায় বাস ও ট্রেনের সিডিউলে বিপর্যয় নেমে আসে। একই সঙ্গে দেখা দেয় পরিবহন সংকট। কাক্সিক্ষত যানবাহন পেতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। বাধ্য হয়ে অসংখ্য মানুষ বৃষ্টি মৌসুমে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাস, ট্রেন ও লঞ্চের ছাদে চড়ে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। কেউ কেউ বেছে নিয়েছেন বিকল্প পথ। অপরদিকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন নৌপথের যাত্রীদের। পথিমধ্যে যাত্রীবোঝাই একটি লঞ্চের তলা ফেটে গেলেও অল্পের জন্য দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার যাত্রী। অপর এক লঞ্চের ইঞ্জিন মাঝপথে নষ্ট হয়ে ঝুঁকিতে পড়েন যাত্রীরা। ঢাকার বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে জনভোগান্তির নানা চিত্র দেখা গেছে। ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যাওয়ায় ফাঁকা হতে শুরু করেছে ঢাকা।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, রাতে বৃষ্টির কারণে শ্লথগতিতে বাস চলেছে। অনেক স্থানে দেখা দিয়েছে যানজট। এ কারণে অনেক বাস নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় ঢুকতে পারেনি। এসব কারণে গণপরিবহনের সিডিউল ভেঙে পড়েছে। এছাড়া পোশাক ও শিল্প-কারখানা এবং সরকারি-বেসরকারি অফিস রোববার একযোগে বন্ধ হওয়ার পর যাত্রীদের ঢল নামে। এত সংখ্যক যাত্রী একই সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে পরিবহনের সামর্থ্য গণপরিবহনের নেই। এ কারণেই ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ৫-৭টি লঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে। মারধর করেছে বাস শ্রমিকদের।
রাজধানীর বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের আনন্দ প্রিয়জনের সঙ্গে উপভোগ করতে শেষ মুহুর্তের বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নেমেছে। সব দুর্ভোগ-বাধা-বিপত্তি উপেক্ষা করে শিকড়ের টানে ছুটছেন তারা। হাত-কাঁধে ব্যাগ-লাগেজ নিয়ে কাক্সিক্ষত যানে ওঠার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন তারা। কেউ সফল হয়েছেন, আবার অনেকেই বিফল। ঈদযাত্রীদের পদচারণায় টার্মিনালগুলোর কোথাও যেন একটু ফাঁকা নেই। সর্বত্র টুইটম্বুর। যে যেভাবে সুযোগ পেয়েছেন সেভাবে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাস ও লঞ্চের মালিক-শ্রমিকরা বাড়তি ভাড়া নেয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন। অতিরিক্ত আয়ের আশায় ঝুঁকি নিয়ে ছাদে যাত্রী বহন করেছেন। যাত্রীদের অভিযোগ, ভিড়ের মাঝে পকেটমার, লাগেজ পার্টির তৎপরতা বেড়ে গেছে। অনেকেই মোবাইল, মানিব্যাগ ও ব্যাগ খুইয়েছেন।
বাসের সিডিউল বিপর্যয় : যাত্রীর চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ে বাসের নির্ধারিত সিডিউল। রোববার বেশির ভাগ বাস নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ১ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছেড়ে গেছে। বাস কাউন্টারগুলোতে শত শত মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা বেশি সমস্যায় পড়েন। বাসের সিডিউল ভেঙে পড়ার কারণ জানতে চাইলে পরিবহন শ্রমিকরা জানান, পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ায় ফেরি রুটে শনিবার রাতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে ফেরির চলাচলে সমস্যা হয়। বাস পারাপারে অতিরিক্ত সময় লাগছে। এসব কারণ ছাড়াও পথে যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে ঢাকায় বাস ঢুকতে পারছে না। বরিশালগামী যাত্রী ওহিদুজ্জামান জানান, সাকুরা পরিবহনের বাস ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও ১০টা পর্যন্ত ওই গাড়ি গাবতলী আসেনি। সিলেটগামী যাত্রী মোঃ হাবিবুর রহমান জানান, সোহাগ পরিবহনের টিকিট আগে সংগ্রহ করেছেন। সকাল ৭টার গাড়ি ১০টা পর্যন্ত কাউন্টারে আসেনি। কখন গাড়িটি ছেড়ে যাবে তা তিনি জানেন না।
বাস-ট্রাকের ছাদে চড়ে বাড়ি ফেরা : রাজধানী থেকে বিভিন্ন দূরপাল্লার রুটে বাসের ছাদ ও ট্রাকে চড়ে গন্তব্যে গেছেন অনেক যাত্রী। আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে ব্যর্থ হওয়া এবং নিু আয়ের মানুষ মূলত এসব যানবাহনে চড়েছেন। ঢাকা থেকে রাজশাহী, সৈয়দপুর, দিনাজপুর, রংপুর, দাউদকান্দি, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, নরসিংদীসহ বিভিন্ন রুটের বাসের ভেতর দাঁড়িয়ে ও ছাদে চড়ে যেতে দেখা গেছে। গাড়ির নির্ধারিত সিটের বাইরে হাঁটার পথে মোড়া ও ইঞ্জিন কভারের ওপর যাত্রী নেয়া হয়েছে। নিু আয়ের মানুষরা জানান, জীবনের ঝুঁকি জেনেও কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছেন তারা।
এদিকে ঈদে যাত্রীদের চাপ বেড়ে যাওয়ায় বাস মালিকরা ঢাকার ভেতরে চলাচলকারী সিটি সার্ভিস ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চলাচল করে এমন বাস ঢাকা থেকে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী নিয়ে গেছে। এসব বাস পথিমধ্যে নষ্ট হয়ে সড়কে যানজটের সৃষ্টি করে- পুলিশের কাছে এমন তথ্য থাকা সত্ত্বেও চলাচলের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সায়েদাবাদ থেকে কিশোরগঞ্জ, ভৈরব, দাউদকান্দি, মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ, জামালপুর, গাবতলী থেকে পাবনা, রাজশাহীসহ বেশ কিছু রুটে পুরনো ভাঙাচোরা বাস ছেড়ে গেছে।
নৌপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা : বৃষ্টি মৌসুমে নদী উত্তাল, বেড়েছে পানিপ্রবাহ। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়েছে ৪১ রুটের লঞ্চ। প্রতিটি লঞ্চের ছাদে বহন করা হয়েছে। নদীর মাঝপথে নৌকা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় যাত্রী তোলা হয়েছে। রোববার ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া সুন্দরবন, সুরভী, কীর্তনখোলা, দ্বীপরাজ, পারাবতসহ অন্য সবগুলো লঞ্চই ছাদে যাত্রী নিয়ে গেছে। নৌপথে দক্ষিণাঞ্চলগামী যাত্রীদের যাওয়ার অন্যতম স্থান ঢাকা নদীবন্দরে (সদরঘাট) সকাল থেকে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। পন্টুনে আসামাত্রই লঞ্চগুলোতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে যাত্রীদের উঠতে দেখা যায়। অল্পসংখ্যক লোক কেবিন ও সোফার আগাম টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন। এর বাইরে বিশালসংখ্যক যাত্রী লঞ্চের পাটাতনে (ডেকে) আসন পেতে যাওয়ার চেষ্টা করেন। যারা ডেকে জায়গা পাননি তারা লঞ্চের ছাদে চড়েই গন্তব্যে রওনা হন। সদরঘাট ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর থেকেই বেশির ভাগ লঞ্চ যাত্রীতে টইটম্বুর। কোথাও যাত্রীদের বসার জায়গা নেই। এমনকি কেবিনের সামনের রাস্তায় মানুষ বসে আছে। রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে অনেকে। তবুও আরও বেশি যাত্রী নেয়ার আশায় এসব লঞ্চ ছাড়েননি মালিকরা। এ নিয়ে অনেক যাত্রী প্রতিবাদ ও হৈচৈ করলে লঞ্চের কর্মচারী ও ঘাট শ্রমিকরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চুপ থাকতে বাধ্য করছে। এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা ৫-৭টি লঞ্চে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নৌচলাচল সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন বীরবিক্রম বলেন, গার্মেন্টের কিছু উৎচ্ছৃখল শ্রমিক তাড়াতাড়ি লঞ্চ ছাড়তে বাধ্য করার কৌশল হিসেবে হামলা চালিয়েছে।
বিকল্প পথে বাড়ি ফেরা : গণপরিবহনের সঙ্কট থাকায় বিকল্প পথে গন্তব্যে গেছেন অনেকে। মাইক্রোবাস, ট্যাক্সিক্যাব ও লোকাল বাস রিজার্ভ করে গেছেন অনেকেই। আবার কেউ কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে বাড়ি গেছেন।

যুদ্ধবিরতি শেষ না হতেই গাজায় ফের হামলা

২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির সময় শেষ না হতেই আবারও গাজায় ভয়াবহ হামলা শুরু করেছে ইসরাইল। স্থলবাহিনীর ট্যাংকের গোলা নিক্ষেপের পাশাপাশি অব্যাহত আছে বিমান, স্থল ও নৌ হামলা। মানবিক অস্ত্রবিরতি প্রত্যাখ্যান করে হামাস রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে রোববার সকালে এক বিবৃতিতে পুনরায় হামলা শুরু করার ঘোষণা দেয় ইসরাইল। এর আগে শনিবার ১২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর জাতিসংঘের অনুরোধে বিরতি আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল ইসরাইলি মন্ত্রিসভা। তবে রোববার দুপুরে হামাস ঘোষণা করে ঈদ উপলক্ষে তারা ২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের তরফ থেকে এর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে গাজায় লাশের মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২০ দিনে নিহত হয়েছেন ১০৫০ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন প্রায় সাড়ে ছয় হাজার। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, ইতিমধ্যে প্রায় দেড় লাখ গাজাবাসী বাড়িঘর হারিয়েছেন। বিবিসি, আলজাজিরা ও এএফপিসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পাঠানো খবর।

রোবাবর সকালে ইসরাইলি হামলায় তিন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার জরুরি বিভাগের মুখপাত্র আশরাফ আল কুদার বলেন, সেন্ট্রাল গাজার নিকটবর্তী সীমান্তের কাছে ট্যাংকের গোলার আঘাতে দুজন নিহত হন। এছাড়া খান ইউনিস শহরে বোমা হামলায় অন্যজন নিহত হয়েছেন। পরবর্তীকালে আরও বেশ কয়েকটি হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়তে থাকে। শনিবার ১২ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতির পর রোববার রাতে জাতিসংঘের অনুরোধে আরও ১২ ঘণ্টার বিরতিতে সম্মত হয় ইসরাইল। তবে কয়েক ঘণ্টা যেতে না যেতেই ইসরাইলি সেনারা এক বিবৃতিতে জানায়, হামাস যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করে রকেট হামলা অব্যাহত রাখায় তারাও পুনরায় গাজায় হামলা শুরু করতে যাচ্ছে। রোববার সকালে হামাসের ছোড়া কমপক্ষে ৫টি রকেট ইসরাইলের ভূখণ্ডে আঘাত করেছে বলে অভিযোগ করে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। গাজার বাসিন্দারা জানান, ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই গাজা উপত্যকায় আগের মতো গোলাবর্ষণের শব্দ শোনা গেছে। এএফপির খবরে বলা হয়, বর্ধিত ১২ ঘণ্টার মধ্যে ১০ ঘণ্টা যেতেই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল।
অপরদিকে যুদ্ধবিরতির সময়টিকে নতুন হামলা চালানোর প্রস্তুতি হিসেবে ব্যবহার করেছে ইসরাইল- এই অভিযোগ করে ইসরাইলি সেনারা গাজা ছেড়ে না যাওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো যুদ্ধবিরতি মানবে না বলে জানিয়েছে হামাস। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৮ জুলাই থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরাইলের প্রায় একতরফা বর্বর হামলায় এক হাজার ৫০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাড়ে ছয় হাজার। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় দেড় লাখ মানুষ। হতাহতদের বেশির ভাগই বেসামরিক নাগরিক। তাদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে। বাড়ি-ঘর ছেড়েছেন প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ফিলিস্তিনি। অন্যদিকে ইসরাইল দাবি করেছে, হামাসের হামলায় তাদের তিন বেসামরিক নাগরিক ও ৪৩ সেনা নিহত হয়েছেন।
২৪ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হামাস : শনিবার রাতে জাতিসংঘের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সাড়া না দিলেও রোববার বিকালে হামাস মুখপাত্র সামি আবু জুহরি জানান, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে তারা ২৪ ঘণ্টার মানবিক যুদ্ধবিরতিতে রাজি। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রোববার বেলা ২টা থেকে যুদ্ধবিরতিতে তারা সম্মত। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গাজার আলজাজিরার প্রতিবেদক স্টেফানি ডেকার জানিয়েছেন, অস্ত্রবিরতির সময় বাড়ানোর বিষয়ে হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে কোনো চুক্তির খবর পাওয়া যায়নি।
যেভাবে হামলার শুরু : ইসরাইলি তিন কিশোরকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ৮ জুলাই থেকে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। হামাসই ওই ঘটনা ঘটায় বলে দাবি করে ইসরাইল। তবে হামাস তা অস্বীকার করে। পরে ফিলিস্তিনি এক কিশোরকে একইভাবে হত্যা ও অপহরণের পর উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর গাজা থেকে রকেট ছোড়া হচ্ছে এমন দাবি তুলে ‘অপারেশন প্রটেক্টিভ এজ’ নামে এ হামলা শুরু করে ইসরাইল। এর আগে ২০১২ সালের নভেম্বরে গাজায় অভিযান চালায় ইসরাইল। তখন আট দিনের মাথায় মিসরের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ১৯৪৮ সালে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইহুদিদের জন্য ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন রাষ্ট্রের দাবিতে ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামের শুরু। এরপর থেকে নিয়মিত রক্ত ঝরলেও আজও তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

Saturday, July 26, 2014

ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা হলেও বাড়ির পথে নির্বিঘ্ন যাত্রা

বাড়ি যাওয়ার আনন্দ ছিল সবার চোখেমুখে। পথের শঙ্কা হয়তো ছিল মনের ভেতরে, কিন্তু চেহারায় তার ছাপ দেখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত স্বস্তিদায়কই ছিল গতকালের যাত্রা। বাসের যাত্রীদের যানজটে পড়তে হয়নি। বেশির ভাগ ট্রেনই সময়মতো ছেড়েছে। লঞ্চও ছেড়েছে ঠিকঠাক। তবে টিকিটের জন্য হাহাকার ছিল। বাড়তি ভাড়া আর কালোবাজারি কষ্ট ছিল যথারীতি।

>>ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা হলেও হাসিমুখেই তা মেনে নিয়েছেন ট্রেনের বগিতে জায়গা না পাওয়া এই যাত্রীরা। নিষেধ অমান্য করে ছাদে উঠেছেন তাঁরা। দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকলেও নিরাপদেই বাড়ি ফিরবেন—এমন আশা নিয়েই গতকাল রাজধানী ছেড়েছেন তাঁরা। ছবিটি টঙ্গী রেলস্টেশন থেকে তোলা: প্রথম আলো
এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয়ে গেছে গত বৃহস্পতিবারই। সে অর্থে গতকাল ছিল ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিন। তবে জুমাতুল বিদা ও শবে কদরের কারণে গতকাল শুক্রবার অনেক যাত্রী হয়তো যাত্রা করেনি। তাই অস্বাভাবিক জনস্রোত ছিল না। বিপণিবিতানকেন্দ্রিক যান-জটলা বাদ দিলে রাজধানীর রাস্তাঘাট ছিল মোটামুটি ফাঁকা। ভিড় ছিল কেবল গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন এবং সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গে চলা শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের কর্মী নুরুল ইসলাম বলেন, শবে কদরের রাতের পরের দিন ভিড় বেশি থাকে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার কর্মীরাও শনিবার (আজ) থেকে যাত্রা শুরু করবেন। সে হিসেবে শনিবার মানুষের চাপ বেড়ে যাবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, পুলিশ ও পরিবহনের মালিকদের সঙ্গে আলাপ করে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন হওয়ার কয়েকটি কারণের কথা জানা গেছে। এগুলো হচ্ছে: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও পুলিশের বিশেষ দল টার্মিনালগুলোতে সক্রিয় ছিল। তৎপর ছিল হাইওয়ে পুলিশও। আর ছিল ঈদের আগে ও পরে পাঁচ দিন ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রণের প্রভাব। সড়ক-মহাসড়কের খানাখন্দ মেরামতের কাজ গতকালও চলছিল।
গতকাল বেলা ১১টার দিকে কল্যাণপুর থেকে বগুড়া যাওয়ার জন্য এসআর পরিবহনের একটি বাসে ওঠার সময় কথা হয় যাত্রী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পথে টুকটাক যানজট বাদ দিলে নির্বিঘ্নেই বগুড়ায় পৌঁছান সাড়ে চারটার দিকে।
কমলাপুর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেট পথের যেসব ট্রেন ছেড়ে গেছে সেগুলোতে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও তা উপচে পড়া ছিল না। তবে সকালে উত্তরবঙ্গের তিস্তা এক্সপ্রেসে যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। রাতে উত্তরবঙ্গের দ্রুতযান ও লালমনি এক্সপ্রেসেও যাত্রীদের দাঁড়িয়ে যেতে দেখা গেছে। এ দুটি ট্রেনে বিমানবন্দর থেকে অনেক যাত্রী ছাদেও চড়ে বসে।
রেলের মহাপরিচালক তাফাজ্জল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল রাত ১০টা পর্যন্ত কমলাপুর স্টেশন থেকে ৫৪টি ট্রেন ছেড়ে যায়। এর মধ্যে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও নোয়াখালীমুখী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি এক ঘণ্টা ২০ মিনিট করে দেরিতে যায়। বাকি সবগুলোই সময়মতো ছেড়েছে।
রাত-দিন মিলিয়ে কমলাপুর থেকে ৬৬টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা। এসব ট্রেনের আসনসংখ্যা আছে প্রায় ৬০ হাজার। ঈদে দাঁড়িয়েও প্রচুর যাত্রী ভ্রমণ করে।
রেলের মহাপরিচালক বলেন, শুক্রবার যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম ছিল। পোশাক কারখানার শ্রমিকদের চাপ বেড়ে যাবে ঈদের আগের দুই দিন। আজ শনিবার থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ও খুলনাসহ কয়েকটি পথে বিশেষ ট্রেন চলানো হবে বলে জানান তিনি।
টিকিট না কাটার বিড়ম্বনা: ঢাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করেন সেলিম, ওবায়দুল্লাহ, রাকিবসহ একই এলাকার আটজন। যাবেন নওগাঁর সাপাহার। কিন্তু আগে থেকে টিকিট কাটা নেই বলে পড়েন বিড়ম্বনায়।
এই আট রাজমিস্ত্রির সঙ্গে কল্যাণপুরে এই প্রতিবেদকের কথা হয় গতকাল বেলা তিনটার দিকে, হানিফ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে। সবার বয়স ১৮ থেকে ৩০-এর মধ্যে। হাতে ব্যাগ, আছে রাজমিস্ত্রির কাজের কিছু যন্ত্রপাতিও। সেলিম বলেন, পুরো কল্যাণপুর ঘুরে তিন-চারটার বেশি টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সবাই একসঙ্গে যাবেন বলে ঠিক করেছেন।
এরই মধ্যে রাকিব বলে ওঠেন, ‘চল, সবাই কমলাপুর স্টেশনে যাই। ট্রেনে বাড়ি যাব।’ কিন্তু এতে অন্যরা সায় দেননি। কারণ, ট্রেনের টিকিট পাওয়া আরও কঠিন। এর মধ্যে রাকিব প্রস্তাব করেন মহাখালী বাস টার্মিনালে যাবেন। সেখান থেকে একটা ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
এই প্রতিবেদক বিকেল পাঁচটার দিকে মহাখালী টার্মিনালে গেলে সেখানেও এই আট যুবকের সঙ্গে দেখা হয়। টিকিট জোগাড় হয়েছে কি না, জানতে চাইলে শুকনো মুখে সেলিম বলেন, ‘না, তবে রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করব।’
কিছুক্ষণ আলাপ করার পর সেলিম জানান, রাজমিস্ত্রির কাজ করলেও তাঁদের আটজনই কিছুটা পড়ালেখা জানা। পরিবারও একেবারে অসচ্ছল নয়। তাই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো মানসিকতা নেই। অপেক্ষা করে হলেও একটু ভালো আসন নিয়ে যেতে চান। কাজের চাপের কারণে আগে এসে টিকিট কাটতে পারেননি।
আগে থেকে টিকিট না কাটা এমন অনেককেই গাবতলী, কল্যাণপুর ও মহাখালীর বিভিন্ন বাস কোম্পানির কাউন্টারে ছোটাছুটি করতে দেখা গেছে। আবার যানজটের আশঙ্কা নিয়ে অনেকে আগেভাগে বাসা থেকে বের হয়ে স্টেশনে এসে বিড়ম্বনায় পড়েন, বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
বিকেল চারটার দিকে গাবতলী টার্মিনালের উল্টো দিকে হানিফ পরিবহনের নিজস্ব টার্মিনালে বসে পত্রিকা পড়ছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মাহিদুল ইসলাম। যাবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। তিনি জানান, নারায়ণগঞ্জ থেকে বেলা একটায় রওনা দিয়ে গাবতলী পৌঁছে যান সাড়ে তিনটায়। কিন্তু তাঁর বাস ছাড়ার কথা সন্ধ্যা সাতটায়। তাই পত্রিকা পড়ে সময় কাটাচ্ছেন। মুহিত বলেন, অন্যবার যানজটের কারণে সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারেননি। এ জন্যই আগেভাগে রওনা দিয়েছিলেন। মাহিদুল অভিযোগ করেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে যাওয়ার জন্য তাঁকে ৮৫০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে এই পথে ভাড়া ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা।
মাছ ব্যবসায়ী ইয়াকুব আলী আকন্দ ও পোশাক কারখানার কর্মী রাজিয়া বেগম গাবতলী টার্মিনালে বসা দুপুর থেকে। তাঁরা জানান, দুই ছেলেকে বরগুনার বাসে তুলে দিতে এসেছেন। অগ্রিম টিকিট ছিল না। টার্মিনালে এসে সোনার তরী পরিবহনের রাত সাড়ে আটটার বাসে টিকিট পেয়েছেন। প্রতিটির দাম ৬০০ টাকা। অন্য সময় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায় যাওয়া যেত। ইয়াকুব আলী ও রাজিয়া বলেন, তাঁরা সাভারের ফুলবাড়িয়ায় থাকেন। ছেলেদের বাসে তুলে দিয়েই বাসায় ফিরবেন।
কল্যাণপুরের শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার থেকে বিকেল সোয়া তিনটায় দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে বাসে রংপুরের গাড়িতে চড়েন ফরিদুল হক। তিনি বলেন, অনেক শঙ্কা ছিল যানজটের। কিন্তু কাউন্টারে এসে জানতে পারেন সময়মতোই বাস ছেড়ে যাবে। রাত ১০টার দিকে মুঠোফোনে ফরিদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, ততক্ষণে বাড়িতে পৌঁছে গেছেন। যাত্রাটি আনন্দেরই ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফেরিতে জট: প্রথম আলোর মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ও ভোরে ছেড়ে যাওয়া দক্ষিণবঙ্গের বাসের অনেকগুলোই মাওয়া ফেরিঘাটে আটকা পড়ে।

>>প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপন করতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। গতকাল সকাল থেকে ঘরমুখী মানুষের স্রোত দেখা গেছে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালে। লঞ্চে করে মানুষের রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার এই দৃশ্য পোস্তগোলা ব্রিজের ওপর থেকে তোলা l ছবি: সাজিদ হোসেন
মাওয়া ঘাট সূত্রে জানা যায়, মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে উজানের তীব্র স্রোত ও ঘাট এলাকার উল্টো পানির স্রোতের কারণে কয়েক দিন ধরেই ফেরি চলাচল কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে শুক্রবার সকালে ব্যক্তিগত গাড়িসহ যাত্রীবাহী বাসের চাপ বেড়ে গেলে জট লেগে যায় ঘাটে। অবশ্য বেলা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জট কমতে থাকে। সন্ধ্যার দিকে আবারও যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়।
মাওয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে লঞ্চেও যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেক লঞ্চে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিতে দেখা যায়। এ পথের লঞ্চগুলোর ধারণক্ষমতা ৮৫ থেকে সর্বোচ্চ ১৯৮ হলেও ২০০-৩০০ পর্যন্ত যাত্রী বহন করে। সিবোটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘাটে পিরোজপুরের সোলেমান দেওয়ান বলেন, সরাসরি যাওয়ার বাসের টিকিট না পেয়ে ভেঙে ভেঙে মাওয়ায় এসেছেন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল কর্তৃপক্ষের মাওয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক সিরাজুল হক বলেন, সোমবার আরও ভিড় বাড়তে পারে। এটা সামাল দেওয়ার জন্য তাঁদের প্রস্তুতি আছে।
লঞ্চযাত্রীদের ভিড়: দক্ষিণের জেলাগুলোর মানুষ রাতের লঞ্চে ওঠার জন্য গতকাল সকাল থেকেই সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে জড়ো হতে শুরু করে। সেখানে পটুয়াখালীর আমিন হোসেন বলেন, সকাল ১০টায় এসে ডেকের টিকিট পেয়েছেন। তবে বসার ভালো জায়গা হয়নি। ব্যাংক কর্মকর্তা জালাল মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করেন টার্মিনাল এলাকায় হকারদের উৎপাতের বিষয়ে। তিনি বলেন, অন্তত ঈদ মৌসুমে টার্মিনাল থেকে হকার উচ্ছেদ করার দরকার ছিল। নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক বিভাগের যুগ্ম পরিচালক সাইফুল হক খান বলেন, যাত্রীদের হয়রানি ও লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী এবং মালামাল বহন রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত সদরঘাট টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালাচ্ছেন।